প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » তিন দায়িত্বের চাপে মুশফিক! 

তিন দায়িত্বের চাপে মুশফিক! 

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান, বাংলাদেশর সেরা উইকেট-কিপার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে টেস্টের সেরা অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তাই এই তিন ভূমিকায়ই বাংলাদেশের হয়ে মাঠে লড়াই করেন মুশি। মিস্টার ডিপেন্ডেবলের ওপর তাই বাংলাদেশকে অনেকটাই ভরসা করতে হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে কোচ ও নির্বাচকদের পরিকল্পার কারনে দ্বিধায় পরতে হয় তাকে। কখনও দলের প্রয়োজনের কথা বলে কিপিং ছেড়ে ব্যাটিংয়ে মন দিতে বলা হয় আবার কখনও মুশিই হয়ে ওঠেন কিপিংয়ের একমাত্র ভরসা। তাই তিনি নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না তার ভূমিকা কি হতে চলেছে। তবে এতদিন ধরে বাংলাদেশের হয়ে খেলে যাওয়া মুশফিক দেশের জন্য লড়াই করে যেতে চান। তা যেভাবেই হোক।

তার নিজের কন্ঠে, ” এটাতো আসলে আমার ইচ্ছাতে হচ্ছে না। আমি যে শ্রীলঙ্কাতে কিপিং করিনি এটাও আমার ইচ্ছাতে ছিল না। আমার কিপিংয়ে কখনোই আপত্তি ছিল না। আমি বার বার বলেছি এখানে আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে ৪০-৫০ বছর খেলব না, হয়তো ৫-৬ বছর খেলবো। আমি চেষ্টা করি আমার দলের জন্য যতটুকু সম্ভব সেরাটা দেওয়ার। সেখানে অধিনায়কত্ব না থাকলেও আমার কোন সমস্যা নেই। আবার ধরেন কিপিং না থাকলেও সমস্যা নেই। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে অনুভব করি আমি শতভাগ দিতে পারছি কিনা। এখন যদি বলে তোমাকে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে শতভাগ দিতে হবে তাতেও আমি রাজী। আমার মনে হয় উপরে যারা আছেন তাদেরকে এই প্রশ্নটা করা বেটার। সেক্ষেত্রে আমিও আমার দিক থেকে পরিষ্কার হয়ে যাই।”

নিজের ভূমিকার ওপর নিজের কোন নিয়ন্ত্রনই নেই বলে তার দাবি। চট্রগ্রাম ম্যাচে ডান-বাম কম্বিনেশন মিলাতে নাসিরকে চারে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি নিজে কেন গেলেন না? সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “১২০ ওভার কিপিং করার পর যদি গিয়ে আবার চার নম্বরে ব্যাটিং করতে হয় তাহলে আমি বলবো এটা আমার একার দায়িত্ব নয়। শুধুমাত্র অধিনায়ক হিসেবেই নয়, প্রত্যেকটা প্লেয়ারেরই একটা ক্রাইটেরিয়া থাকে খেলার। টেস্টে এমনটা হতে পারে না যে আপনি আগে ব্যাটিং পেলে চারে খেলবেন কিংবা পরে ব্যাটিং পেলে আপনি ছয়ে খেলবেন। এরকমটা আসলে বিশ্বক্রিকেটে খুব কমই আছে। আমার জন্যও অনেক চ্যালেঞ্জিং। এটা হয়তো প্রত্যেক টেস্টে আমার জন্য হবে না, হয়তো বা একটা-দুইটা টেস্টে আপনি ঝুঁকি নিতে পারেন, সেখানে নাও ক্লিক করতে পারে।”

দেশের জন্য এতদিন খেলেছেন সামনেও যতটা পারবেন দেশের জন্য খেলে যাবেন। যখন যেভাবে প্রয়োজন দলের জন্য অবদান রেখে যেতে চান মুশি। কিন্তু তার ভূমিকা নিয়ে কোচ আর নির্বাচকদের হস্তক্ষেপও যে বেশি একটা পছন্দ করছেন না তা পরিস্কার। বিসিবি পরিচালক আকরাম খান অবশ্য সিদ্বান্তটা মুশফিককে নিতেই বলেছেন। আজ কালই পেস আক্রমনের কথা মাথায় রেখে দল ঘোষনা করবে নির্বাচকরা। সেখানে মুশফিকের ভূমিকা কেমন হবে তা সময়ই বলে দেবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।