প্রচ্ছদ » মুক্তমঞ্চ » আমার কথা » স্কুল নয়, নিজের সচেতনতা পারবে মানুষকে নৈতিক করে তুলতে

স্কুল নয়, নিজের সচেতনতা পারবে মানুষকে নৈতিক করে তুলতে

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৭৯:১২:২৭ অপরাহ্ন

[pfai pfaic=”fa fa-pencil ” pfaicolr=”” ]  সৃজা জামান | বাংলা ইনিশিয়েটর

মানুষ কেন খারাপ কাজগুলো করে? কেন চোখের সামনেই ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলোর প্রতিবাদ করতে ভয় পায়? কারণ মানুষ নিজেকে ভালবাসে। তবে এই ভালবাসার মানে মানুষ কখনই ধরতে পারে না। মানুষ চায় নিজে বাঁচতে। ভালো থাকতে। তবে সে জানে না এইখানেই সে সবচাইতে বড় ভুলটি করে বসে আছে!

পৃথিবী অনেক ছোট একটা জায়গা।এখানে বেঁচে থাকতে হলে সংগ্রাম করতে হয়। কিছু মানুষ এই সংগ্রামকে বুঝতে পারে না। এ সংগ্রাম হলো একত্বের সংগ্রাম। শত কষ্টের মাঝেও যে অন্যকে ভুলতে পারে না, এ তারই সংগ্রাম। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ, ভাষার বিভেদ না করে যে অন্যকে সাথে নিয়ে বাঁচে সেই এই সংগ্রামে জয় লাভ করতে পারে।মানুষ বড়ই বোকা। সে ভাবে ‘নিজ’ মানে একজন। কিন্তু না। ‘নিজ’ অর্থ হলো অনেকজন। যে ‘নিজ’ নিজের মধ্যে পুরো পৃথিবীকেই ধারণ করে সেই আসলে পরিপূর্ণ মানুষ।

মানুষ বোকা বলেই সে ধর্মের মতো তুচ্ছ বিষয়ের জন্য মানুষকে খুন করে।সে ভাবে না, সে যাকে হত্যা করছে সে একজন মানুষ। তারই মতন। তার দেহে ধর্মের কোনো টিপ আঁকা নেই।অথবা সে যদি সত্যিই একজন মুসলিম, একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ বা একজন খ্রিষ্টান হতো আসলেই সে কি পারতো ধর্মের দোহাই দিয়ে একজন মানুষকেকে খুন করতে? না, সে পারতো না। কারণ পৃথিবীর কোনো ধর্মই, ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে খুন করার কথা বলেনি। বরং বলেছে মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করতে।একজন মুসলিম, হিন্দু কিংবা একজন নারী কিংবা একজন পুরুষ হিসেবে নয়।

আসলে এসব দুর্বল মানুষের অজুহাত মাত্র। সে ভাবে ভয় দেখিয়ে বুঝি সে সবকিছুর কর্তা হয়ে যাবে। তাই সে অজুহাত দেয় ধর্মের, অজুহাত দেয় লিঙ্গের। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ক্ষমতার প্রতি দুর্বল। সে ক্ষমতা চায় কারন, সে বাঁচতে চায়। অথচ সে জানে না বাঁচার সবচেয়ে গভীর রহস্যই হচ্ছে সহযোগিতা। সে জন্যই প্রাচীনকালে মানুষ প্রয়োজন অনুভব করেছিল সমাজের, মানুষে মানুষে ভালবাসার। অথচ আজ সভ্যতার চরম প্রান্তে এসে মানুষ মেতে উঠেছে যুদ্ধে। ক্ষমতা দখলের যুদ্ধে।

একসময় মানুষ সভ্য ছিল না। তবু তারা গড়েছিল সভ্যতা। ভাষাহীন সে যুগে মানুষ সঙ্গীকে বাঁচাতে ছুটে যেতো দৃপ্ত পায়ে। নিজের ভয় সে করতে না।তাই সে সক্ষম হয়েছিল সভ্যতা গড়ে তুলতে। সে ছিল নৈতিক। কই তখন তো নৈতিকতা শিখাতে কোনো স্কুল ছিল না। ছিল না কোনো সচেতনতা।তবু তারাই ছিল নীতিবান। আর আজ?

আজ পৃথিবীতে শত শত,হাজার হাজার স্কুল। কই, তবু কি মানুষ পেরেছে এই প্রজন্মের মানুষগুলোকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে? নৈতিকতার শিক্ষা দিতে? না,সে এই জায়গাটিতে ব্যর্থ। লজ্জার হলেও সত্যি আসলে মানুষ প্রাচীনকালে নয় বরং এখন সে অসভ্য। আজ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেও সে নিজের উন্নতি করতে পারেনি।

এর দায় আসলে কার? দায় আসলে প্রত্যেকের। নিজেরও। আসলে স্কুল নয়, নিজের সচেতনতা পারবে মানুষকে নৈতিক করে তুলতে। এটা শুরু করতে হবে পরিবার থেকে।শিশুকে নৈতিকতা শেখানোর দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে। তাকে সকলের সাথে মিশতে দিতে হবে। ক্ষমতার লোভ থেকে তাকে মুক্ত করতে হবে। ধর্ম, বর্ণ, জাতির পরিচয়ে নয় তাকে প্রথমে মানুষ হিসেবে পরিচিত করতে হবে।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সে পারে না এমন কোনো কাজ নেই। যে মানুষ মহাকাশ অতিক্রম করতে পারে, মনের তুচ্ছ জিনিসগুলোকেও সে সহজেই দূর করতে পারবে। মানুষের ক্ষমতা হেলাফেলার নয়। নৈতিকতাই পারবে মানুষকে আসলেই সভ্য করে তুলতে।তাই আসুন নিজে চিনি, জীবনের সংগ্রামে জেতার কাজ করি হাতে হাত রেখে। নিশ্চয়ই মানুষ একদিন সত্যিকার সভ্য হতে পারবে।
জয় মানুষের জয়।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।