প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » বৃষ্টিময় সকালের পর আশার আলো!

বৃষ্টিময় সকালের পর আশার আলো!

প্রকাশ : ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭৫:১৭:২৪ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ] সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

গতকাল স্মিথে-ওয়ার্নার ঝড়ে থামিয়েছিলেন তাইজুল। স্মিথ ক্লিন বোল্ড হবার পর মাঠে আসে হ্যান্ডসকম্ব। ওয়ার্নারের সাথে বাংলাদেশ বোলারদের হাপিত্যেশ করিয়ে ছাড়ে। কালকের খেলা শেষেই নাসির জানিয়েছিল দ্রুত এই দুই ব্যাটসম্যানকে আউটের লক্ষে মাঠে নামবে তারা। কিন্তু সকালের বৃষ্টিতে তো ম্যাচ শুরুই হচ্ছিল না। একটা সময় মনে হচ্ছিল এই বৃষ্টিতেই নী ধুয়ে যায় চট্রগ্রাম টেস্টের ফল। কিন্তু তা হল না। প্রকৃতিও হয়তো এই টেস্টের ফল দেখতে চায়। বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হয়।

কালকের রুদ্র রূপ আজো ওয়ার্নার-হ্যান্ডসকম্ব ধরে রেখেছেন। খুব সহজেই রানের পাহারের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু ওয়ার্নারের ৯৯ রানে হঠাৎ থেমে গেল রানের চাকা। প্রায় ১২ বল আটকে থাকতে হল তাকে। এরপর নাসিরের বলে দ্রুত রান নিতে এলে হ্যান্ডসকম্বকে ফিরিয়ে দেন ওয়ার্নার। কিন্তু হ্যান্ডসকম্বকে ফিরতে দিলেন না সাকিব। এবার বোলিং নয় ফিল্ডিং যাদু দেখালেন ঢাকা টেস্টের নায়ক। বল পেয়ে সোজা স্টাম্পে মারলেন। স্টাম্পের সাথে ভেঙ্গে গেল হ্যান্ডসকম্বের বড় রানের স্বপ্ন। ১৪৪ বলে ৮২ রান করেন তিনি। এরপর এশিয়ায় টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন ওয়ার্নার।

বার্থ ডে বয় মুস্তাফিজের বলে থার্ড স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। তবে ১২ রানে থাকা ম্যাক্সওয়েলের ক্যাচটি ধরতে পারেন নি মিরাজ। এরপরই জন্মদিনর দারুন উপহার পায় মুস্তাফিজুর। শর্ট বলটা হুক করার চেস্টায় ইমরুলকে ক্যাচ দেন। তবে ক্যাচটা ধরতে গিয়ে দুইবার হাত ফসকেছিল ইমরুলর। ২৩৪ বলে ১২৩ রান করেছেন ওয়ার্নার। মিরাজে অবশ্য আরেকটি কঠিন সুযোগ হাত ছাড়া করেছেন। নিজের বলে হিলটন কার্টরাইটের সজোরে ড্রাইভ করা বলটা নিজেই ধরতে গিয়েছিলেন। তবে বলটা ঠিক হাতে নেয়া হলনা মিরাজের। উল্টো পাঁজরে চোট পেয়েছেন, ফলে খেলা বন্ধ রাখতে হয়েছে মিনিট পাঁচেকের বেশি। তবে একটু পরেই মিরাজ উঠে দাড়ালেন। এবার উইকেটটা তুলেই নিলেন। স্লিপে সহজ ক্যাচ বানিয়ে ফেরান কার্টরাইটকে। ২৮ বলে ১৮ রান করেছেন তিনি।

জন্মদিন দেশকে ভালকিছু উপহার দিতেই হয়তো মাঠে নেমেছেন মুস্তাফিজ। ম্যাক্সওয়েল-ওয়েড জুটি অনেক্ষন ধরেই বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। তাই অধিনায়ক মুশি দ্যা ফিজকে বল দেন। সুযোগ পেয়েই যাদু দেখান ফিজ। গুড লেংথের করা বলটি ওয়েডের ব্যাট ফাঁকি দিয়ে প্যাডে লাগে। আম্পায়ারের সহজ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিলেও কোন লাভ হয় না। ৩১ বলে ৮ রানই করতে পেরেছেন তিনি। ওয়েড ফেরার পর ম্যাক্সওয়েলও থাকতে পারননি। মেহেদির ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে দারুন টার্ন আর বাউঞ্চ বুঝতে পারেন নি তিনি। ব্যাটের কোনায় লেগে প্যাড হয়ে মুশফিকের হাতে চলে যায়। আরেকটি দারুন কিপিং ক্যাচে অজিদের আরেকটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। ৯৮ বলে ৩৮ রান করে ফেরেছিলেন ম্যাক্সওয়েল।

এরপর মাঠে আসে অ্যাসটন অ্যাগার ও প্যাট কামিন্স। মাঠে নেমে অ্যাগার হয়তো ভুলেই গেছেন তিনি টেস্ট নাকি টি২০ খেলতে নেমেছেন। মুস্তাফিজের এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মেরে রানের চাকা আবার সচল করেন। তবে কিছুক্ষনের মধ্যেই কামিন্সকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান মেহেদি।

অস্ট্রেলিয়া এখন পর্যন্ত ৬০ রানে এগিয়ে আছে। ১১০ ওভারে শেষে ৮ উইকেটে ৩৬৫ রান করেছে অজিরা। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদি ও মুস্তাফিজ নিয়েছেন ৩টি করো উইকেট।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।