প্রচ্ছদ » বিনোদন » শুভ জন্মদিন ‘দ্যা কিং অব পপ’

শুভ জন্মদিন ‘দ্যা কিং অব পপ’

 

রাশেদ বাপ্পি

আজ ২৯ আগস্ট আজকের দিনে জন্মেছিলেন পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। বেঁচে থাকলে এ বছরে তিনি ৫৮ তে পা রাখতেন। জনপ্রিয়তায় যিনি নিজেই পূর্ণাঙ্গ একটি আকাশ। তাকে বলা হয় তারকাদের তারকা। খুব বেশি দিনের জীবন নয় তার। অথচ রেখে গিয়েছেন অবিশ্বাস্য সাফল্যের গল্পকথা। যা হার মানায় রূপকথাকেও।

সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, মানবতা ও ভালোবাসার ভুবনে মাইকেল জ্যাকসন একজন মুগ্ধ জাদুকরের নাম। সংগ্রামী জীবন আর মানুষের ভালোবাসায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা। আজন্ম জ্বরে ভোগা, অনাহারে মানুষ হওয়া মাইকেল একদিন ভুবনজয়ী সংগীতপ্রতিভা হবে কে ভাবতে পেরেছিলো!

মাইকেলের জন্ম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে, ১৯৫৮ সালের ২৯ আগষ্ট। বাবা-মায়ের উৎসাহে ৬০’র দশকে জ্যাকসন পরিবারের অপর তিন সদস্য- জ্যাকি, টিটো এবং জার্মেইনের দলে আরেক ভাই মার্লোনকে সঙ্গে নিয়ে গাইতে শুরু করেন। জ্যাকসন- ৫’র ক্ষুদে সদস্যরা শহরের নানা প্রান্তে গাইতে শুরু করে। তবে বাকিদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি প্রতিভাধর ছিলেন মাইকেল। তার গানের গলাও ছিল বালককন্ঠের হিসেবে অনেক পরিণত। ফলে এই ছোটদের দলটার নেতা হতে খুব বেশি সময় লাগেনি তার।

প্রধান ভোকালিস্ট তিনি ছিলেন- এটা বলাই বাহুল্য! এই দলের মধ্যে প্রতিভার ছোঁয়া খুঁজে পেয়েছিলেন আরেক বিখ্যাতজন ব্যারি গোর্ডি। ফলে তার হাত ধরে জ্যাকসন ৫’র ব্যাক টু ব্যাক অ্যালবাম বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে এক বিষ্ময়কর প্রতিভা মাইকেল জ্যাকসন তার আলাদা জাত চিনিয়ে দিলেন আশেপাশের সবাইকে।

সারা বিশ্বের মানুষের কাছে আমেরিকার পপ সংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে মাইকেল জ্যাকসন যে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন তার শুরুটা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এককভাবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৮০ সালে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে জ্যাকসন বিশ্বের পপসংগীত শ্রোতাদের কাছে হয়ে ওঠেন নয়নমণি। ১৯৭৯ সালে তার প্রথম সলো অ্যালবাম ‘অফ দ্য ওয়াল’ বের হয় কুইন্সি জোনসের প্রযোজনায়। এই অ্যালবামের চার চারটি গান ইউএস টপচার্টের প্রথম দশটি গানের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল।

শুরু হলো তার একচ্ছত্র আধিপত্য। এলভিস প্রিসলি পপসংগীতের সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও মাইকেল জ্যাকসনকেই শ্রোতারা গুরু ডাকতে শুরু করল। তারকাখ্যাতির সঙ্গে অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্যে রূপকথার জীবন কাটাতে লাগলেন মাইকেল জ্যাকসন। গানের তালে তালে মাইকেলের নাচের কৌশলগুলোও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রবোট ও মুনওয়াক অন্যতম।

জীবনের শেষ দিকে এসে নানা যন্ত্রণায় বিরক্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তিনি। জানা যায়, মুসলিম হবার পর তিনি মিকাঈল নাম গ্রহণ করেছিলেন ঈশ্বর যার হাতে তুলে দিয়েছেন ভালোবাসার মোহন বাঁশি তাকে অপদস্ত করে সে সাধ্য মানুষের কই! মাইকেল জ্যাকসন গানের জগতে এক বিস্ময়কর মানব হয়েই রইলেন।২০০৯ সালের ২৫ জুন শেষরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লস এঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন মাইকেল জ্যাকসন।
পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জন্মবার্ষিকীতে তার প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।