প্রচ্ছদ » বিনোদন » রবীন্দ্রনাথ কে মনে রাখেনি বাংলা চলচ্চিত্র

রবীন্দ্রনাথ কে মনে রাখেনি বাংলা চলচ্চিত্র

আবু হাসান নাহিয়ান | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ  ২২ শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন, ‘আজ থেকে শতবর্ষ পরেও যদি রবীন্দ্রনাথকে খুঁজতে হয় তাহলে এই বাংলায় আসতে হবে।সাহিত্যজগতে রবীন্দ্রনাথের অপরিসীম অবদানকে স্মরণ করেই সত্যজিতের এই উপলব্ধি। বিশ্বকবির রচনা একদিকে যেমন পূর্ণতা দিয়েছে বাঙালির সাহিত্য ভাণ্ডারকে, তেমনি চলচ্চিত্র আর নাটকের উপাদান তৈরি করে দিয়েছে তার অনবদ্য লেখনী। উপমহাদেশের সাহিত্যজগতে প্রথম নোবেলপ্রাপ্তি ঘটে তারই হাত ধরে।

দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রায় অনুপস্থিত। পশ্চিমবঙ্গে কিংবা বলিউডে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যতটুকু কাজ হয়েছে সেই অনুপাতে বাংলাদেশে তিনি রয়ে গেছেন অনেকটাই উপেক্ষিত। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি ছবি নির্মাণ হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—‘শাস্তি’ (২০০৪), ‘সুভা’ (২০০৬), ‘কাবুলীওয়ালা’ (২০০৬) এবং ‘অবুঝ বউ’ (২০১০)।সর্বপ্রথম রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে কাজ করতে এগিয়ে আসেন চাষী নজরুল ইসলাম। ২০০৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘শাস্তি’ গল্প অবলম্বনে তিনি নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘শাস্তি’। এর গুরুত্বপূর্ণ চার চরিত্রে অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন, চম্পা, রিয়াজ ও পূর্ণিমা। এ ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কারও জিতে নেন চম্পা ও ইলিয়াস কাঞ্চন।

রবীন্দ্র সাহিত্যনির্ভর ছবির মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায় চাষী নজরুল ইসলামের ‘সুভা’ চলচ্চিত্রটি। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প ‘সুভাষিণী’ অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেন শাকিব খান ও পূর্ণিমা। রবীন্দ্রসাহিত্যের আরেক জনপ্রিয় ছবি হলো কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘কাবুলীওয়ালা’। এতে কাবুলীওয়ালা চরিত্রে প্রয়াত নায়ক মান্নার অভিনয় নজর কেড়েছিল সবার। মিনি চরিত্রে শিশুশিল্পী দীঘির অভিনয়ও প্রশংসিত হয়েছিল সর্বমহলে। এ ছবির জন্য সেরা শিশুশিল্পী চরিত্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় দীঘি।

পরবর্তীতে সাইফুল ইসলাম মান্নু পরিচালিত ‘চারুলতা’ ছবিতে অভিনয় করেন ইলিয়াস কাঞ্চন, কুমকুম হাসান, সজল নূর প্রমুখ। এরপর নারগিস আখতার নির্মাণ করেন ‘অবুঝ বউ’। রবীন্দ্রনাথের ‘সমাপ্তি’ ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেন ববিতা, ফেরদৌস, শাকিল খান ও নিপুণ। এ ছবির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জিতেন নারগিস আখতার। এ ছাড়া সংগীতায়োজক হিসেবে পুরস্কৃত হন সুজেয় শ্যাম। সেরা সম্পাদনা বিভাগেও পুরস্কৃত হয় ছবিটি। সর্বশেষে চলতি বছর রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয় ছবি ‘তুমি রবে নীরবে’। রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মুক্তি পায় ছবিটি। এটি পরিচালনা করেন মাহবুবা ইসলাম সুমী।

সব মিলিয়ে স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বাংলাদেশে রবীন্দ্র সাহিত্যনির্ভর ছবির অভাব চলচ্চিত্র নির্মাণে আমাদের অপরিপক্বতারই পরিচয় বহন করে।

কাব্য কিংবা কথাসাহিত্যে যতটা প্রাধান্য পেয়ে থাকেন রবীন্দ্রনাথ, চলচ্চিত্রে ঠিক সেভাবে উপস্থাপিত নন তিনি। ওপার বাংলার ‘চোখের বালি’, ‘নৌকাডুবি’ কিংবা ‘চার অধ্যায়’-এর বিপরীতে বাংলাদেশের ছবিগুলোকে বিচার করা হলে এ অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রসাহিত্যের উপস্থাপনায় নির্মাণ কৌশল ও সৃজনশীলতা দুদিক থেকেই পিছিয়ে বাংলাদেশি নির্মাতারা।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন
>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।