প্রচ্ছদ » ছবিওয়ালা » আফ্রিকার অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক বিস্ময় দেখলে অবাক হবেন

আফ্রিকার অবিশ্বাস্য প্রাকৃতিক বিস্ময় দেখলে অবাক হবেন

 ইনিশিয়েটর ডেস্ক | বাংলা ইনিশিয়েটর

আফ্রিকার এই অবশ্বাস্য দৃশ্যগুলো দেখুনঃ

নামাভাল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা:

বৃষ্টিপাতের পর, প্রতি বছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি, দক্ষিণ আফ্রিকার শুষ্ক নামাকাল্যান্ড এলাকা হাজার হাজার উজ্জ্বল ফুল দিয়ে ঢেকে যায়। ফুল প্রেমীরা মাইলের পর মাইল ভ্রমণ করে শুধুমাত্র শুকনো মরুভূমি থেকে উজ্জ্বল ফুলের সমভূমিতে পরিণত হওয়ার এই ব্যতিক্রমী পরিবর্তন দেখতে। সব থেকে সুন্দর জায়গা গুলোর মধ্যে রিচার্ডভেল্ড ন্যাশনাল পার্ক, জিওগাপ ন্যাচারাল রিজার্ভ, স্কিলপ্যাড ওয়াইল্ড ফ্লাওয়ার রিজার্ভ অন্যতম। যারা হাইকিং এ আগ্রহী তারা পায়ে হেটেই ঘুরতে পছন্দ করেন।

ফাতিহা অরমিন নাসির  | ছবিঃ SHANNON BENSON, VW PICS/UIG VIA GETTY IMAGES

তাঘাঝাউত, মরক্কো:

ধারণভাবে মরক্কোর সংস্কৃতির সাথে সার্ফিংকে কল্পনা করাটা অসম্ভব মনে হলেও জেলেদের এক ছোট্ট গ্রাম, তাঘাজাটকে আফ্রিকায় সার্ফিং এর স্বর্গরাজ্য বলা যেতেই পারে। দক্ষ কিংবা শখের সার্ফার, দুই দলেরই এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটে এই তাঘাজাটে, উদ্দেশ্য একটাই- পর্যটকদের আনাগোণার বাইরে নির্জনে নৈসর্গিক ঢেউ আর ছোট্ট সার্ফার সমাজের সাথে মিশে গিয়ে সার্ফিংকে আরো একধাপ গভীর থেকে উপভোগ করা। যদি আপনি সার্ফার না হয়ে থাকেন, তবে নিজেকে বন্চিত ভাবার কোন কারনই নেই। কেননা, তীরে বসে সমুদ্রের রূপে নিজেকে হারিয়ে ফেলার জন্য এই গ্রামের জুড়ি মেলা ভার। রসনাকে পরিতৃপ্ত করতে চাইলে রয়েছে ক্যাফে আর সীফুডের দোকান। বাড়তি একটুকরো বিনোদনের জন্য পাশেই অ্যাটলাস পর্বতের কোলে পাথর আর জলের মিশেলে গড়ে ওঠা প্যারাডাইজ ভ্যালি য়ো রয়েছেই !

ফাতিহা অরমিন নাসির | ছবিঃCULTURA RM EXCLUSIVE/TIM E WHITE, GETTY IMAGES

ড্যানিয়েল ডিপ্রেসন, ইথিয়োপিয়া:

পৃথিবীর উষ্ণতম আর অনাতিথেয়তায় পূর্ণ কোন এক যায়গায় ঘুরতে যাবার প্রস্তাবটা প্রথমবারেই বাতিল করে দেবার মত শোনালেও, যায়গাটা যদি হয় ইথিওপিয়ার ডানাকিল ডিপ্রেশন, তবে শুষ্কতা আর ফুটতে থাকা গরম লাভার হলকা সামনে থেকে অনুভব করার সুযোগ হাতছাড়া করার আগে দ্বিতীয়বার আপনি ভাবতেই পারেন। তিন তিনটি টেকটোনিক প্লেটের এ সঙ্গমস্থলে প্রকৃতি তার হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় সালফারের টিলার ওপর গরম লাভার কান্নার মাধ্যমে। যত দূর চোখ যায়, হাসিখুশি সবুজ নয় বরং দেখতে পাবেন প্রকৃতির দুঃখ আর হতাশার ছোঁয়া- দিগন্তবিস্তৃত ধূসর রঙের খেলা। যদি অংশ হতে চান প্রকৃতির হতাশার, তবে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সির সাথে দুয়ে দুয়ে চার মিলিয়ে নিয়ে চড়ে বসতে পারেন মরুর জাহাজ ঊট কিংবা হাল আমলের গাড়িতেই।

ফাতিহা অরমিন নাসির | ছবিঃ ANTHONY ASAEL/ART IN ALL OF US, GETTY IMAGES

টেসি রুজ, মাদাগাস্কার:

