প্রচ্ছদ » অনিয়ম » গাইড বই ও নোটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

গাইড বই ও নোটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০১৭৫:২০:৫০ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ]অহিদা আক্তার ফাবিয়া । বাংলা ইনিশিয়েটর

আমাদের বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতি হচ্ছে সৃজনশীল ফরম্যাট। এই সৃজনশীল ফরম্যাটের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতাকে জাগ্রত করা। কিন্তু এই সৃজনশীলতাকে নিজেদের ভিতর জাগ্রত করতে হিমশিম খেতে হয় শিক্ষর্থীদের। তারা বিভিন্ন গাইড বই ও নোটের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বছরের প্রথম দিকে বিভিন্ন গাইড বই বাজারে না আসার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পরে তার যথাযথ বাস্তবায়ন করা হয় না।ফলপ্রসূতে প্রথম মাসের মধ্যেই গাইড বই হাতে চলে আসে শিক্ষার্থীদের। এসব গাইড বই ও নোটের উপর শিক্ষার্থীরা যেমন আসক্ত হয়ে পড়ছে ঠিক তেমনিভাবেই বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকরাও এই নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অবস্থাটা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে গাইড বই ছাড়া যেন এদেশে পড়াশোনা সম্ভব নয়। বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষার অনেক প্রশ্নও করা হয় এসব নিষিদ্ধ গাইড বই ও নোটের হুবহু নকল করে। এ বিষয়ে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী তিশা (ছদ্মনাম) বলেন, “গাইড বই ও নোট পড়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই কারণ স্কুলে পরীক্ষার বেশিরভাগ প্রশ্নই করা হয় পাঞ্জেরি, লেকচার বা অনুপম এর মতো গাইড বই গুলো অনুসরণ করে।পরীক্ষার প্রশ্নগুলো কমন পাওয়ার জন্যই আমাদের বাধ্য হয়ে গাইড বই ও নোট পড়তে হয়।”

এসব নিষিদ্ধ গাইড বই বাজারে আসার ফলে সৃজনশীল ফরম্যাটের মূল লক্ষ অর্জিত হতে পারছে না।আবার স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত শিক্ষা না পাওয়ার ফলে অনেক শিক্ষার্থীই কোচিং সেন্টার তাদের মূল্যবান সময় অতিবাহিত করছে। এ সম্পর্কে মনিপুর স্কুলের অন্য এক শিক্ষার্থী আনিকা (ছদ্মনাম) বলেন, “অনেক সময় স্কুলের শিক্ষকদের পড়া বোধগম্য না হওয়ার কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে কোচিং সেন্টারে পড়তে হয় এবং বিভিন্ন নোট ও গাইড বইয়ের মধ্যে নিজেদের মেধাকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে হয়।”

নিজের ও স্কুলের নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী এ ব্যাপারে বলে, “প্রাইভেট না পড়ে উপায় কী? স্কুলের শিক্ষকেরা ভালোমতো পড়ায় না। বলে প্রাইভেট পড়লে পুরো পড়া ঠিকমতো বোঝাবে। স্কুল থেকে বিভিন্ন গাইড বই কিনতে বলে। না কিনলে শাস্তিও দেয়। আমরা কী করতে পারি?”

গাইড বইয়ে নমুনা সৃজনশীল থেকে স্কুলের পরীক্ষায় বিভিন্ন প্রশ্ন আসার ফলে সৃজনশীল প্রশ্নই হুবহু মুখস্ত করছে শিক্ষার্থীরা। এর ফলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল বানানোর বদলে তাদের সৃজনশীলতাকে আরও বেশি করে নষ্ট করা হচ্ছে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।