প্রচ্ছদ » বিনোদন » মুভি রিভিয়্যূঃ ‘ডুব’ – গল্পের চেয়ে নির্মাণকৌশল ভালো

মুভি রিভিয়্যূঃ ‘ডুব’ – গল্পের চেয়ে নির্মাণকৌশল ভালো

প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০১৭১১:১৪:৩১ পূর্বাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর

২৭ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া ডুব নিয়ে ইতোমধ্যেই সারাদেশে হৈ চৈ শুরু হয়ে গিয়েছে। ডুব নিয়ে বাংলাদেশের দর্শক এখন দু’ভাগে বিভক্ত – এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবন নিয়ে এবং এটা হুমায়ূন আহমেদের জীবন নিয়ে নয়।

আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, একজন লেখক সবসময় তার আশপাশ থেকে গল্প নেবেন এটাই স্বাভাবিক। প্রতিটি লেখকই তার আশেপাশের চরিত্রের সাথে কল্পনার মিশ্রণ ঘটিয়ে তাকে চমৎকার করে তোলেন। যে জিনিস আমি কোনোদিন দেখি নি, যা জানি না, তা কল্পনা করাও সম্ভব নয়। তাই এটা যদি উনি হুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকে নিয়েও থাকেন, তাহলেও শুধু অল্প কিছু অংশই নিয়েছেন। বাকীটা নিজের কল্পনা মিশিয়েছেন। যতক্ষণ মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী এটা বলছেন যে ‘ডুব’ হুমায়ূন আহমেদের জীবন থেকে নেয়া, ততক্ষণ এখানে নীতুকে শাওন কিংবা সাবেরীকে শিলা ভেবে তাদের চরিত্রের সাথে গুলিয়ে ফেলতে চেষ্টা করার কোনো কারণ দেখি না।

‘ডুব’ সিনেমার কাহিনী মূলত জাভেদ হাসান নামের এক চলচিত্র পরিচালকের জীবনকে কেন্দ্র করে। স্ত্রী, এক মেয়ে এবং এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। সিনেমার শুরুতেই জাভেদ হাসানের পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার দৃশ্যে বোঝা যায় তাদের পারিবারিক বন্ধনটা বেশ দৃঢ়। কিন্তু জাভেদ হাসানের মেয়ে সাবেরীর বান্ধবী নিতুর আগমণে তাদের পরিবারে অশান্তির শুরু হয়। একসময় নিতুকে জাভেদ হাসান বিয়ে করেন। মৃত্যু দিয়ে শেষ হয় গল্পের। এখানে গল্পের চেয়ে আমার ভালো লেগেছে নির্মাণকৌশল।

ক্যামেরার কাজ অসাধারণ লেগেছে। প্রত্যেকটা অভিনয়শিল্পীর কাজ সাবলীল ছিল, সবাই তার বেস্টটা দিয়েছেন। তাছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের কারণে ব্যাপারটা আরো ভালো লেগেছে। তবে গল্পটা আরো ভালো করা যেত। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী বরাবরের মতোই নির্মাণে তার যাদু দেখিয়েছেন, কিন্তু গল্প তার থেকে আরও ভালো আমরা আশা করতেই পারি!

সেদিক দিয়ে বলতে গেলে কিছুটা হতাশই হয়েছি!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।