প্রচ্ছদ » ছবিওয়ালা » বরফের দুনিয়ার শ্বাসরুদ্ধকর ১০ ছবি

বরফের দুনিয়ার শ্বাসরুদ্ধকর ১০ ছবি

ফাতিহা অরমিন নাসের | বাংলা ইনিশিয়েটর

মেরু ভালুকের নাম নিতেই চোখের সামনে থলথলে আদুরে একটা অবয়ব ভেসে উঠলেও সিলমাছদের কাছে তা এক ভয়াবহ জানোয়ারই বটে। সেই ভয়াবহতার মাত্রা এতটাই বেশি যে, কানাডিয়ান আর্কটিকের বাফিন আইল্যান্ডের সিল মাছের দল নিঃশ্বাস ছাড়ার আগেও আতিপাতি করে খুঁজে নেয়, আশেপাশে কোন ভালুক নেই তো !
নরওয়ের ভ্লাবার্ড দ্বীপপুন্জের কোলে নর্ডাস্টলান্ডেট দ্বীপে বরফ গলা পানির স্রোতধারা যেন অপার্থিব সৌন্দর্যের চূড়ান্ত নিদর্শন।
শেয়াল ধূর্ত প্রাণী হিসেবে পরিচিত হলেও কানাডার চার্চিলের মেরু শেয়ালদের খানিকটা সঙ্গীতপ্রেমীই বলা চলে। শ্বেতশুভ্র তুষারকণার নিচে গমগাছের আড়ালে বসে তারা শোনে ইঁদুরের গান। ঋতু পরিবর্তনের সময় তাদের চামড়া পরিবর্তিত হয় বাদামি বা ধুসর রঙে, যা থাকে গরমকাল আসা অব্দি। যেন তুন্দ্রার পাথুরে প্রকৃতি নিজ হাতে গরম জামা পরিয়ে দিয়েছে তাদের !
পেঙ্গুইনদের দেখে বেশ অলস আর আরামপ্রিয় মনে হলেও মধ্যাহ্নভোজের প্রস্তুতির সময় অ্যান্টার্কটিকার রোজ সাগরের দলনেতা পেঙ্গুইন কিন্তু মোটেও আলসেমি দেখায় না। এসময় তারা ছুটে চলে তাদের সর্বোচ্চ বেগে।


কানাডার অ্যাডমিরালটি ইনলেট পুরুষ তিমিদের জন্য যেন এক প্রাকৃতিক বিশ্রামাগার। বসন্তে যখন বরফের পুরু স্তর কমে যেতে থাকে, তখন পাতলা বরফে তারা মেতে ওঠে ধাক্কাধাক্কিতে। ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতই বিনোদনের পাশাপাশি বিশাল গর্তেরও সৃষ্টি হয়, ফলে তারা চলাচল করতে পারে স্বচ্ছন্দেই। কিন্তু বাৎসরিক এ অভিবাসন তাদের জন্য বয়ে নিয়ে আসে বিপত্তিও, অভিবাসনের ফলেই তারা পৌঁছে যায় শিকারীদের হাতের একদম নাগালে।


উত্তর মেরুর বরফবিহীন এলাকায় সন্তানের প্রতি মায়ের মমত্বের এক অসাধারণ গল্প শোনায় প্রকৃতি। বরফহীন অন্চলে আটকে পড়া মা ভালুক প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যায় তার সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই দৃশ্য সম্ভবত অ্যান্টার্কটিকার ভবিষ্যতের ক্ষীণ আভাস দেয়।


অ্যান্টার্কটিকার দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের কোলে গোল্ড হারবারে বসেছে রাজা পেঙ্গুইনদের আড্ডার আসর।


মানুষের খুঁতখুতে স্বভাবের যে অন্ত নেই সে তো সবাই ই জানে। কিন্তু এই মেয়ে মেরু ভালুকটিও গোয়েন্দাগিরিতে কম যায়না। ফটোগ্রাফার পল নিকলেনেত শ্লেজগাড়ির সীট, ক্যামেরা ব্যাগ আর হ্যাট চিবিয়ে খেয়েও ক্ষান্ত হয়নি সে, নাক ডুবিয়েছে পলের কেবিনেও। ভালুকের সুপারহাইওয়ে নামে পরিচিত এ যায়গার স্মৃতি বর্ণনা করে নিকলেন বলেন, সম্ভবত ভালুকটি ক্ষুধার্ত ছিল, খাবারের সন্ধানে সে হানা দিয়েছে তার কেবিনে।


হাতির দাঁত দামি আর দুষ্প্রাপ্য জিনিস হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। সভ্লাবার্ডের সামার পিক কাউন্টে এ দাঁতগুলো হাতির বয়সের নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯০০ সালের আগে চোরাকারবারিদের উৎপাতে এ অসাধারণ জিনিসটি প্রায় বিলুপ্ত হতে বসলেও ১৯৫২ সালে হাতিদের সুরক্ষার জন্য গৃহীত ব্যবস্থার ফলে এর সংখ্যা বর্তমানে আশানুরূপভাবে বাড়তির দিকে।


সভ্লাবার্ডে মেরু ভালুকের চলার রহস্য এবার উন্মোচিত হলো বিপুল পরিমাণ পায়ের ছাপের সাহায্যে। পায়ের পাতায় বেড়ে ওঠা পশম ঠান্ডাকে দূরে রাখে, ফলে ভালুক দিব্যি হেঁটে যেতে পারে বরফের ওপর দিয়ে।

তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
ছবিঃ PAUL NICKLEN
>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।