প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সাব্বিরের আরেকটি সম্ভাবনাময় ইনিংসের মৃত্যু!

সাব্বিরের আরেকটি সম্ভাবনাময় ইনিংসের মৃত্যু!

প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭৬:০৯:৫০ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ] সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ভাগ্য যেন বাংলাদেশের হয়েই বারবার কথা বলছে। ঢাকা টেস্টের মত চট্রগ্রামেও টসে জিতল টাইগার অধিনায়ক মুশি। আর সহজ সিদ্বান্তটা নিয়ে নিলেন। আগে ব্যাটিং করতে নামবে বাংলাদেশ। এমন ভয়ানক স্পিন উইকেটে কেই বা চাইবে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচের ব্যাটিং ভরসা তামিমকে ফেরান লায়ন। ৩৪ বল খেলে মাত্র ৯ রান করেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখেন চট্রগ্রামের লোকাল বয় তামিম। এরপরে মাঠে নামেন ইমরুল কায়েস। আগের ম্যাচের মত আরেকটি ব্যার্থ ইনিংস। তামিমের মত লায়নের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাঁজ ঘরে ফেরেন। আম্পায়ার প্রথমে আঙ্গুল না তুললে রিভিউ নেন অজি অধিনায়ক স্মিথ। আর তাতেই আম্পায়ারকে তার সিদ্বান্ত পরিবর্তন করতে হয়। এরপর একাদশে ফেরে মুমিনুলের সাথে ভাল তাল-মিলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সৌম। সবাই যেখানে ভাল কিছুর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ঠিক সেই সময়টাতে আরেকবার সামনে এসে দাড়ায় লায়ন। এবারো এলবিডব্লিউ। ঠিক লাঞ্চের আগের বলটাতে স্কোর বোর্ডে আরেকটি উইকেট যোগ হয় সৌমের রুপ নিয়ে। ৮১ বলে ৩৩ রানই করতে পেরেছিলেন এই ওপেনার। একটি ছয় আর দুটি চার মেরে ভাল ইনিংসের আশাই দেখাচ্ছিলেন।

লাঞ্চ শেষে মমিনুলের সাথে মাঠে নামে আগের ম্যাচের নায়ক সাকিব। কিন্তু আরো একবার লায়ন আক্রমন। মমিনুলকেও সেই এলবিডব্লিউ করে দিলেন। ৬৭ বলে ৩১ রান করে ড্রেসিং রুমে যান তিনি। এরপর মাঠে দেখা যায় দুই অভিজ্ঞ সাকিব-মুশফিক। শুরু থেকে আক্রমনাত্নক সাকিবও ফিরে যান ৫২ বলে ২৪ রান করে। এবার মুশফিককে সঙ্গ দিতে মাঠে আসেন সাব্বির রহমান। নিজেকে প্রমানের বেশ ভাল সুযোগই পান। দারুন সব শট খেলতে শুরু করেন। লায়নের ওভারে প্রথম বলে ছক্কা মেরে বেশ ভাল ভাবের চাপমুক্ত হন। এভাবেই চা বিরতিতে যায় চট্রগ্রাম টেস্ট।

বিরতি শেষে বল বুঝে খেলতে থাকেন সাব্বির-মুশফিক। ১১৬ রান থেকে স্কোর বোর্ডে ২২২ রানে নিয়ে যায় এই জুটি। দুজনই তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনাময় ইনিংসের মৃত্যু হয় এখানেই। যখনই বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ঠিক সেই তখনই দুঃস্বপ্ন হয়ে সামনে আসেন লায়ন। এবার অবশ্য নিজের ভুলেই উইকেট হারান সাব্বির। লায়নের বলে সামনে এগিয়ে পুল করতে চেস্টা করেন সাব্বির। বল তাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যায় কিপার ওয়েডের হাতে। সাথে সাথেই উইকেট ভেঙ্গে দেন। ১১৩ বলে ৬৬ রান নিয়ে স্টাম্প আউট হন সাব্বির। ৬টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি মারেন এই ইনিংসে।

সাব্বির বিদায়ের পর মাঠে আসেন নাসির। ঢাকা টেস্টে ভাল কিছু করতে না পারেন আক্ষেপ শেষে, আরো একবার নিজেকে প্রমানের সুযোগ নাসিরের হাতে। অধিনায়ক মুশফিকের সাথে বেশ নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি। ১ম দিনটি তারা দুজনই শেষ করেন। মুশফিক ১৪৯ বলে করেছেন ৬২ রান আর নাসির করেছেন ৩৩ বলে ১৯ রান।

প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেটের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৫৩ রান। অজিদের হয়ে ৫ উইকেট নিয়ে একাই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙ্গেছেন লায়ন। আর তার স্পিন সঙ্গি অ্যাগার নিয়েছেন একটি। ঢাকা টেস্টের হিসাব মাথায় রাখলে মোটামুটি ভাল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এমন উইকেটে ব্যাটিং করা যে কতটা কঠিন তা সাব্বির-মুশফিকরাই ভাল বলতে পারবেন। এবারের বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইনআপও যে অনেক বড়। এখনও মাঠে নামা বাকি মেহেদি, তাইজুল, মুস্তাফিজের। তবে বোলিং ডিপার্টমেন্টে এক পেসার আর তিন স্পিনারে কেমন আক্রমন করে বাংলাদেশ তাও দেখার বিষয়।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।