প্রচ্ছদ » লাইফ স্টাইল » নিদ্রাহীনতা থেকে মুক্তির কয়েকটি কার্যকরী উপায়

নিদ্রাহীনতা থেকে মুক্তির কয়েকটি কার্যকরী উপায়

সুরাইয়া আক্তার জীম । বাংলা ইনিশিয়েটর

ঘুম নিয়ে মানুষের সমস্যার কোন কমতি নেই। বেশীরভাগ মানুষ সময়মত ঘুমাতে পারেন না, যার ফলে দেখা যায় বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা।

যাই হোক, আমাদের সকলের পর্যাপ্ত পরিমাণ ও সময়মত ঘুমের প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলেই নিদ্রাজনিত সমস্যা দূর হতে পারে। আসুন জেনে নেয়া যাক, সেই জাদুকরি উপায়গুলো-

ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে বই পড়ুন:

ঘুম আনয়নের সবচেয়ে সহজ উপায় হল বিছানায় যাবার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে বাতি নিভিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ুন। তারপর বিছানার পাশে হালকা আলোর বাতিতে বই পড়ুন। কোন মজাদার বই পড়ার দরকার নেই, এমন কোন বই পড়বেন যাতে আপনার বিরক্তিবোধ হয় এবং আপনি ঘুম অনুভব করেন। বই পড়ার কারনে আপনি ইলেক্ট্রনিক পণ্য অর্থাৎ মোবাইল, ট্যাব, টিভি ইত্যাদি হতে দূরে থাকবেন। যার ফলে আপনার ঘুমের সমস্যা রোধ হবে।

নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যান:

একটি নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই আপনার বিছানায় যাবার জন্য নিজেকে বাধ্য করবেন। এর ফলে আপনার ঘুমের সমস্যায় যথেষ্ট উপকারী হবেন। এতে শুধু আপনার শারীরিক উন্নতি নয়, মানসিকভাবেও অনেক সুফল ভোগ করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাবার অভ্যাস করলে সেই সময়ে প্রাকৃতিকভাবেই ঝিম ভাব চলে আসবে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রেও একই। সময়মত ও একই সময়ে ঘুমানোর কারনে মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও মিলাটোনিন ঠিকমত কাজ করতে পারে। যার ফলে আপনার সার্কাডিয়ান তালের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

মোবাইল ফোন দুরে রাখুন:

মোবাইল ফোন নিয়ে বিছানায় ঘুমাতে যাওয়া কখনোই শ্রেয় নয়। কারণ অনেক সময় চোখে ঘুম জড়িয়ে আসতে শুরু করলেই ফোন চলে আসতে পারে।

স্বাস্থ্যকর ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

সবকিছুর ক্ষেত্রে সকলেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খাবার ফলে শরীরের পালস এর গতি বৃদ্ধি পায়, যার ফলে ঘুমের সমস্যা দূর হয়। খাবারের ফলে শরীরের ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং অন্যান্য অপরিহার্য খনিজ এর চাহিদা পূরণ হয়। এছাড়া সঠিক ডায়েটের কারনে শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যা সঠিক সময়ে ঘুম আসার সাথে সাথে সঠিক সময়ে জাগ্রত হবার জন্য ও সাহায্য করে।

ঠান্ডা কক্ষে শয়ন :

ঘুমের সময় আপনার শয়ন কক্ষটি খুব শান্ত রাখার চেষ্টা করুন। বছরের পর বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর সময় মানুষের শরীরের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। তাই, যতটা সম্ভব ঘরের তাপমাত্রা ঠাণ্ডা রাখলে ঘুম ভালো হয়। তবে কক্ষের তাপমাত্রা বেশী ঠাণ্ডা করার প্রয়োজন নেই। পাখা চালিয়ে ঘুমালে বা একটি জানালা খুলে রাখলেই যথেষ্ট। দেখবেন, খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছেন।

গরম দুধ পান করুন:

আগেরদিনের মানুষেরা বিশ্বাস করত ঘুমের আগে গরম দুধ পান করলে ঘুম ভালো হয়। তাদের এই বিশ্বাস এখন বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত। বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমাতে যাবার পূর্বে গরম দুধ পান করালে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে এতে সারা রাতের ঘুম ভালো হয়। আপরদিকে শরীরের ট্রিপটোফেন এর পরিমাণও বৃদ্ধি পায় যার ফলাফল ঘুমের পরিমাণ বৃদ্ধি ।

পেশী শিথিল রাখুন:

পেশী শিথিল কৌশল শরীরের খুব ভাল ব্যায়াম। এর মাধ্যমে আপনি অবসাদ কমিয়ে দ্রুত ঘুমানোর কৌশল আয়ত্ব করতে পারবেন।

কুসুম গরম পানিতে গোসল:

শরীরের তাপমাত্রা ক্ষণিকটা বাড়লে বেশ তাড়াতাড়ি ই ঘুম এসে যায়। হালকা কুসুম গরম পানিতে ঘুমতে যাওয়ার পূর্বে গোসল করে নিলে রাতের ঘুম ভালো হবে।

ধ্যান:

ঘুমানো আগে ধ্যান করলে আপনার ভাল ঘুম হবে। কারণ ধ্যানের মাধ্যামে আপনার মানসিক চাপ কমে আসবে। তাছাড়া ধ্যান অনিদ্রা দূর করতে পারে বলে ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় দাবি করা হয়।

শারীরিক পরিশ্রম:

ঘুমের জন্য শারীরিক পরিশ্রম দারুণ কাজে দেয়। যারা তুলনামূলক একটু বেশি কাজ বা হাঁটাচলাকরেন তাদের তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

যোগ ব্যায়াম:

নিয়মিত যোগ ব্যায়াম ভাল ঘুমের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

তেল ব্যবহার:

মাথায় তেল ব্যবহার করলে মাথা ঠাণ্ডা থাকে। ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়- তেল ব্যবহার করলে ভাল ঘুম হয়।

ভেষজ চা:

ক্যাফেইনমুক্ত ভেষজ চা পানের অভ্যাস করতে হবে। এই চা আপনার শরীর চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করবে পাশাপাশি নিদ্রাতেও কোনও প্রভাব ফেলবে না।

ক্যাফেইন যুক্ত খাবার পরিহার করুন:

ক্যাফেইন যুক্ত খাবার পরিহার করুন। চায়ে প্রচুর পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনোই চা পান উচিত নয় । চা রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।