প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » টাইগারদের হাত ধরেই আইসিসির নতুন নিয়মের সাথে পরিচিত হতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব

টাইগারদের হাত ধরেই আইসিসির নতুন নিয়মের সাথে পরিচিত হতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

ক্রিকেটকে আধুনিক থেকে আধুনিকতর করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে আইসিসি। আগামি ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ বনাম দক্ষিন আফ্রিকা টেস্ট দিয়েই নতুন নিয়ম মাঠে গড়াবে। চলুন যেনে নেই আগামি বৃহস্পতিবার কোন নিয়মগুলোর সাথে পরিচিত হতে চলেছি আমরা:-

ব্যাটের আকার

দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যাটের ধার বা এজের আকার পরিবর্তন করা চিকন অংশের পুরুত্ব ৪০ মিলিমিটার ও মোটা অংশের পুরুত্ব সর্বোচ্চ ৬৭ মিলিমিটার হবে। তা না হলে ব্যাট অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। আম্পায়ারের কাছে ব্যাট পরিমাপক থাকবে, যা দিয়ে ব্যাটের বৈধতা নিশ্চিত করা হবে।

নিরাপদ স্টাম্প

স্টাম্প বা উইকেটে বল লাগল তা ব্যাটসম্যানকে যেভাবে বিদায় জানায় পাশাপাশি উইকেট রক্ষর কিংবা ফিল্ডারদের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠে। অনেক সময় কাঠের বেইল উড়ে গিয়ে ফিল্ডার ও উইকেট রক্ষককে আঘাত করে। তাই বেইলের সাথে সুতা বা দড়ি দিয়ে আটকে রাখা হবে। তবে এতে আগের মতই ডিসলজ হওয়ার ক্ষমতা থাকবে। এক্ষেত্রে কোন বাধ্যতা আরোপ করেনি আইসিসি। স্বাগতিক বোর্ডের ইচ্ছার অপর নির্ভর করে এ ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত খেলোয়াড়

অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে আগে ৪ জনের নাম দেওয়া গেলেও এখন দেয়া যাবে ৬ জনের।

বোলারের কোটা

সাধারন ম্যাচের সীমাবদ্ধতা অনুযায়ি সর্বনিম্ন পাঁচজন বোলার ব্যবহার করা যায় এমনভাহে সীমাবদ্ধতা করে দেয়া হয়েছে। যা বিঘ্নিত ম্যাচেও অনুসরন করা হয়। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ি কোনও ইনিংস যদি ১০ ওভারের নিচে নেমে আসে, তাহলে একজন বোলারের সর্বোচ্চ ওভার বোলিংয়ের কোঠা ২ ওভারের কম হবে না। মানে কোনও টি-টোয়েন্টি ইনিংস যদি ৫ ওভারে নেমে আসে, তাহলে কমপক্ষে দুইজন বোলার দুই ওভার করে বোলিং করতে পারবেন।

বিরতি

উইকেট পড়ার দুই মিনিটের মধ্যে বিরতি থাকলে তা এতদিন নিয়ে নেয়া হতো। নতুন নিয়ম অনুযায়ি উইকেট পতনের তিন মিনিটের মধ্যে কোন বিরতি থাকলেও তা নিয়ে নেওয়া হবে।

লস্ট বল এখন ডেড বল

‘লস্ট বল’ এখন ডেড বলে অন্তর্ভুক্ত হবে। ‘লস্ট বল’ নামটা বাদ দেয়া হয়েছে।

বাউন্ডারি…..! সাবধান

বাউন্ডারিতে বল আটকানোরত অবস্থায় থাকা কোনও ফিল্ডার শূন্যে থাকলে বলের সঙ্গে সংস্পর্শের পর বাউন্ডারির ভেতরে নামতে হবে, তা না হলে বাউন্ডারি ধরা হবে। বলের সংস্পর্শে থাকা কোনও ফিল্ডার যদি বাউন্ডারির বাইরে যায়, সে যেই হোক বলের সংস্পর্শে আসার পর বাইরে যেতে পারবে না। গেলেই বাউন্ডারি।

নতুন নো বল

বল একাধিকবার বাউন্স করলেই নো বল। আগে যা ছিল দুইয়ের অধিক। পিচের বাইরে বল পরলে এবং ব্যাটসম্যান পর্যন্ত বল পৌছানোর আগে ফিল্ডা বাধা দিলেও নো বল হবে।

