প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস !

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস !

সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর। দিনটিকে বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, সচেতনতার দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। দিবসটি ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছিল দিবসটি । কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালন করা হয় ।

প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয় দিনটি। আমরা শরীরের প্রতি যত যত্নশীল মনের প্রতি তত যত্নশীল নই।কিন্তু আধুনিককালে জীবনযাপনের জন্য মানসিক সুস্থতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবহেলা না করে স্বাস্থ্যের প্রতি সকলকে সচেতন করাই দিবটির মূল উদ্দেশ্য।

তাছাড়া মানসিক রোগের প্রতি প্রাচীন দৃষ্টিভঙ্গী:‌ স্বভাবতই কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রাচীন লোকেরা মানসিক রোগকে প্রেতাত্মার কীর্তি রূপে মনে করত। ভূত বলে তদের ভিত্তিহীন ধারণা, মানসিক রোগীদের আচরণকে তাদের অস্বাভাবিক ভাবা তাছাড়া বিভিন্ন ভন্ড ফকিরের প্ররোচনায় তারা বিভিন্নভাবে রোগীর স্বাস্থ্যের আরও অবণতি ঘটাতো। হিপোক্র‌্যাটসের মতে, মানসিক ক্রিয়াকলাপের মূল কেন্দ্র মস্তিষ্ক। সুতরাং মস্তিষ্ক রোগাক্রান্ত হলেই মানসিক ক্রিয়াগুলো বিকল হয়ে পড়ে ও মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়।

মানসিক রোগ ও আচরণগত সমস্যা মানসিক স্বাস্থ্যের ধারণাটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানসিক স্বাস্থ্যকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক রোগ থেকে দূরে থাকা যায়।

স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখা যায় না। স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক ও মানসিক উভয় প্রকার স্বাস্থ্যকেই বোঝায়। মানসিক স্বাস্থ্যের সুন্দর একটি সংজ্ঞা দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ব্যাঙ্কস। তাঁর মতে, ‘‌মানসিক স্বাস্থ্য বলতে ব্যক্তির যেসব আচরণ, মনোভাব অনুভূতি বোঝায়। যেগুলোর দ্বারা ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মক্ষমতা ও কার্যকারিতা, সাফল্য ও সন্তুষ্টির যাত্রা নির্ধারণ করা যায়।বর্তমানকালে সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য সুন্দর রাখার জন্য দেশ–‌বিদেশে গড়ে উঠেছে মানসিক স্বাস্থ্য আন্দোলন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী পৃথিবীজুড়ে প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছে। সংস্থার মতে, জনস্বাস্থ্য বলতে জনসাধারণের কেবল মাত্র শারীরিক স্বাস্থ্যকেই বোঝায় না, বরং শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সমান গুরুত্ব বহন করে। মানসিক রোগের চিকিৎসা করার পাশাপাশি মানসিক রোগ যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, বর্তমানের শক্তিশালী প্রচার মাধ্যমগুলোর দ্বারা ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। স্কুল, কলেজ, এমনকি উচ্চ শিক্ষিত লোকদের মধ্যেও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টির কাজ করতে হবে।

>
বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।