প্রচ্ছদ » সাইন্স ভিউ » বিজ্ঞান ফিচার » জ্বলন্ত ব্রুন -পর্ব- এক

জ্বলন্ত ব্রুন -পর্ব- এক

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭৮:৫১:০৭ অপরাহ্ন

 আবদুল্লাহ আল মামুন  | বাংলা ইনিশিয়েটর

আমি সে সময়ের কথা বলছি তখন আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্বটা ছিল খুব খুব খুব ছোট।  না আমি বলছিনা এটা দিনদিন প্রসারন হচ্ছে বলে ছোট ছিলো বললাম। বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বা কসমস ছিল শুধুই খালি চোখে দেখা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।

কেবলমাত্র একজন ছিলেন যিনি মহাবিশ্বকে অসীম হিসাবে দেখেছিলেন এবং তিনি কিভাবে পার করছিলেন নববর্ষের সন্ধ্যা? ১৬০০ সাল…কোথায় আবার,জেলখানায় !! অবশ্যই জেলখানাই যেন তার প্রাপ্য ছিলো।

ষোলশো শতাব্দীর কথা। সেসময়ের মানুষের জগত টা ছোট ছিল কারন বিশ্বাস করত হতো খালি চোখে দেখা মহাবিশ্বই ছিল সব।এটা নিশ্চিত ছিল যে পৃথিবী  স্থির এবং স্বর্গ, সূর্য, চাঁদ, তারা, গ্রহ আমাদের ঘিরে আছে। এবং এ জগৎ ক্ষুদ্র সসীম।

তখন একজন পোলিশ জোতির্বিদ এবং প্রিস্ট কোপার্নিকাস একটি মৌলিক প্রস্তাবনা দেন যে

“পৃথিবী কেন্দ্রে না,এটা অন্যসকল গ্রহের মতই, তাদের মতই সূর্যকে ঘিরে আছে।”এই চিন্তা বাইবেলের জন্য অপমানস্বরুপ। তারা বিধ্বংসী হয়ে উঠে।কর্পোনিকাসের ধারনা চাপা পরে যায়। কিন্তু একটা মানুষের জন্য কোপার্নিকাসের মতগুলি হারিয়ে যেতে হয় নাই । তার নাম ছিল ব্রুনো!পুরো নাম জিওনার্ড ব্রুনো।

সে যেনো  বেচে ছিল এই আবদ্ধ  সসীম ক্ষুদ্র জগতের আসল রুপকে প্রকাশ করতে। তাই একজন নেপালীয় সন্ন্যাসী হিসেবে সে ছিল অযোগ্য।  ব্রুন এর সময়ে ইটালিতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। কিন্তু সে ছিল অত্যন্ত আগ্রহী সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির ব্যাপারে জানতে। সে চার্চ কর্তৃক নিষিদ্ধ বইগুলো পড়ার সাহস করেছিল।

একদিন রাতের অন্ধকারে সে চার্চের গোপন কক্ষে প্রাচীন নিষিদ্ধ বইগুলো সিলিংয়ের উপর থেকে নামিয়ে পড়া শুরু করে যাতে ছিল অসীম মহাবিশ্বের ধারণা। এক প্রাচীন রোমান যে ১৫০০ বছর আগে মারা গিয়েছে তার বইটি ছিল নিষিদ্ধ বই যা সেই রাতে ব্রুনো পড়েছিল। লুক্রেটাস সেই রোমান লেখক। তিনি তার বইয়ে পাঠককে একটি থট এক্সপেরিমেন্ট করান। চলুন আপনারাও এই থট এক্সপেরিমেন্ট করবেন।

