প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের গল্প

সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের গল্প

 সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ আগস্ট ১৩, রোজ রবিবার। ২০১১সালের এ দিনেই বাংলাদেশের এক অন্যতম চলচিত্রকার আবু তারেক মাসুদ পরলোকগমন করেন।

ডিসেম্বর ৬, ১৯৫৬ সালে জন্মেছিলেন এ মহান ব্যক্তিত্ব। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি । মায়ের নাম নুরুন নাহার মাসুদ ও বাবার নাম মশিউর রহমান মাসুদ । ভাঙ্গা ঈদগা মাদরাসা থেকে শুরু করেন তার শিক্ষা জীবন । পরবর্তীতে ঢাকার লালবাগের একটি মাদরাসা থেকে মৌলানা পাস করেন। ১৯৭১সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার মাদরাসা শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে । যুদ্ধের পর তিনি সাধারণ শিক্ষার জগতে প্রবেশ করেন । ফরিদপুরের ভাঙ্গা পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন । তিনি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ছয় মাস পড়াশোনার পর বদলি হয়ে নটর ডেম কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাস করেন । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি একাধারে বাংলাদেশী স্বাধীন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার, লেখক এবং গীতিকার। মাটির ময়না (২০০২) তার প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র। যার জন্য তিনি ২০০২-এর কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টর’ ফোর্টনাইট সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন এবং এটি বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে সেরা বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য একাডেমি পুরস্কারে মনোনীত হন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন। ১৯৮২ সালের শেষ দিকে তিনি জীবনের প্রথম ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ডকুমেন্টারিটি ছিল প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিল্পী এস এম সুলতানের জীবনের উপর। এরপর থেকে তিনি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি, এনিমেশন এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০০২সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মাটির ময়না মুক্তি পায় যা বেশ সারা ফেলেছিল দর্শকের মনে।১৯৮৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবের কো-অডিঁনেটর হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেয়ার পাশাপাশি কয়েকটি সাময়িকী ও পত্রিকায় চলচ্চিত্র বিষয়ে লেখালেখি করতেন।

তার পরিচালিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র – সোনার বেড়ি (১৯৮৫) এবং সর্বশেষ ফিচার চলচ্চিত্র রানওয়ে মুক্তি পায় ২০১০ সালে। ২০১২ সালে তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক প্রদান করা হয়। ২০১৩ সালে, নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়ান/প্যাসিফিক/আমেরিকান ইন্সটিটিউট এবং দক্ষিণ এশিয়া সলিডারিটি ইনিশিয়েটিভ, তার চলচ্চিত্রের প্রথম উত্তর আমেরিকান ভূতাপেক্ষ আয়োজন করে।

কাগজের ফুল’ নামক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লোকেশন চিত্রায়ন করার জন্য তারেক মাসুদ তার সহকর্মীদের নিয়ে পাবনার ইছামতী নদীর তীরে যান। লোকেশন নির্বাচন শেষে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে তারেক মাসুদ তার গাড়িবহর নিয়ে রওনা দেন। পথে ঘিওরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তারেক মাসুদের সঙ্গে ছিলেন তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্প্রচার কিংবদন্তি, টেলিভিশন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ও বিশিষ্ট চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর। তিনিও একই দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের সাথে মারা যান। ঘটনাস্থলেই তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর সহ আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।