প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » পুরো সিরিজটাতেই ভাইরাসের কবলে টাইগাররা!

পুরো সিরিজটাতেই ভাইরাসের কবলে টাইগাররা!

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০১৭১:২১:৫৮ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

প্রতিটি ম্যাচেই একটি দল জিতবে আবার হারতেও হবে একটি দলকে। কিন্তু দক্ষিন আফ্রিকা সিরিজে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সে সব জয়-পরাজয়ের সমীকরন ভূলে যেতে হয়। দক্ষিন আফ্রিকার কাছে নয় বারবার মনে হয়েছে নিজেদের কাছেই নিজেরা হেরে যাচ্ছে টাইগাররা। প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে শুরু করে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ দল। দক্ষিন আফ্রিকার মত কঠিন কন্ডিশনে জয়ের আশা হয়ত কেউ করে নি। তবে কিছুদিন আগেও বদলে যাওয়া যেই বাংলাদেশকে চিনিছে সমগ্র ক্রিকেট বিশ্ব, সেই বাংলাদেশ এতটা বাজে ক্রিকেট খেলবে তাও হয়তো কেউ ভাবতেই পারেনি।

লড়াই তো পরের কথা, প্রথম টিটোয়েন্টি ছাড়া অন্য কোন ম্যাচে ভাল করে দাড়াতেও পারে নি মুশফিকেরা। টেস্টে ইনিংস ব্যাবধানসহ বিশাল রানের পার্থক্য নিয়ে হারতে হয়ছে। আশা ছিল টেস্টে না হলেও ওয়ানডেতে অন্যতম শক্তিশালী দল বাংলাদেশ, একটু হলেও লড়াই করবে। সাথে দলের প্রান সাকিব-মাসরাফিও যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ওয়ানডেতেও হতাশ করছে টাইগার দল। ওয়ানডেতে প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেট হার। পরের দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১০৪ ও ২০০ রানের বড় ব্যাবধানে হেরেছে মাসরাফিরা। এরপর নতুন অধিনায়ক সাকিবের নেতৃত্বে টিটোয়েন্টি যুদ্ধে মাঠে নামে টাইগারা। প্রথম ম্যাচটায় লড়াই করলেও শেষ ম্যাচে সেই বেদনার দৃশ্য।

ভাইরাসের মত টেস্টের ব্যার্থতা ওয়ানডেতে এবং পরে টিটোয়েন্টিতে প্রভাব পরেছে বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, একটা বড় কারণ ছিল আমাদের টেস্টে ভালো না করা। ওয়ানডেতে টেস্টের সেই রেশটাই হয়তো বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের মনে থেকেছে। তারপর যখন ওয়ানডেও ভালো হল না, তার রেশ টি-টোয়েন্টিতে এলো। এটা ভাইরাসের মতো, একটা থেকে আরেকটায় এসেছে। যদি আমরা টেস্টে ভালো করতাম তাহলে আমি নিশ্চিত ওয়ানডেতে আরও অনেক ভালো করতাম।”

অন্য সবার মত দক্ষিন আফ্রিকার কঠিন উইকেটে জয় নয় বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখতে চেয়েছিলেন টিটোয়েন্টি অধিনায়ক। “দেশের বাইরে অন্তত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমরা পারিনি। আমার মনে হয়, এটা আমাদের হতাশার দিক। গত দুই তিন বছর দেশে এত ভালো করে আসছি যে আমরা আশা করেছিলাম যে অন্তত ভালো কিছু করব।অবশ্যই হারতে পারি। খেলার মধ্যে হার-জিত থাকবে। কিন্তু লড়াইয়ের যে স্পিরিট আমাদের মধ্যে থাকে, পুরো সফরেই তার অভাব ছিল। হারের কিংবা খারাপ করার প্রবণতা থেকে আমরা আর বেরই হতে পারিনি কিংবা ঘুরে দাঁড়াতেও পারিনি।”

সবার আশাই যে হতাশায় পরিনত হয়েছে তা এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কথা স্পষ্ট বোঝা যায়, ” আমি বলব না যে আমরা হয়তো জিততে পারতাম কিংবা অন্য কিছু। কিন্তু যে ধরনের উইকেটগুলোতে আমরা খেললাম, আমাদের সবাই সামর্থ্য ছিল ভালো করার। এটা ঠিক দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট ছিল না। খুবই ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল। বিশেষ করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিগুলোতে। টিভিতে দেখে মনে হয়েছে, টেস্টেও ভালো উইকেট ছিল। অনেক জিনিসই আমাদের পক্ষে ছিল। কিন্তু তারপরও আমরা ভালো করতে পারিনি।”

হতাশার সাথে নিজের ব্যার্থতাকেও মেনে নিয়েছেন সাকিব। “এই জায়গায় ইতিবাচক কিছু খুঁজে বের করা একটু কঠিন। কোনো কোনো জায়গায় অনেকে ভালো করেছে। কিন্তু ধারাবাহিকতার ব্যাপারটা আমাদের কারোর মধ্যে ছিল না। আমরা সেভাবে করতেও পারিনি। মুশফিক ভাই ওয়ানডেতে ভালো ব্যাটিং করেছে। রুবেল আজকের ম্যাচ বাদ দিয়ে সব দিনই ভালো বোলিং করেছে। ছোটো ছোট এই রকম অনেক অবদানের দরকার হয় দল জিততে হলে। আমি বলবো না, একটা সিরিজে হারের জন্য খুব বেশি ওলট-পালট চিন্তার দরকার আছে। কারণ, বাইরে আসলে এই ধরনের ফল হবে- এটা একটু স্বাভাবিক। ফলের কথা বলছি, আমরা যে হারব এটা হয়তো একটু অনুমিতই ছিল। তবে যে ধরনের ক্রিকেট খেলে আমরা হেরেছি সেটা আমার প্রত্যাশিত নয়।”

তবে এসব কিছু ভূলে সামনে এগিয়ে যেতেই চান সাকিব। সামনে আরো ভাল কিছু করে দেখানোর চেষ্টাই করবেন সাকিব আল হাসান। সামনেই বিপিএল এরপরেই ঘরের মাঠে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে টাইগার দল।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।