ধরুন আপনি সসীম মহাবিশ্বের কিনারায় দাড়িয়ে তীর ছুড়ে মারলেন এবং তীরটা যেতেই থাকে তবে  বুঝতে হবে মহাবিশ্ব প্রসারণশীল কিন্তু দেখা যাবে সেটা কোনো দেয়ালে আটকালো। যদি ধরে নিই এটাই শেষ দেয়াল তবে সে দেয়ালে দাড়িয়ে আবার তীর ছুড়লে সেটা কোথায় যাবে? নিশ্চয় বেশ কিছু দূর গিয়ে আবারো…..চলতেই থাকবে, কারণ মহাবিশ্ব সীমাহীন। এ পরীক্ষাটাই ব্রুনোর মনকে আলোড়িত করে। সে যে মানতেই পারতোনা সীমাহীন প্রভুর সৃষ্টি সসীম। এক্সপেরিমেন্টের শেষ পর্যায় খুলে যায় চার্চের গোপন কক্ষের দরজা।  চার্চের প্রধানরা তাকে শহর থেকে বিতারিত করবে বলে সিদ্ধান্ত নেন।

এ সময়টা  ঘর ছাড়া শহর ছাড়া  হোন  ব্রুন  তাকে বের করে দেয়া হয় তার শহর থেকে। থাকতো বনে আর ছিলো ভবঘুরেদের মত ।

সে তার  সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলো।ব্রুনোর বয়স ৩০ বছর,তার একটা কল্পনা ছিল ( অসীম মহাবিশ্বের ধারনা কল্পনার মতই ছিলো সে সময়  ) যার জন্য ভাগ্যকে সে ছেড়ে দিয়েছিল, স্বপ্নে সে একটা জগতে জেগে উঠল। তারায় পরিপূর্ণ সীমাবদ্ধ একটা বাটি দ্বারা ঢাকা  ব্রুনোর সময়ে এটাই ছিল বিশ্বভ্রম্মান্ড। ব্রুন যেন সেই বাটি টা ভেঙ্গে দিলো । সে ছিলো অসহায় কিন্তু সে নিজেকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করতো নানা ভাবে। সে তার কল্পনার রাজ্যে পাখা মেলতো

” আমি মহাবিশ্বে আমার পাখাকে সম্প্রসারণ করলাম
এবং অসীমের পানের যেতে থাকলাম,
আমার আশেপাশের সব কিছু ছেড়ে
দূর থেকে যেগুলোকে দেখতে এলোমেলো লাগছিল।
এখানেই,
যেখানে কোন উপর, নিচ কিংবা সীমানা নেই
নেই কোন কেন্দ্র
আমি দেখেছিলাম যে, সূর্যটাও আরেকটা তারা
এবং তারাগুলো ছিল অন্যান্যসব সূর্য,
প্রত্যেকেই সবগুলো পৃথিবীর জন্য প্রহরীর মত ছিল
আমাদের মতই।”

এমনি যেন তার কল্পনা।  তার এ কল্পনা যে নিছক কল্পনা না নয় তা বুঝতে আরো  পাচশো বছর পর সময় নেয় মানুষ। অসীমতার বিষয়টা উদঘাটন অনেকটা প্রেমে পরার মতই। ব্রুনো যেনো একজন ধর্মপ্রচারক হয়ে উঠে, অসীমতার সব অকাট্য সত্য কথা ইউরোপের সর্বত্র ছড়াতে থাকে সে। ভবঘুরে  হয়ে যেন আরো সে সাহস-ই পেলো। সে মনে করেছিলো অন্যান্য প্রভুর  ( ধর্মের) প্রেমিকরা মহৎ ; তারা স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করবে। পরে জেলখানায়  ব্রুন নিজেকে বলছিলো “ কী বোকাই না ছিলাম আমি”। কেবল কারাবাস ব্রুন এর নিয়তি তে ছিলো না …ব্রুন এর বাকী গল্পখানা আগামী সপ্তাহের জন্য তোলা থাক !

টাইসনের কসমসের আমাকে যে গল্পটি সবচে আঘাত করেছিল,সে গল্পটার গদ্‌য রুপ দিলাম ,গল্প হলেও সত্যি । এটা মোটেও মৌলিক লেখা নয়, স্রেফ আপনাদের জন্য লেখা।  ব্রুনের কাহানী  শেষ করে আমি সেই কাহানিও বলব যে কি করে প্রতিষ্ঠিত হয় যে সূর্য কেন্দ্র না…প্রায়  ২০০ বছরের  কাহানী। সাথেই থাকুন

</div<

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।