প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে পেসারদের অগ্নিপরীক্ষা!

গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে পেসারদের অগ্নিপরীক্ষা!

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

কয়েক বছর ধরেই সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক ভাল পারফর্মেন্স করছে টাইগাররা। আর সেই পারফর্মেন্স বলতে আসলে পেসারদের ভাল পারফর্মেন্সই মূল চাবিকাঠি। কিন্তু সাদা পোশাকে বরাবরই বিবর্ন লাগছে মুস্তাফিজ-তাসকিনদের। ইংল্যান্ড, শ্রিলংকা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে সাফল্য এসেছে তা যে শুধু স্পিনারদের হাত ধরেই। মিরাজ-সাকিবদের ছাড়া টেস্টে ভাল কিছু করার কথা ভাবাও যাচ্ছে না।

গত ২০টি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলাররা ১২৩টি উইকেট শিকার করেছে। যার মধ্যে ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ ৮০টিই পেসাররা নিয়েছেন। বাকি ৪৩টি নিয়েছেন স্পিনাররা। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বেশি উইকেট নেয়া বোলারদের তালিকায় শীর্ষ তিনজনই পেসার। ইকোনমিতে যদিও স্পিনাররা এগিয়ে তবে পার্থক্য খুব বেশি নয়। ৫.২৩ স্পিনারদের ইকোনমি আর পেসারদের ইকোনমি ৫.৪২। কোর্টনি ওয়ালস কে বোলিং কোচের দায়িত্ব দেয়ার পর সংক্ষিপ্ত ফরমেটে ভাল পারফর্মেন্স দেখিয়েছে পেসাররা। কিন্তু টেস্টের চিত্রটা যে পুরোপুরি উল্টো। ওয়ালশ আসার পর যে ৯ টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ, তার মধ্যে ১৩৭টি উইকেটের মধ্যে ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০৪টিই স্পিনাররা তুলেছেন। আর পেসাররা মাত্র ৩৩টি উইকেট পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি উইকেট সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষে মিরাজ এরপর রয়েছেন সাকিব ও তাইজুল। পার্থক্যটা ইকোনোমিতেও। স্পিনারদের ইকোনমি ৩.২১ আর পেসারদের ৩.৮৬। স্পিনাররা ৫ উইকেট পেয়েছে ছয়বার আর ১০ উইকেট দুবার। সেখানে মুস্তাফিজরা ৫ উইকেটের কোটাই একবারও পার করতে পারে নি।

তবে একদিক দিয়ে ভাবলে আবার কিছুটা সমিহ করার সুযোগ থাকছে। উপমাহাদেশের কন্ডিশন তো স্পিনের রাজত্ব। তাই এখানে পেসারদের ভাল করার সুযোগ থাকে না। শেষবার উপমহাদেশের বাহিরে নিউজিল্যান্ডে খেলেছে টাইগাররা। সেখানে পেসারদের পারফর্মেন্স অবশ্য খুব একটা খারাপ ছিল না। তাই দক্ষিন আফ্রিকার গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে কেমন করে টাইগার পেসাররা সেটা দেখার বিষয়। বাংলাদেশের পেস বিভাগও যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হচ্ছে। অভিজ্ঞ রুবেল-শফিউলের সাথে রয়েছেন তরুন মুস্তাফিজ-তাসকিন। মুস্তাফিজই মূলত মূল পেস ভরসা। অস্ট্রেলিয়া বিরুদ্ধে চট্রগ্রাম টেস্টেও ভাল কিছু করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন সাথে চোট থেকে ফেরা রুবেলও আছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনজুরি কাঁটিয়ে ফিরেছিলেন। তবে স্পিনারদের রাজত্ব তেমন কিছু করে দেখাতে পারেন নি। অভিজ্ঞতা আর প্রতিভা কোন দিক দিয়েই পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ দল। এখন শুধু মাঠের খেলাটা ভাল করার পালা। গুরু ওয়ালসও মনে করেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারলেই ভাল করা সম্ভব।

কাল সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে পোর্টিয়া-টাইগাররা।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।