প্রচ্ছদ » উড়াল » ফিচার » বিস্ময়কর এক পাখি লায়ার্ডবার্ড !

বিস্ময়কর এক পাখি লায়ার্ডবার্ড !

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৭৩:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ]  সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

প্রায় দশ হাজার প্রজাতির পাখি রয়েছে এ পৃথিবীতে। ছোট আয়তনের বাংলাদেশেও আবাসিক ও পরিযায়ী মিলে প্রায় ৫৬৬ প্রজাতির পাখি রয়েছে তন্মধ্যে কিছু পাখি রয়েছে যারা ঠিক মানুষের ন্যায় কথা বলতে পারে- টিয়া আর ময়না ইত্যাদি।

তবে বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, পৃথিবীতে এমনও পাখি আছে যারা শুধু মানুষের মত কথাই বলতে পারে না বরং তার চারিপাশের সব ধরনের শব্দের হুবহু নকল করতেও বেশ পটু । আর এই পাখির নাম লায়ার্ডবার্ড (Lyrebird) বা বীণাপাখি। এই পাখির বাসস্থান অষ্ট্রেলিয়ায়।

লায়ারবার্ড চড়ুই প্রজাতির পাখি। মূলত এই প্রজাতির সব থেকে বৃহৎ আকৃতির পাখি এটি কিন্তু চড়ুই পাখির মত খুব একটা উড়াউড়ি পছন্দ করে না বরং হেঁটে বেড়াতেই বেশি অভ্যস্ত এরা। শক্তিশালী পা এবং দেহের তুলনায় অনেকটা ছোট পাখা দিয়ে গঠিত এ পাখির দেহ । নিতান্ত প্রয়োজন না পরলে উড়ার চেষ্টা করে না এ পাখিরা।

Animalia রাজ্যর এ পাখিটি খাদ্য হিসেবে পোকামাকড় যেমন- আরশোলা, ছোট পোকা ইত্যাদি গ্রহন করে।

লায়ারবার্ড এর ডিম

এরা বাসা বানায় মাটিতে, এখানেই ডিম পারে। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রায় সময় লাগে ৫০ দিন ।পুরুষ পাখি বেশ আক্রমণাত্মক হয়। এরা নির্দিষ্ট এলাকা দখলে নিয়ে থাকে যেখানে অন্য কোন সুরবাহারের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর একটা পুরুষ পাখির নিয়ন্ত্রণে থাকে ৭-৮টি স্ত্রী পাখি।

এই পাখির জীবনকাল সর্বাধিক ১৩ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। জন্ম নেওয়ার পর পুরুষ পাখি ৬ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বংশ বিস্তারের উপযোগী হয়ে ওঠে আর স্ত্রী পাখি ৫ থেকে ৬ বছর বয়সেই বংশ বিস্তারে সক্ষমতা অর্জন করে।

আমাদের দেশে এই পাখির দেখে মেলে না বললেই চলে। লায়ার্ডবার্ড সম্পর্কে এখনো বেশি কিছু জানা সম্ভব হয় নি কেননা এদের উপর নজর রাখা বেশ কষ্টসাধ্য । এই পাখি যেহেতু আশেপাশের সব পাখির শব্দ নকল করে ফেলে ফলে এদের খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। আর এরা নিজেদের মধ্যে খুব ভাল মত যোগাযোগ বজায় রাখে। তাই এদের কাছে যাবার আগেই তাদের কানে খবর চলে যায় কেউ আসছে।

অষ্ট্রেলিয়ার চিড়িয়াখানায় সংস্কার কাজের সময় ড্রিল মেশিন এবং পেরেক ঠোকার শব্দ হুবহু নকল করতে দেখা গেছে এই পাখিকে।

১৯ শতকের প্রথম দিকে তাসমানিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব কুইন্সল্যান্ডে এই পাখি প্রথম খুঁজে পাওয়া যায়।অনেক জায়গায় লগো হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ছবিঃ ইন্টারনেট 
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।