প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » কিংবদন্তি সালমান শাহের ৪৬তম জন্মবার্ষিকী আজ!

কিংবদন্তি সালমান শাহের ৪৬তম জন্মবার্ষিকী আজ!

সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, রোজ মঙ্গলবার । ১৯৭১ সালের এই দিনেই বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহ পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হন। তিনি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় তার নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। তাঁর জন্মনাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন হলেও চলচ্চিত্র জীবনে তিনি সবার কাছে ‘সালমান শাহ’ বলেই বড্ড পরিচিত । ১৯৭১ থেকে ১৯৯৬ মাত্র ২৫ বছরের জীবন। ক্ষণজন্মা অথচ কী বিস্তৃত প্রভাব। তখনও যেমন, ততোধিক উজ্জ্বল এখনও। বৃশ্চিক রাশির অধিকারী এ অভিনেতা উচ্চতায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি।

সালমান পড়াশুনা করেন খুলনার বয়রা মডেল হাইস্কুলে। একই স্কুলে চিত্রনায়িকা মৌসুমী দুই ক্লাস তার সহপাঠী ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকার ধানমন্ডি আরব মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। পরে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বিকম পাস করেন।

১৯৮৫/৮৬ সালের দিকে হানিফ সংকেতের গ্রন্থনায় ‘কথার কথা’ নামের একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান প্রচার হতো। এর কোনও একটি পর্বে ‘নামটি ছিল তার অপূর্ব’ নামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও পরিবেশিত হয়। হানিফ সংকেতের কন্ঠে গাওয়া এই মিউজিক ভিডিওতে মডেল হওয়ার মাধ্যমেই সালমান শাহ মিডিয়াতে প্রথম সবার নজর কাড়েন।

গায়ক হিসেবেও সালমানের বেশ পরিচিতি ছিল। ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি দারুণ আগ্রহ ছিল তার। বন্ধুমহলে সবাই তাকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চিনতেন। ১৯৮৬ সালে ছায়ানট থেকে পল্লীগীতিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি।

আরও কয়েক বছর পর প্রয়াত নাট্যজন আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রযোজনায় ‘পাথর সময়’ ধারাবাহিক নাটকে একটি ছোট চরিত্র এবং কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেও কাজ করেছিলেন। টেলিভিশন নাটক দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু হলেও রূপালি পর্দায় সালমান সাম্রাজ্যের সূচনা হয় ৯০ দশকের শুরুর দিকে। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” মুক্তি পায়। একই ছবিতে নায়িকা মৌসুমী ও গায়ক আগুনের অভিষেক হয়। জনপ্রিয় এই নায়ক নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশে সাড়া জাগানো অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

মাত্র চার বছরে তিনি সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সবকয়টিই ছিল ব্যবসাসফল। তার অভিনিত সর্বাধিক ছবির নায়িকা ছিলেন শাবনূর (১৪টি)। মিল্ক ভিটা, জাগুরার কেডস, গোল্ড স্টার টি, কোকাকোলা, ফানতাসহ বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে দেখা মিলে সালমানের। তার শেষ ছবি: বুকের ভেতর আগুন। ধারাবাহিক নাটক: পাথর সময় এবং ইতিকথা
একক নাটক: আকাশ ছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন, স্বপ্নের পৃথিবী।

তাকে বলা হয় ৯০ দশকের শ্রেষ্ঠ নায়ক। সালমান শাহ-পরবর্তী সময়ে যারা চলচ্চিত্রে নায়ক হওয়ার জন্য এসেছেন তারা প্রত্যেকেই বলেছেন- সালমান শাহ-ই ছিলেন তাদের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস।

প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ থেকেই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। এতটা জায়গা নায়করাজ রাজ্জাক-পরবর্তী সময়ে কেউ নিতে পারেননি। হয়তো অল্প সময়ের জন্য এসেছিলেন বলেই এত দ্যুতি ছড়াতে পেরেছিলেন, কেটে গেছেন দাগ। যে দাগটা তার প্রস্থানের টানা ২১ বছর পরেও এতটা জ্বলজ্বলে।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আসার আগেই ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট প্রেম করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন চট্টগ্রামের মেয়ে তার মায়ের বান্ধবীর মেয়ে সামিরার সঙ্গে ।

কিংবদন্তি এ নায়কের মৃত্যু হয় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ।অকালে রহস্যজনক ভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। অভিযোগ উঠে যে, তাকে হত্যা করা হয়; কিন্তু তার সিলিং ফ্যানে ফাঁসিতে হত্যাকান্ডের কোনো আইনী সুরাহা শেষ পর্যন্ত হয়নি।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।