প্রচ্ছদ » উড়াল » ফিচার » বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি ও মিডিয়ার বাণী

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি ও মিডিয়ার বাণী

শ্রাবন্তী কামাল | বাংলা ইনিশিয়েটর

বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী এক বীরের নাম। যিনি জীবনের শেষক্ষণেও ছিলেন দৃঢচেতা। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মৃত্যুঘটে একজন মহান জাতীয়তাবাদী নেতার। যিনি তার জাতিসত্তার চেতনায় এই বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ কে জাগ্রত করেছিলেন।

আজীবন লড়াই করেছেন প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক বিরুদ্ধে। বাংলার মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র ৫৫ বছরের জীবনে স্বদেশের মাটিতে আর মানুষকে এমন গভীর ও ভালোবাসার বন্ধনে বেধে ছিলেন যে বন্ধন কোনো দিনও ছিন্ন হওয়ার নয়।

১৫ই আগষ্টকে ফিরে দেখতে চাইলেই মানুষ শোকে ভেসে ওঠে। বাঙালির স্বাধীনতার অন্যতম তীর্থস্থান ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার সড়কের ৬৭৭ নাম্বার বাড়িটি। তিনি তার অসীম ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিশ্ব নেতাদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর শোকে পাথর বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে আসার জন্য জার্মানির একটি এয়ারপোর্টে তাঁর পাসপোর্টটি ইমিগ্রেশন অফিসারকে দেখালে সেই অফিসার পাসপোর্টটি দেখেই শেখ হাসিনাকে বললেন “ছিঃ তোমরা বাংলাদেশিরা খুব জঘন্য একটি জাতি, যেই মানুষটি তোমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন তাঁকেই তোমরা হত্যা করে ফেললে?”।

এর পরের ঘটনা আরও বেদনাদায়ক, সেই সময়ের পুরো এয়ারপোর্টের মানুষরা দেখল শাড়ি পড়া এক নারী চিৎকার করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন।

তাই আজও মানুষ স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকে। ঠিক তেমন ভাবে যেমন ভাবে বলেছিলেন এরা......

তাই আজও মানুষ স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধুকে। ঠিক তেমন ভাবে যেমন ভাবে বলেছিলেন এরা......

আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। তাঁর ব্যক্তিক্ত ও নির্ভীকতা হিমালয়ের মতো। এভাবেই তার মাধ্যমে আমি হিমালয়কে দেখেছি
—–ফিদেল ক্যাস্ট্রো
শেখ মুজিবকে চর্তুরদশ লুইয়ের সাথে তুলনা করা যায়। জনগণের কাছে তিনি এতো প্রিয় ছিলো যে , লুইয়ের মতো তিনিই এ দাবী করতে পারেন আমিই রাষ্ট্র।
—–পশ্চিম জার্মানি পত্রিকা
শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারালো তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্তিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধকে।
—–ফিদেল ক্যাস্ট্রো
আওয়ামিলীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তেজী এবং গতিশীল নেতা আগামী ২০ বছরের মধ্যে এশিয় মহাদেশে আর পাওয়া যাবে না।
—–হেনরি কিসিন্জার
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ। তাই তিনি অমর।
—–সাদ্দাম হোসেন
আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম কোমল হৃদয় ছিল মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য ।
—–ইয়াসির আরাফাত
মুজিব হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যারা মুজিবকে হত্যা করেছেন তারা যে কোন জঘন্য কাজ করতে পারেন।
—–নোবেল বিজয়ী উইলিবান্ট
শেখ মুজিবুর রহমান ভিয়েতনামী জনগণকে অণুপ্রাণিত করেছিলেন।
—–কোনেথা কাউন্ডা
শেখ মুজিব নিহত হবার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তার অনন্য সাধারন সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক  ছিল।
—–ইন্দিরা গান্ধী
বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকান্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে
—–ডেইলি টেলিগ্রাফ,১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডন থেকে প্রকাশিত
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডে বাংলাদেশ শুধু এতিম হয়নি, বিশ্ববাসী হারায়েছেন একজন মহান সন্তানকে।
—–জেমসলামন্ড, ইংলিশ এম.পি
মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনই জন্ম নিত না
—–ফিনান্সিয়াল টাইমস
শেখ মুজিব ছিলেন এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত
—–দ্য গার্ডিয়ান
শেখ মুজিব জর্জ ওয়াশিংটন, গান্ধী এবং দ্যা ভ্যালেরার থেকেও মহান নেতা
—–বৃটিশ লর্ড ফেন্যার ব্রোকওয়ে
যিশু মারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রস ধারণ করে তাঁকে স্মরণ করছে। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো
—–ভারতীয় বেতার ‘আকাশবাণী, ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট
তুমি বাংলার লোক? আমি কিন্তু তোমাদের জয় বাংলা দেখেছি। জানো, এশিয়ায় তোমাদের শেখ মুজিবের মতো সিংহ হৃদয়বান নেতার জন্ম হবে না বহুকাল।
—–জাপানি মুক্তি ফুকিউরা
শেখ মুজিব দৈহিকভাবেই মহাকায় ছিলেন,সাধারণ বাঙালির থেকে অনেক উচুঁতে ছিলো তার মাথাটি, সহজেই চোখে পড়তো তার উচ্চতা। একাত্তরে বাংলাদেশকে তিনিই আলোড়িত- বিস্ফোরিত করে চলেছিলেন, আর তার পাশে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে যাচ্ছিল তার সমকালীন এবং প্রাক্তন সকল বঙ্গীয় রাজনীতিবিদ। জনগণকে ভুল পথেও নিয়ে যাওয়া যায়; হিটলার মুসোলিনির মতো একনায়কেরাও জনগণকে দাবানলে, প্লাবনে, অগ্নিগিরিতে পরিণত করেছিলো, যার পরিণতি হয়েছিলো ভয়াবহ। তারা জনগণকে উন্মাদ আর মগজহীন প্রাণীতে পরিণত করেছিলো। একাত্তরের মার্চে শেখ মুজিব সৃষ্টি করেছিলো শুভ দাবানল, শুভ প্লাবন, শুভ আগ্নেয়গিরি, নতুনভাবে সৃষ্টি করেছিলেন বাঙালি মুসলমানকে, যার ফলে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম।।
—–হূমায়ূন আজাদ
শেখ মুজিব নিহত হলেন তার নিজেরই সেনাবাহিনীর হাতে অথচ তাকে হত্যা করতে পাকিস্তানীরা সংকোচবোধ করেছে
—–বিবিসি,১৫ আগস্ট ১৯৭৫
টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবের কবর একদিন সমাধিস্থলে রূপান্তরিত হবে এবং বাঙালির তীর্থস্থানের মতো রূপলাভ করবে
—–মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী
শেখ মুজিব সরকারিভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং জনসাধারণের হৃদয়ে উচ্চতম আসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবেন। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। এটা যখন ঘটবে, তখন নিঃসন্দেহে তাঁর বুলেট-বিক্ষত বাসগৃহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্মারক-চিহ্ন এবং তাঁর কবরস্থান পুণ্য তীর্থে পরিণত হবে
—–দি লিসনার, লন্ডন, ২৮ আগস্ট, ১৯৭৫
তোমরা আমারই দেয়া ট্যাঙ্ক দিয়ে আমার বন্ধু মুজিবকে হত্যা করেছ! আমি নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিচ্ছি
—–মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত
>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।