প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » শরতের শরৎ!

শরতের শরৎ!

খাতুনে জান্নাত । বাংলা ইনিশিয়েটর
বর্ষা শেষ। শরতের স্নিগ্ধ হাওয়া বইছে চারদিকে। সুন্দর ঝলমলে আকাশ, কাশফুল দোলা, তার সাথে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি মনটাই ভালো করে দেয় এসময়। তবে আমি কিন্তু আজ এই শরতের কথা বলতে আসিনি। আমি বলতে এসেছি শরৎকালে জন্মানো এক শরতের কথা, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। আমাদের ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’-র কথা!

১৮৭৬ সালে আজকের দিনে জন্মেছিলেন তিনি। জানি না মা-বাবা ছেলেকে নিয়ে কী ভেবেছিলেন, কী স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে তারা বোধহয় ভাবতে পারেন নি যে তাদের ছেলে এত চমৎকার মানসিকতার মানুষ হিসেবে তৈরি হবে। তিনি নিজেও কি ভেবেছিলেন?

শরতের লেখার ধরণ, কাহিনী বর্ণনা, চরিত্র তৈরি – সবকিছুই এত সূক্ষ্ম আর অসাধারণভাবে করা হয় যে পাঠক প্রতিটি লেখায় নিজেকে আবিষ্কার করে। কাহিনীগুলো এতটাই হৃদয়স্পর্শী, যেটা প্রায় সমকালীন অনেক লেখকের লেখায়ই পাওয়া যায় না।

একজন লেখকের ভাবনার প্রতিফলন ঘটে তার লেখায়। শরতের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই তাই হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি শরতের মানসিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের ‘কিরণময়ী’ চরিত্রটি আমাকে অনেক ভাবিয়েছে। কিরণময়ীর কথা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শরৎচন্দ্র কীভাবে দিলেন তা কিছুতেই বুঝতে পারছি না। বিংশ শতাব্দীর একজন লেখকের কাছ থেকে আসলে এতটা আশাই করি নি! সে যতটুকু ভাবতে পেরেছে খুব সম্ভবত আজ একবিংশ শতাব্দীর অতি উন্নত অনেক মানুষও ততটুকু ভাবতে পারে না।

শরৎচন্দ্রের অমর উপন্যাস ‘দেবদাস’ এতটাই হৃদয়স্পর্শী যে মানুষ আজও প্রেমের ক্ষেত্রে দেবদাস শব্দটা ব্যবহার করে। সে সময়কার খুব কম লেখকের খুব কম চরিত্রই বোধহয় আজও মানুষের মুখে মুখে রয়ে গিয়েছে।

দেবদাস নিয়ে একটা মজার কথা আছে। দেবদাস লিখে অনেকদিন লেখক সেটা ট্রাঙ্কে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কারণ লেখাটা নিন্মমানের (!) হয়েছে। বহু বছর পর লেখাটা প্রকাশিত হয়। তারপরই সৃষ্টি হয় বাংলা সাহিত্যে এক অমর কাহিনী, এক অমর চরিত্র।

ভালোবাসাকে লেখকের প্রায় সব উপন্যাসেই ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা যায়। তার দেখার দিকের সাথে আর কারও দেখার দিকেরই মিল পাওয়া যায় না। শরতের প্রতিটি লেখা পড়লেই বোঝা যায় যে তিনি একজন ভাবুক মানুষ ছিলেন। বিষয়গুলো নিয়ে তিনি নিজে অনেক ভেবেছেন। আর নিজের ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তার লেখায়।

১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৬১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার বোধহয় আরেকটু বেঁচে থাকার দরকার ছিল। আরও কয়েকটা শরৎ দেখে যাওয়া দরকার ছিল, অন্তত আরও কিছু অমর কাজ করে যাওয়ার জন্য হলেও।
শুভ জন্মদিন প্রিয় লেখক! আপনি বেঁচে থাকবেন আজীবন;মিশে থাকবেন আপনার লেখায়, আপনার তৈরি চরিত্রে আর শরতের খোলা হাওয়ায়!

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।