প্রচ্ছদ » বিনোদন » তারকাদের বন্ধুত্ব (১ম পর্ব)

তারকাদের বন্ধুত্ব (১ম পর্ব)

কথায় আছে,’পানি আর তেল একসাথে মিশ খায় না।‘ কথাটা তারকাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বটে! একই অঙ্গনে কাজ করার ফলে গড়ে ওঠে প্রতিযোগীতা পুর্ণ মনোভাব। কিন্তু ব্যতিক্রমও আছে বটে! তারা প্রতিযোগীতাকে দূরে ঠেলে বন্ধুত্বর হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেরকমই কয়েকজন তারকাদেরকে নিয়ে শুরু হলো আমাদের এই ধারাবাহিক আয়োজন। বিখ্যাত তারকাদের বন্ধুত্ব নিয়ে লিখেছেন, মুসাররাত আবির জাহিন 

শাহরুখ খান-জুহি চাওলা:
ইন্ডাস্ট্রিতে যখন কোনো জুটি একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে যাবে, তখন তাদের পর্দার সেই রসায়নটা নিয়ে তো বাইরেও কথা উঠবে! তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো শাহরুখ-জুহির জুটি। ‘রাজু বান গ্যায়া জেন্টলম্যান ‘,’বস’,’ডুপ্লিকেট’,’ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ র মতন একের পর এক হিট ছবি উপহার দেওয়ার পরেও তাদের বন্ধুত্ব নিয়ে কখনোই কোনো বাজে গুজব ছড়েনি। যার ফলে আজও তাদের বন্ধুত্ব রয়েছে অটুট। ১৯৯৮ সালে ‘ডুপ্লিকেট ‘ সিনেমার শুটিং চলাকালীন সময়ে জুহির মা মারা যান। সেই সময় শাহরুখঈ তার পাশে ছিলেন।তাকে সামনে আগানোর সাহস তিনিই যুগিয়েছিলেন। যার ফলে তাদের বন্ধুত্ব গড়িয়েছে ব্যবসাক্ষেত্রেও! দুজনই যে আইপিএল টিম ‘কোলকাতা নাইট রাইডার্স’ এর অংশীদার!

কারিনা কাপুর খান – অমৃতা আরোরা :
দুইজনই ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একে অপরের ভালো বন্ধু। যার ফলে অমৃতার বিয়েতে কারিনাকে কনের সহচরী হিসেবে দেখা গিয়েছিল। প্রত্যেক সপ্তাহে একসাথে হ্যাং আউট করা তো দুইজনের বাধ্যতামূলক কাজ! তাদের সাথে আরো যুক্ত হন কারিশমা কাপুর ও মালাইকা আরোরা! তাদের এই বন্ধুত্ব নিয়ে অমৃতা বলেন,”আমরা দুজনে একসাথে থাকলে বোঝাই যায় না যে সময় কোন দিক দিয়ে চলে গেলো! আমরা গল্প করতে আর একসাথে শপিং য়ে যেতে খুবই ভালোবাসি।“ কারিনার এমন কোনো কথা নেই যা তিনি জানেন না। তাদের বন্ধুত্ব শুধু শপিং মলেই নয়,জিমেও দেখা যায়। মা হওয়ার পর কারিনার মেদ ঝড়ানোর জন্য অমৃতাই তাকে সাহায্য করেন। অমৃতার ইন্সটাগ্রাম আইডি ঘাটলেই দেখা যাবে কারিনার সাথে তার ব্যায়ামের ভিডিও। এই জুটিকে       সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা যায় ‘সত্যাগ্রহ’ সিনেমায়।

সালমান খান – সঞ্জয় দত্ত:
ইন্ডাস্ট্রি তে সালমানের বন্ধুর সংখ্যা খুব বেশি নয়।কিন্তু সালমান একবার যাদের কে বন্ধু ভেবে হাত টা বাড়িয়ে দেন,এরপর সেই হাত আর কখনোই সরান না।সঞ্জয় সালমানকে চেনেন সেই ছোট্টটি থেকে। যার ফলে তারা একিসাথে বন্ধু এবং ভাইও বটে। সঞ্জয় সালমানের সকল প্রকার বিপদ-আপদের সময় পাশে থেকে সাহায্য করেন। তাদের বন্ধুত্ব লোহা থেকেও শক্ত। ‘চাল মেরে ভাই’ সিনেমার আগে থেকেই সালমানকে নিজের ছোট ভাইয়ের মতন দেখেন তিনি। কিন্তু তারা কখনো তাদের এই সম্পর্ক নিয়ে মিডিয়ার কাছে সেই ভাবে কথা বলেন নি। সঞ্জয় যখন জেলে ছিলেন,তখন সালমান খানই তার পরিবারকে দেখে রেখেছিলেন। তারা একসাথে ‘বিগ বস ৫’ এরও কয়েকটি এপিসোড সঞ্চালনা করেছিলেন।

সোনাম কাপুর- জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ:
যেখানে বলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যে হরহামেশাই ‘ক্যাট ফাইট’ লেগে থাকে,সেখানে সোনাম আর জ্যাকুলিনের বন্ধুত্ব যেন অষ্টমাশ্চর্য! বলিউডের দুই লিডিং ফ্যাশনিস্তার বন্ধুত্ব সোনামের ‘মওসাম’ সিনেমার প্রিমিয়ার শো থেকে। এরপর থেকেই তারা একে অপরের ভাল বন্ধু হয়ে যান।একসাথে ঘুরতে যাওয়া,খেতে যাওয়া তাদের পছন্দনীয় কাজ।এছাড়াও সোনাম প্রায়ই জ্যাকুলিনের জন্য তার প্রিয় খাবার বানিয়ে নিয়ে যান।

রণবীর সিং-অর্জুন কাপুর:
বলিউডের এই দুই ‘হটেস্ট ব্যাচেলর ‘ এর বন্ধুত্ব শুরু হয় ‘গুন্ডে’ ছবির স্ক্রিনটেস্ট থেকে। এরপরে যখন দেখা যায় তাদের হবি,খেলা,খাবার থেকে শুরু করে চিন্তাধারাও একই,তখন তাদের বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হয়,যেখানে তাদের সিনিয়র ও সমসাময়িক তারকাদের মধ্যে ঝামেলা চলছে। এই দুইজনকে সব অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসাথে দেখা যায় মজা করতে। ‘কফি উইথ করণ’ এও তাদেরকে একসাথে দেখা যায়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।