প্রচ্ছদ » আমাদের সাহিত্য » বই পরিচয় » বই পরিচিতিঃ সাতকাহন

বই পরিচিতিঃ সাতকাহন

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৭১২:২৭:০৮ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ]খাতুনে জান্নাত । বাংলা ইনিশিয়েটর

বইঃ সাতকাহন
লেখকঃ সমরেশ মজুমদার
মূল্যঃ ৮১০ (অখন্ড)
প্রকাশনীঃ আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
নবযুগ (বাংলাদেশ)
পৃষ্ঠাঃ ৬৫৬

 

বিংশ শতাব্দীর মাঝের দিকের সময়কার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে রচিত উপন্যাস ‘সাতকাহন’। প্রকাশের পরই উপন্যাস দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। উপন্যাসের কাহিনী দীপাবলি নামে এক মেয়েকে কেন্দ্র করে।গল্পের শুরুই হয় দীপাবলির দস্যিপনা দিয়ে। ১০ বছরের দীপাবলির দুরন্তপনায় তার মা, বাবা, ঠাকুমা অস্থির হয়ে থাকেন সারাক্ষণ। সে সময়ে এই বয়সের মেয়েরা ঘরের কাজ শিখে বিয়ের প্রস্তুতি নিতো। কিন্তু দীপার মধ্যে তার কোনো লক্ষণ তো দেখা যায়ই না, বরং সে তার দুই বন্ধু বিশু আর খোকনকে নিয়ে সারা পাড়ায় কোনো না কোন অনিষ্ট করে বেড়ায়। সেই দুরন্ত দীপার একদিন বিয়ের প্রস্তাব আসে, ওর শত অনিচ্ছাতেও মা আর ঠাকুমার জোরাজুরিতে বিয়েটা হয়েই যায়। বিয়ের বাহাত্তর ঘন্টার মধ্যে মারা যায় দীপার স্বামী। বাড়িতে ফিরে আসে দীপা।

পড়াশোনা করে অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখার সেই শুরু। ম্যাট্রিকে ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে দীপা কলেজে পড়তে যায় জলপাইগুড়িতে। থাকে হোস্টেলে। সেখানে থাকাকালীন সময়ে সে পরিচিত হয় ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের মেয়ের সঙ্গে থাকায় সে বিভিন্নরকম চরিত্রের মানুষের সম্পর্কে জানতে পারে। যেই অভিজ্ঞতা তার আগে হয় নি।

একসময় দীপা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এর মধ্যে তার জীবনে যে আর কোনো ছেলে আসে নি তা নয়, তবে তাদের সকলের থেকেই দীপা নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলো। সকলের মধ্যেই দীপা কখনো না কখনো দেখেছে স্বার্থপর এক রূপ। তাই নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকেই বেশি মনোযোগ দেয় দীপা।

এরও কয়েকবছর পর যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করে সে, তখন পরিচয় হয় এক পরিবারের সঙ্গে। পরিবারের সকলের চরিত্র, কথাবার্তা, চিন্তাধারা মুগ্ধ করে দীপাকে। সেই পরিচয়ের সূত্রেই ওই পরিবারের ছোট ছেলে অলোকের সঙ্গে বিয়ে হয় দীপার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরেই অলোকের আচরণ কেমন যেন পাল্টে যেতে থাকে। এই অলোকের সঙ্গে আগের অলোককে মেলাতে পারে না দীপা। প্রতিদিনকার অশান্তিতে অসহায় হয়ে পড়ে সে। কী করবে এখন দীপা? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।

বইটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো লেখক সেই যুগে বসে এত আধুনিক চিন্তার কথা সেখানে লিখেছেন, যা আজও অনেকে ভাবতে পারে না। কোন অতিরঞ্জন ছাড়া সম্পূর্ণ সাবলীলভাবে সে দীপাবলীর জীবনকে বর্ণনা করে গিয়েছেন। যা পড়লে অবাস্তব মনে হয় না আবার চমকও জাগে! এই বইটি তাই সকলের অবশ্য পাঠ্য হওয়া উচিত।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।