Tsingy রগ একটি সূচালো/ ধারালো লাল চুম্বক পাথর সংকলন যেটি ম্যাডাগাস্কারের ডিয়েগো সুয়ারেজের বহির্বিভাগে অবস্থিত। ইরোডা নদীর ভাঙনের ফলাফল অনুযায়ী পাথরটি ২০শতকের মাঝামাঝি দিকে আবিষ্কৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হয় এবং এটিকে প্রকৃতি মায়ের চুম্বক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ম্যাডাগাস্কারের অন্যান্য Tsingy -র থেকে এই Tsingy রগের কাঠামো ভিন্ন উপাদানের মাটি যেটি একটি স্বতন্ত্র লাল পাথরের শৃঙ্গ। ভ্রমণকারীদের অনুসন্ধানের তথ্যানুযায়ী এটি একটি হাটার পথ কিন্তু এটার দর্শনের জন্য ভূমি থেকে অনেক ওপরের কোন পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করতে হয়।

সাবা সিদ্দিকা সুপ্ত | ছবিঃ ANTHONY ASAEL/ART IN ALL OF US, GETTY IMAGES

কুইন এলিজাবেথ ন্যাশনাল পার্ক, উগান্ড:

একমাত্র বন্য বিড়াল যা আফ্রিকার অধিকাংশ সাফারি পার্ক গুলোতে দেখা যায় তা হচ্ছে লে-পার্ড। শুধুমাত্র ইখাসায় অবস্থিত কুইন এলিজাবেথ জাতীয় পার্কেই পর্যটকরা বড় বড় গাছের ডাল হতে সিংহ ঝুলতে দেখার আশা করেন। যখন দিনের বেলা উত্তাপ বাড়তে থাকে তখন অধিকাংশ সিংহরাই বড় কোন গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু ইখাসার সিংহগুলো গাছে চড়তেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। সকলেই মনে করে তারা এটা করে পোকামাকড় এর হাত থেকে রেহাই পেত, যদি গরমকালে এই পার্কটি পরিদর্শন করা হয় তবে এটি গাছের ডালে পাঁচটি সিংহের ও দেখা মিলতে পারে।

জাওয়াদ বিন সাঈদ/আসিব রানা | ছবিঃ BEN MCRAE, ALAMY STOCK PHOTO


মকদ্দীগাদি সাল্ট প্যান, বোতসওয়ানা:

বতসোয়ানার ম্যাকগাডিকগাডি নামক একটি সুপ্রাচীন লেক এখন বিশাল নিরশ লবণ চাটুতে পরিণত হয়েছে যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ লবণ চাটু। এটি বতসোয়ানার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত এবং এরকম লবণ চাটুর অবস্থাণ আশ্চর্যভাবে বতসোয়ানার মতো বন্য জায়গায় কল্পনা করা যায় না। এমন কঠিন এবং মসৃণ স্থানের আয়তন ৬২০০ বর্গ মাইল এবং এই অসীম অপূর্ব স্থান অতিরিক্ত শুষ্ক হওয়ায় তা আকাশের উজ্জ্বল নীল আলোকে প্রতিফলিত করে। এই বন্যজীব পরিবেশে প্রতিবছর বৃষ্টি বিভিন্ন প্রজাতির জেবরা, ফ্লেমিং এবং অন্যান্য বন্য জন্তুর মাঝে বয়ে আনে দারুণ প্রশান্তি। ‘জ্যাক ক্যাম্প’, ‘স্যান ক্যাম্প’- র ম্পতো কিছু ক্ষুদ্র গৃহ স্থানটিকে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আরো রোমাঞ্চকর এবং অপূর্ব করে তোলে।

সাবা সিদ্দিকা সুপ্ত | ছবিঃBEN MCRAE, ALAMY STOCK PHOTO

লিউয়া প্ল্যান ন্যাশনাল পার্ক, জাম্বিয়া:

পশ্চিম জাম্বিয়ার লিউয়া প্লেইন ন্যাশনাল পার্ক ; অনাবিল সবুজ প্রকৃতির এ‌ যেন এক নৈসর্গিক পসরা। একে সেরেনগেটির সাথে তুলনা করা যায় স্বচ্ছন্দেই, সেরেনগেটির পর এটিই বুনো হরিনের দীর্ঘতম অভিবাসনস্থল। প্রকৃতি তার এ বুনো সন্তানদের জনবসতির থাবা থেকে এতটাই আড়াল করে রেখেঙে যে, রাজা লেওয়ানিক লজের অভিষেকের আগে পর্যন্ত এতে ছিলনা কোন আবাসিক ক্যাম্পের চিন্হটুকুও। বারবার শিকার আর চোরাচালানের আঘাত সহ্য করা এ পার্কটিতে অভাব নেই বন্য জীবনযাপনের অসাধারণ ছন্দের। সূর্যের লালে রাঙা পাখি আর নিকষ কালো হায়েনাদের জন্য এ ‌এক অভয়ারণ্য। বন্য সৌন্দর্যের খোঁজে আসা পর্যটকদের আনাগোণা সত্ত্বেও প্রকৃতির এ স্বর্গরাজ্য সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে জাম্বিয়ার অসূর্য্যস্পর্শা স্থানগুলোর একটি হয়েই।

ফাতিহা অরমিন নাসির | ছবিঃ CARL COURT, GETTY IMAGES
>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।