প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » ছুটির পর স্কুলগুলোর সামনে উপচে পড়া ভীড়, দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি

ছুটির পর স্কুলগুলোর সামনে উপচে পড়া ভীড়, দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৭৩:১৯:১৩ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত, বাংলা ইনিশিয়েটর

রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে ছুটির পর শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভিড়ে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খলার, যার ফল দীর্ঘ যানজট।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। এই যানজট সৃষ্টির পেছনে অনেকাংশেই মুখ্য ভূমিকা রাখছে এখানকার স্কুল-কলেজগুলো। বেশিরভাগ স্কুল-কলেজে সবগুলো শ্রেণীর একসঙ্গেই ছুটি হয়, যার ফলে সকল শিক্ষার্থী একসঙ্গে বের হয়। সেসময় অনেক অভিভাবকও আসেন তাদের সন্তানদের বাড়ি নিয়ে যেতে। ফলে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলার।

যেসব স্কুল-কলেজ মূল সড়কের পাশে সেসবের ক্ষেত্রে তো কোনো কথাই নেই! শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করে বের হওয়ার পর সেই সড়ক ধরে হেঁটে যায়, কিংবা একযোগে সড়ক পার হয়। আবার অনেকসময় সেখান থেকে বাস কিংবা কোনো পাবলিক যানে চড়ে বাড়ি ফিরে যায়। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক ওভারব্রীজ থাকলেও তা ব্যবহার করেন না। ফলে দীর্ঘক্ষণ ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিভিন্ন বাস এবং গাড়ির থেমে থাকতে হয়।

রাজধানীর মিরপুর ১৪ – এ অবস্থিত শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের ছুটির পর সেখানে দেখা যায় চরম বিশৃঙ্খলার। ২০১২ সালে সেই কলেজের সামনের রাস্তায় সড়ক দূর্ঘটনায় সিদরাতুল মুনতাহা পালমা নামে এক দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীর দুঃখজনক মৃত্যুবরণের পরে সেখানে একটি ওভারব্রীজ স্থাপনের জন্য জোরদার আন্দোলন জেগে ওঠে। ২০১৪ সালে সেই ওভারব্রীজ স্থাপিত হয়। কিন্তু বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী কিংবা অভিভাবককের মধ্যেই ওভারব্রীজ ব্যবহারের কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। বরং স্কুল এবং কলেজ ছুটির পর সেখানে দেখা যায় একদল শিক্ষার্থী বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দলবেঁধে রাস্তা পার হচ্ছে এবং আরেকদল (পরের শিফটের) অপরপাশ থেকে ক্লাস করার উদ্দেশ্যে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায় ট্রাফিক পুলিশ তাদেরকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করলেও কখনো ওভারব্রীজ ব্যবহারের কথা বলেন নি।

শুধু ছুটির সময় না, ক্লাস শুরু হওয়ার সময়ও দেখা যায় একই চিত্র। একই রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন রিক্সা এবং স্কুল ভ্যান এসে জড়ো হওয়ার সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলার, হাঁটার স্থান প্রায় থাকে না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, সৃষ্টি হয় অপ্রীতিকর যানজটের, যার ফলে স্কুলে যেত দেরি হয়ে যায় অনেক শিক্ষার্থীরই।

ওভারব্রীজ না ব্যবহার করার প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থী বলে, “সবই বুঝি, কিন্তু তাও ওভারব্রীজে যেতে ভালো লাগে না। সবার সাথে একসঙ্গে রাস্তা পার হয়ে যাই তাই।”

এই চরম ভিড়কে যেন আরও বাড়িয়ে তুলতে প্রায় সব স্কুলের সামনেই উপস্থিত হয় বিভিন্ন হকার ও খাবার বিক্রেতারা

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।