প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সময়ের সেরা থেকে ইতিহাস সেরার পথে!

সময়ের সেরা থেকে ইতিহাস সেরার পথে!

সাব্বির রায়হান অপি । বাংলা ইনিশিয়েটর
বর্তমানে অলরাউন্ডার শব্দটির জন্য সবার আগে আমাদের চোখের সামনে যে মুখটি ভেসে উঠবে সেটা বাংলা টাইগার সাকিবের। শুধুমাত্র টেস্ট নয়, ওয়ান ডে কিংবা টি-টুয়েন্টি সব ফরমেটে সময়ের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। এটা নতুন কিছু নয়। প্রায় অনেকদিন ধরেই এই সিংহাসনে তারই আধিপত্য। সময়ের সেরা যখন হয়েই গেছেন এবার নিশ্চই তাকে ইতিহাসে সেরা দেখতে চাইবেন সাকিব ভক্তরা। সাকিব নিজের মুখে হয়তো এমন ভাবনার প্রকাশ করেন না, তবে তার পারফর্মেন্স তাকে নিয়ে যাচ্ছে অন্য উচ্চতায়। একের পর এক পালক যোগ করে চলেছেন সাফল্যের মুকুটে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন এখন সাকিব। জাতীয় দলের পোশাক হোক কিংবা ফ্রাঞ্চাইজি, মাঠে নেমেই বাংলাদেশকে উপহার দিচ্ছেন একের পর এক অসাধারন সব গৌরব।হঠাৎ করে একটু নিভে গিয়ে দ্বি-গুন উজ্জল হয়ে ফেরাই সাকিবের স্বভাব। নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট শেষে কোচ চন্ডিকা হাতুরে বলেছিলেন, “সাকিব আর আগের বোলার নেই”। এরপরই শ্রিলংকা সফরে পুরোনো রুপে ফেরার ইঙ্গিত দেন সাকিব। কিছু দিন পরেই দেশের মাটিতে আবার সেই পুরোনো সাকিব। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুধু ভাল পারফর্মই করেন নি, ইঙ্গিত দিয়েছেন সেরাদের সেরা হওয়ার। ব্যাটে বলে সমানভাবে এগিয়ে চলেছেন সময়ের সেরা এই অলরাউন্ডার।

একটি মাত্র টেস্ট! অথচ এই টেস্টে প্রাপ্তির স্থানটা বিশাল ছিল সাকিবের। ম্যাচ শুরুর আগেই স্পেশাল হয়ে ছিল সাকিবের জন্য। ক্যারিয়ারের পঞ্চাশতম টেস্ট বলে কথা। বাংলাদেশ যখনই চাপে ব্যাটে বলে অবদান রেখেই গেছেন এই নাম্বার ওয়ান।

প্রথম ইনিংসে যখন দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে বাংলাদেশ। তামিমের সাথে অসাধারন পার্টনারশিপ আর ৮৪ রানের ইনিংস। একাই যেন সবটা সামলে নিতে চেয়েছেন সাকিব। স্পিন জাদুতে সামান্য রানে ভরসা করেই ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আরো একবার সাকিব, এবার বল হাতে নিয়মিত চাপে ফেলার পাশাপাশি উইকেট তুলে নিয়েছে। ৫ উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দিয়েছেন অজিদের। সাকিব মাঠে নামলেই যেন রেকর্ডের সব নথি-পত্র নিয়ে বসতে হয়। কখন কোন রেকর্ড বদলে দেন! এবারও একটা রেকর্ড। টেস্ট খেলা সবগুলো দলের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড।

এখানেই শেষ নয়। নিজের ৫০তম টেস্টে ১০ উইকেট আর হাফ সেঞ্চুরি এর আগে ইতিহাসের অন্য কোনো ক্রিকেটারের ছিল না। সাকিবই প্রথম এবং এক মাত্র ক্রিকেটার যিনি এমনটা করে দেখিয়েছেন। তাও যেকোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। শুধু কি তাই, যেখানে ৫০ টেস্টে ৩ হাজার রান ও ১৫০ উইকেট ছিল না ইয়ান বোথাম, জ্যাক ক্যালিস, কপিল দেব, ইমরান খান, গ্যারি সোবার্স, রিচার্ড হ্যাডলিদের মত অলরাউন্ডারদের। সেখানে ৫০ টেস্টে সাকিবের রান ৩৫৬৮ এবং উইকেট সংখ্যা ১৮৬। জ্যাক ক্যালিস, কাপিলদেবরা এখন ক্রিকেটের অতীত। কিন্তু সাকিব বর্তমান। আরো অনেকটা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বাকি তার। হয়তো ততদিনে এসব পরিসংখ্যানকে আরো এলোমেলো করে দিবেন।

এদিকে তিনি যেন দলের হয়ে অবদান রাখতে পারলেই খুশি। এসব নিয়ে তিনি ভাবেন না। নিজেকে সেরাদের একজন ভাবতেও রাজি নন। অস্ট্রেলিয়া টেস্টের অবদানটুকুও নিলেন সতির্থদেক সাথে ভাগ করে, ” তামিম অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। দুই ইনিংসেই ওর সেঞ্চুরি হতে পারত, দুর্ভাগ্য ওর। মুশফিক ভাইয়ের অবদান আছে। নাসিরের প্রথম ইনিংস, সাব্বিরের দ্বিতীয় ইনিংস, এগুলোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাইজুল ও মিরাজের কথাও বলতে হবে। আমি একপাশ থেকে ৫ উইকেট পেয়েছি, কিন্তু অন্যদিক থেকে ওদেরও উইকেট নিতে হয়েছে। দিন শেষে এটা দলগত খেলা, এখানে সবার অবদানই আছে। কারও হয়তো একটু বেশি, কারও একটু কম।”

বিশ্বকে এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গেতো তিনিই পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সেরাদের সাথে রেকর্ড নাম বসিয়ে চলেছেন। কোথাও কোথাও তাদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। সময়ের সেরা অলরাউন্ডার এখন ইতিহাস সেরার পথেই হাটছেন।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।