প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সিদ্ধান্তটা বোর্ডকেই নিতে দিলেন মুশফিক!!

সিদ্ধান্তটা বোর্ডকেই নিতে দিলেন মুশফিক!!

প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০১৭২:৫০:৫৩ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ] সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

টেস্টে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফলতম অধিনায়কের নাম মুশফিকুর রাহিম। মাসরাফির হাত ধরে যেমন বদলে গেছে রঙিন পোশাকের বাংলাদেশ। ঠিক তেমনি মুশফিকের হাত ধরেই সাদা পোশাকে জ্বলে উঠেছে টাইগাররা। ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়ার মত টেষ্ট জায়ান্টদের হারের লজ্জা দিয়েছে মুশফিকের বাংলাদেশ। তবুও সমালোচনার তীর বারবার বিদ্ধ করেছে মুশফিকুর রাহিমকে। এতো সফলতার মাঝে ব্যার্থতার ছোয়া লাগলেই গর্জে উঠেছে সমালোচকদের কন্ঠ। তবে এবার দক্ষিন আফ্রিকা সিরিজে যা হয়েছে তা হয়ত আগে কখনই হয় নি। টসে ভূল সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে প্রেস মিটিংয়ে ড্রেসিং রুমের তথ্য ফাঁস। প্রতি কদমেই সমালোচনার মুখে মুশফিক।

এদিকে ‘মুশফিককে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে নিতে চলেছে বোর্ড’ এমন গুঞ্জনে গরম হয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরিবেশ। ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও দিয়েছেন নানা মতামত। কেউ এই সিদ্ধান্তে পক্ষে, কেউ আবার এর বিপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। অনেকে আবার ইতিমধ্যেই নতুন অধিনায়ক কে হবে তা নিয়ে চিন্তিত। এত সবের মাঝে মুশফিকও মুখ খুললেন। সমালোচনার প্রতিবাদ করেই বললেন, “আমি সব সময় নিজের সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করেছি। টিম ম্যানেজমেন্টও সেই চেষ্টা করেছে। দল ভালো করলে সব প্রশংসা পায় টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু আমরা খারাপ করলে সব দায় চাপে অধিনায়কের ওপর।”

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুন পারফর্মেন্সের পর দক্ষিন আফ্রিকায় এমন অবস্থার ব্যাখ্যাও দিলেন মুশফিক, “উপমহাদেশের অনেক দল এখানে এসে কিন্তু খারাপ খেলে। নয় বছর আগে আমরা যে দলটা এখানে এসেছিলাম, তার মধ্যে এ ম্যাচে শুধু দুজন খেলেছি, আমি ও ইমরুল কায়েস। তাই আমাদের নতুন দলের জন্য এটা কঠিন ছিল। তবে সুযোগ ছিল ভালো খেলার। বিশ্বাস ছিল, সবাই আরও ভালো করবে। কিন্তু আমাদের যে সামর্থ্য ছিল, সেটা বিশ্বকে দেখাতে পারিনি। এ জন্য একটু খারাপ লাগছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, দল হিসেবে আমরা এত খারাপ খেলেছি, এটা আসলে আমরা কখনোই আশা করিনি। অন্তত বাংলাদেশ দল থেকে আমরা কখনোই এটা আশা করিনি।”

এতটা সমালোচনার মাঝে মুশফিক নিজেই অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে দাড়াবেন কিনা? এমন প্রশ্নে মুশফিক বলেন, “কেন সরে দাঁড়াব? এটা তো ব্যক্তিগত কোনো খেলা নয়, দলীয় খেলা। অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে সব দায়ভার আমার ওপর বর্তায়। আমি সেটা মেনেও নিচ্ছি। কিন্তু একই সঙ্গে, দেশের নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য দারুণ সম্মানের। আমি সত্যিই গর্বিত। তাই এটা হবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত, কারণ সুযোগটা তাঁরা করে দিয়েছেন। পরবর্তী সিরিজের আগে হাতে বেশ সময় আছে, তাঁরা বললে ছেড়ে দেব।”

সবকিছুই বোর্ডের হাতে ছেড়ে মুশফিক দাবি করেন তিনি তার সবটুকুদিয়ে চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “এ সিদ্ধান্তের ভার বোর্ডের ওপর। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্মানটা তাঁরাই আমাকে দিয়েছেন। তাঁরা যদি সন্তুষ্ট না হন, তাহলে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সততার সঙ্গে বলছি, যা ঘটেছে প্রথম দিনের খেলা শেষে সেটাই বলার চেষ্টা করেছি। নিজের সঙ্গে সৎ থেকেছি। কেউ যদি আমার কথা কিংবা কোনো কিছুতে অসন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমার কিংবা দলের ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে তাঁদের।”

পরিস্থিতি যখন একেবারেই মুশফিকের বিরুদ্ধে তখনই সাকিব, তামিম ও মাহমুদউল্লাহদের সুযোগ চলে আসছে। নতুনদের মাঝে অধিনায়ক হবার মত কেউ নেই তাই মুশফিকের পরে এদের কেউই দায়িত্ব নিবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই টিটোয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব পেয়েছেন সাকিব। ব্যাটিং-বোলিং দুই ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা সাকিব অধিনায়কত্বের চাপ কতটা নিতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এদিকে বোর্ড কিছুদিন আগেই প্রতি ফরমেটে আলাদা অধিনায়ক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এক্ষেত্রে তামিমের সম্ভাবনাই সবচয়ে বেশি। টেস্টে বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক তামিমের আক্রমনাত্নক অধিনায়কত্ব বেশ কয়েকবার প্রশংসা পেয়েছে।

দক্ষিন আফ্রিকা সিরিজ শেষে ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে টেস্ট খেলবে টাইগাররা। এর আগেই একটা সিদ্ধান্ত নিবে বিসিবিকে। কে হবে নতুন অধিনায়ক? নাকি মুশফিকই সামলাবেন অধিনায়কের দায়িত্ব? সব প্রশ্ন জবাব শুধু সময়ই দিতে পারে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।