অতিরিক্ত রান নো বলে নয়

আগে নো বলে হওয়া বাই এবং লেগবাইয়ের মত অতিরিক্ত রানগুলো নো বল ধরা হত। ফল তা বোলারের খাতায় যুক্ত হত। তবে এখন থেকে তা অতিরিক্ত রানে যোগ করা হবে। বোলারের খাতায় শুধু নো বলটি যোগ করা হবে।

হেলমেটও ফিল্ডার

কোনও ক্যাচ ফিল্ডার বা উইকেটকিপারের হেলমেটে লেগে উঠলেও তা ধরা হলে ক্যাচ অর্থাৎ আউট বলে গন্য হবে। আগে এক্ষেত্রে বল ডেড বলে গণ্য করা হতো। একই কথা স্টাম্পড বা রান-আউটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

ক্যাচ করে ভেতরে থাকতে হবে

বলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ফিল্ডারকে অবশ্যই সীমানার ভেতরে মাটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে ক্যাচের জন্য। শেষবার বলকে স্পর্শ করার সময়ও তাকে বাউন্ডারির ভেতরেই থাকতে হবে।

রান-আউট

অনেক সময় ব্যাটসম্যান পপিং ক্রিজে ভেতরে স্পর্শ করার পরেও আউট হয়ে যায়। কারন বিপক্ষ দল যখন উইকেট ভাঙ্গে তখন ব্যাটসম্যান পপিং ক্রিজের সংস্পর্শে থাকতে ব্যার্থ হয়। এখন আর তা হবে না। ব্যাটসম্যান একবার পপিং ক্রিজ একবার স্পর্শ করার পর আর আউট হবে না।স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ব্যাটসম্যান ফিরিয়ে আনা

একজন ব্যাটসম্যান আউটের পর পরবর্তী বলে আগে যখন ইচ্ছা তাকে ফেরত আনতে পারবে আম্পায়ার। আগে নিয়ম ছিল ব্যাটসম্যান মাঠ ত্যাগ করলে তাকে আর ফেরত আনা যাবে না।

হ্যান্ডলড দ্য বল এখন অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড

‘হ্যান্ডলড দ্য বল’ নামের আউটটি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। হাত দিয়ে কোনও ব্যাটসম্যান বল ঠেকালে তা এখন ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’-এর আওতায় পড়বে।

ক্রিকেটে লাল কার্ড

সর্বোচ্চ পর্যায়ের গুরুতর আচরণ ‘লেভেল ফোর’ অপরাধের ক্ষেত্রে আম্পায়ার চাইলেই যে কোন খেলোয়ারকে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবেন। তবে এর নিচের সকল আচরণগত অপরাধ আইসিসির কোড অব কন্ডাক্টের আওতাতেই থাকবে।

রিভিউ

আম্পায়ারস কলের কারনে রিভিউ সফল না হলেও রিভিউ বাতিল হবে না। টেস্টে ৮০ ওভার পর যে নতুন রিভিউ যুক্ত হতো, তা এখন আর হবে না। ফলে দুটি অসফল রিভিই হলেই রিভিউ কোটা শেষ হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ি টি-টোয়েন্টিতেও রিভিউ ব্যবহার করা যাবে, প্রতি ইনিংসে একটি করে রিভিউ থাকবে।

আনফেয়ার প্লে = পেনাল্টি

ক) ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাটসম্যানকে ধোঁকা দেয়ার চেস্টা করলে বা মক ফিল্ডিং করলে খেলোয়ারকে পেনাল্টি করা হবে।

খ) ইচ্ছাকৃতভাবে নো বল করা হলে তাহলে পেনাল্টি করা হবে। আম্পায়ার যদি মনে করেন নো বলটি ইচ্ছাকৃকভাবে করেছে তাহলে বোলারকে বাকি ইনিংসে বোলিং থেকে সরিয়ে নেয়া হবে।

গ) বোলিং করার সময় ব্যাটসম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে পপিং ক্রিজের বাইরে এসে স্ট্রাইক নেওয়ার চেস্টা করলে তার বিরুদ্ধে পেনাল্ট হবে।

ঘ) অন্যায্য বলে মনে হয়, এমন যেকোন আচরণ যা আইনেও নেই, সেক্ষেত্রেও আম্পায়ার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আম্পায়ারকে মাঠের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।