প্রচ্ছদ » বিনোদন » তারকাদের বন্ধুত্ব (২য় পর্ব)

তারকাদের বন্ধুত্ব (২য় পর্ব)

সময় বদলায়,বদলে যায় বন্ধুত্ব। আবার তারকাদের বন্ধুত্ব তো ভাঙ্গা-গড়ার খেলা। কিন্তু অনেক সময়ই এরকম হয় না। কিছু কিছু তারকারা আছেন যারা বন্ধু না ফেরার দেশে চলে গেলেও আঁকড়ে রাখেন তাদের স্মৃতি।আবার অনেকে তারুণ্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আজীবন কাঁধে কাঁধ রেখে চলেন। এমনই কয়েকজন বাংলাদেশের তারকা বন্ধু জুটি নিয়ে ‘তারকাদের বন্ধুত্ব’র ২য় দফায় কথা বলছেন মুসাররাত আবির জাহিন

সালমান শাহ ও মৌসুমী 

বাংলার সেরা রোমান্টিক হিরো সালমান শাহ শুরুতেই নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন তখনকার হার্টথ্রব নায়িকা মৌসুমীকে। আর শুরুতে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত ‘ ছবি করে দুইজনে বাজিমাত করে দিয়েছিলেন।হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা জুটি। কিন্তু সালমান শাহ তার চার বছরের ছোট্ট চলচ্চিত্র জীবনে মাত্র ৪টি ছবিতে মৌসুমীর সাথে জুটিবদ্ধ হয়েছিলেন। সেই প্রথম চলচ্চিত্রের সময় গড়ে ওঠা বন্ধুত্বকে বন্ধু চলে যাবার পরেও আজও সযত্নে আগলে রেখেছেন তিনি। এখনো সালমানের কথা বলতে গেলে চোখ ছলছল হয়ে ওঠে তার। তিনি বলেন যে আগে সালমান যখন আউটডোরে যেতেন তখন সেখানকার যেকোনো বিখ্যাত জিনিস তার জন্য নিয়ে আসতেন। সালমানই চলচ্চিত্র জগতে তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আজও মৌসুমী বলেন যে সালমান যদি তার কষ্ট গুলো তার সাথে ভাগাভাগি করতো,তাহলে হয়তো এই উজ্জ্বল নক্ষত্র টাকে হারাতে হতো না।

তামিম মৃধা ও সৌভিক আহমেদ

দুইজনের বন্ধুত্বটা স্কুল থেকে।দুইজনেই পড়তেন ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে। গান ভালো লাগতো দুইজনেরই। সেই গান গাইতে গাইতেই পরিচয়। সেই ছোট্ট বেলার বন্ধুদের গড়া দল বড় হয়ে গড়ে তুলেছিল ‘দি ব্রাউনফিশ গ্রুপ’। জনপ্রিয় ইউটিবার সালমান মুক্তাদিরের সাথে কাজ করতেন তারা। কিন্তু একদিন তাদের মাথায় হঠাৎ করে আসে যে গানই যেহেতু আমাদের ভালোবাসা,তাহলে আমরা গান নিয়েই একটা ইউটিউব চ্যানেল খুলে ফেলি না কেনো! সেই প্রায় ২ বছর আগের সৌভিকের এই আইডিয়াটাই আজকের ৩লাখ সাবস্ক্রাবারের ‘গান ফ্রেন্ডজ’। তারা একসাথে শুধু ইউটিউব চ্যানেলই না, বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ, বিজ্ঞাপন, রেডিও শো এবং নাটকেও কাজ করছেন।

তৌসিফ মাহবুব ও অ্যালেন শুভ্র

‘অলটাইম দৌড়ের উপর’ নাটক থেকে পরিচয়, তারপর সেই বন্ধুত্ব আজো টিকে আছে। অন্যান্য সব বন্ধুদের মতন, দুইজনই একে অন্যকে পচিয়ে মজা পান! তৌসিফ শুভ্রকে তার উচ্চতার জন্য খেপান। আর শুভ্র তাকে তার তোতলামির জন্য! দুইজনই একটু চুপচাপ স্বভাবের দেখে তাদের বন্ধুত্বও হয়ে যায় খুব দ্রুত। আর দুইজনের মধ্যে অন্যতম মিল হচ্ছে, দুই জনের ইমেজই একই; একদম পাশের বাড়ির ছেলে’র মতন। অতঃপর আমরা, হামতাম কোচিং সেন্টার, টমেটো কেচাপ এর মতন অনেক নাটকে একসাথে অভিনয় করেছেন তারা।

নিরব-নিলয়:

দুইজন একসাথে খুব কম জায়গায় কাজ করেছেন।কিন্তু ‘বাংলালিংক’ এ কাজ করার সুবাদেই তারা ভাল বন্ধু হয়ে উঠেছেন।তারা যখন বিজ্ঞাপনে কাজ করার জন্য অডিশন দেন,তখন তারা দুইজনই কাজের জন্য নানান জায়গায় স্ক্রিনটেস্ট দিচ্ছিলেন। কিন্তু কোথাও হচ্ছিলো না।এখানে কাজ পাওয়ার সুবাদে তাদেরকে একসাথে ১৫ দিন থাকতে হয়, যারফলে তারা অনেক ভাল বন্ধু হয়ে যায়। সেই বন্ধু অটুট রয়েছে আজও। বন্ধুর সবচেয়ে কষ্টের সময়েও কাছে পাওয়া যায় নিরবকে। এই না হলো সত্যিকারের বন্ধু!

সাবিলা নূর ও সালমান মুক্তাদির

মাস্তি আনলিমিটেড, যা কিছু ঘটে, দুলাভাই, ওরা তিনজন এর মতন নাটকে জুটিবদ্ধ হয়েছেন সাবিলা ও সালমান। ভার্সিটি তে পড়ার আগেই তারা অনেক ভাল বন্ধু। দুই জনের কাজের ক্ষেত্রও যে এক! তবে নাটকের চেয়ে তারা দুইজন জনপ্রিয় সালমানের মায়ের সাথের প্র‍্যাংক আর লাইভ ভিডিও দিয়ে।দুইজনের এই দুষ্ট-মিষ্ট সম্পর্কে সবাই ভালবাসেন।

 

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।