প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস

আজ বিশ্ব বন্ধু দিবস

প্রকাশ : ৬ আগস্ট ২০১৭১২:৩৪:৫২ পূর্বাহ্ন

ইনিশিয়েটর ডেস্ক

বন্ধুত্ব হচ্ছে এমন এক সম্পর্ক, যার কোন স্বার্থ নেই। বন্ধু দিবস পালনের মূল শক্তিই হচ্ছে বন্ধুর প্রতি নিঃশর্তভাবে ভালোবাসা, বন্ধুর পাশে থাকা। আজ রোববার বিশ্ব বন্ধু দিবস। সবাইকে বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা। আগস্ট মাসের প্রথম রোববার দুনিয়াজুড়ে পালিত হয় দিবসটি। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ বাংলাদেশেও পালিত হবে বিশ্ব বন্ধু দিবস।

শব্দের মাঝে মিশে আছে যেন নির্ভরতা আর বিশ্বাস। বন্ধুত্ব আর বন্ধন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। পাকাপোক্ত বন্ধনের ভিত্তিই বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব মানেই যেন হৃদয়ের সবটুকু আবেগ নিংড়ে, ভালোবাসা দিয়ে মন খুলে জমানো কথা বলা।

পশ্চিমা সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত হলেও বন্ধুত্ব সর্বজনীন বিষয়। তাই এই দিবস পালনে কারোর কোনো আপত্তি থাকবার কথা নয়। আজকের এই দিনে প্রাণের বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানাতে নিশ্চয়ই সবাই বিশেষ আয়োজন করবেন কিংবা আয়োজনে ঘনঘটা না থাকলেও প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে নিশ্চয়ই মিলবেন। জানতে চাইবেন বন্ধু কী খবর বল? কতদিন দেখা হয়নি…। সামাজিক ওয়েবসাইট ফেসবুক, টুইটার, মোবাইল ফোনে চলবে এসএমএস আদান-প্রদান।

শুভেচ্ছা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে নিত্যনতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হওয়ায় কার্ডের প্রচলন হারিয়ে যেতে বসেছে। তারপরেও বন্ধু দিবসের কার্ড তুলে দেবেন বন্ধুর হাতে বন্ধু। পাশাপাশি ফুল, চকলেট, অন্যান্য উপহার সামগ্রী দেবেন কেউ কেউ।

কী করে এলো বন্ধু দিবস : পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশেই শুধু নয়, বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশেই প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার উদযাপন করা হয় বন্ধু দিবস হিসেবে। বন্ধু কিংবা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের সঙ্গে মানুষের পরিচয় যুগ-যুগান্তরের হলেও বন্ধুত্ব দিবসের মতো কেতাবি উদযাপন কিন্তু খুব বেশি দিনের নয়। কাগজে-কলমে প্রায় ৮০ বছর আর আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকে মাত্র দুই আড়াই দশক হলো বন্ধু দিবস উদযাপন শুরু হয়েছে। বন্ধুত্ব দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে অধিকাংশ মানুষই যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেন সেটি হলো- ১৯৩৫ সালে আমেরিকান সরকার এক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ালে পরদিন সেই ঘটনার প্রতিবাদে তার বন্ধু আত্মহত্যা করেন। দিনটি ছিল আগস্ট মাসের প্রথম রোববার। আর সেই থেকেই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বেশকিছু দেশ বন্ধুত্ব দিবসের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে নেয়। এভাবেই বন্ধুত্ব দিবস পালনের পরিসর বাড়তে থাকে। বর্তমানে সারা বিশ্বেই আগ্রহ নিয়ে বন্ধুত্ব দিবস পালিত হচ্ছে।১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিশ্বময় বন্ধুত্বের আলাদা অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যায়। সে বছরটিতে জাতিসংঘ বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র উইনি দ্য পুহকে বন্ধুত্বের বিশ্বদূত হিসেবে নির্বাচিত করে।

বন্ধু দিবসের এই বিশ্বদূত ছাড়াও বন্ধুত্ব দিবসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে হলুদ গোলাপ আর ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের মতো বিষয়গুলোও। মজার বিষয় হলো- এই ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের ধারণাটিও এসেছে আমেরিকা থেকেই। আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যান্ড দেয়ার এই রীতি চালু আছে। তারা তাদের বন্ধুদের জন্য ব্যান্ড তৈরি করে। আর যাকে ব্যান্ড দেয়া হয়, সেও কখনোই ব্যান্ডটি খোলে না। আবার বন্ধুত্বের প্রতীক যে হলুদ গোলাপ সেই হলুদ রং হলো আনন্দের প্রতীক। আর হলুদ গোলাপ মানে শুধু আনন্দই নয়, প্রতিশ্রুতিও। কাজেই বন্ধুত্বের মাঝে যেন আনন্দের পাশাপাশি থাকে প্রতিশ্রুতিও সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই বন্ধু দিবস।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।