প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » মুশফিকের সাথে চলে গেল শেষ আশাও!

মুশফিকের সাথে চলে গেল শেষ আশাও!

প্রকাশ : ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭২:৪৫:১৭ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ] সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

সকালে প্রথম ওভারেই লায়নকে ফিরিয়ে অজি ইনিংস শেষ করেন মুস্তাফিজ। ম্যাচ তখনো বাংলাদেশের হাতে। চাপ ছাড়াই মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে মাঠে নামলেন সৌম-তামিম। কিন্তু যেখানে চাপে পরার কথা অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের, সেখানে সেচ্ছায় চাপ নিয়ে একের পর এক ভুল করে বিপর্যয়ে বাংলাদেশ।

৫ম ওভারেই আঘাত করেন প্যাট কামিন্স। দারুন বোলিং শিল্পে সৌমকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান। এরপর সবচেয়ে বড় ভুল করে বসেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান তামিম। লায়নের বলটি আক্রমনাত্নক হয়ে সামনে এগিয়ে খেলার প্রচেস্টা। ব্যাটে বল লাগল না চলে গেল কিপার ওয়েডের হাতে। তামিম যতক্ষনে নিজ স্থানে যাবার চেস্টা চালাচ্ছেন ততক্ষনে উইকেট ভেঙ্গে দিয়েছেন ওয়েড। আবার তিনে নামলেন কায়েস, আরেকটি ব্যার্থ ইনিংস! লায়নের বলে অযথা খোঁচা মারলেন। বল সোঁজা ম্যাক্সওয়েলের হাতে। দলীয় ৩৭ রানে ব্যাক্তিগত ১৫ রান করে ফেরেন ইমরুল কায়েস। ডান-বাম কম্বিনেশন মিলাতে এরপর মাঠে আলেন নাসির। ঘরোয়া ম্যাচগুলোতে চারে নামলেও এবার একদম ব্যার্থ তিনি। ও’কিফের বলে ব্যাট চালালেন। ব্যাটে ছোয়া লেগে স্লিপে স্মিথের হাতে। তার আগেই সাকিবের গুরুত্বপূর্ন উইকেটটি তুলে নিয়েছিলেন সেই লায়ন। ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন হাপিত্যেশ করছে। তখন সাব্বির-মুশফিকের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং। এভাবেই লাঞ্চ ব্রেকে যায় সবাই।

সাব্বির নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং লাঞ্চের আগেই ছিল। লাঞ্চের পরে একের পর এক বিপদকে কাছে ডাকতে শুরু করলেন। সুইপ আর সামনে এগিয়ে মারার চেস্টা করতে থাকলেন। যেখানে একটা ভাল পার্টনারশিপ আর বড় রান করা প্রয়োজন, যেখানে প্রয়োজনে একটি দায়িত্বশিল ইনিংস। সেখানে এতটা আক্রমনাত্নক হবার কারন সাব্বির নিজেই হয়তো বলতে পারবেন। বারবার ব্যার্থ হয়েও চেস্টা করেই যাচ্ছেন। একের পর এক জীবন পেলেন। তাও নিজেকে থামাতে পরালেন না সাব্বির। তামিমের মত সেই লায়নের বলেই সামনে এগিয়ে মারার চেস্টা। আরেকটি স্টাম্প আউট। দলীয় ৯৭ রানে সাব্বিরের বিদায়ের পর বাংলাদেশের শেষ আশা মুশফিক-মমিনুল জুটিতে। তবে সেই আশা বেশিক্ষন থাকল না। ৫৩তম ওভারে কামিন্সের বলে কিপারকে ক্যাচ দিলেন অধিনায়ক মুশফিক। তার সাথে সাথে যেন শেষ হয়ে গেল সব স্বপ্ন।

মেহেদি-মমিনুল জুটিতে একটু আশা জাগলেও তা শেষ হয়ে গেল মমিনুলের বিদায়ে। লায়নের বলে কাট করতে গিয়ে কামিন্সকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এই উইকেট দিয়ে নিজের ৫ম উইকেট তুলে নিলেন লায়ন। দুই টেস্টের সিরিজে অস্ট্রেলীয় বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এত দিন দখলে রেখেছিলেন জেজে ফেরিস। এই সিরিজে ২০ উইকেট নিয়ে ১৩০ বছরের পুরোনো একটি রেকর্ডও লায়নের।

মাঠে এখন অলরাউন্ডার মিরাজের সাথে আছেন তাইজুল। এই জুটির পর আছেন মুস্তাফিজ। তাই তাইজুল-মিরাজকেই কিছু করে দেখাতে হবে। ৬০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রানে বাংলাদেশ। শেষ খবর পর্যন্ত ৭৭ রানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। যতটা সম্ভব বেশি রানের টার্গেট দেয়ার চেস্টাই করবে মেহেদি-তাইজুল।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।