প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » ঢাকার হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নিল রংপুর!!

ঢাকার হাত থেকে ম্যাচ কেড়ে নিল রংপুর!!

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৭১০:৪১:৩৪ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

শেষ ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন সেখান থেকেই শুরু করেছেন গেইল। সঙ্গি ম্যাককালামকে দ্রুত ফিরিয়েছেন আফ্রিদি। এরপর মিথুনের সাথে জুটি করেন টিটোয়েন্টির দানব। মিথুনের সতর্ক ব্যাটিং আর গেইলের ঝড়ে দারুন শুরু করেছিল রংপুর রাইডার্স। তবে বেশি সময় ভক্তদের হাসি ধরে রাখতে পারেনি রাইডার্সরা। মোসাদ্দেকের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আবু হায়দারের হাতে ধরা পরেন জ্যামাইকান দানব। এর আগে ২৮ বলে ৫১ রান করেছেন। ইনিংসটিতে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কার মার রয়েছে। এরপর শাহরিয়ার নাফিস এসে শুরু করার আগেই যেন তার ইনিংসে দাড়ি টেনে দেন সাকিব।

এত ভাল শুরু করে এভাবে হারিয়ে যাওয়াটা হয়ত ড্রেসিং রুমে বসে সহ্য করতে পারছিলেন না অধিনায়ক মাসরাফি। তাই নিজেই ব্যাট হাতে নেম পরলেন ম্যাশ। এর আগেও হঠাৎ উপরে ব্যাটিং করতে এসে ভয়ানক ইনিংস খেলার ইতিহাস আছে ম্যাশের। দারুন এক ছক্কা মেরে সেরকম কিছুর ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন। তবে আবার সামনে এসে দাড়ায় আফ্রিদি। বড় শট খেলার নেশায় অফ স্টাম্পের বলটি টেনে এনে মাঠের বাইরে পাঠানোর চেষ্টায় টপ এজ লেগে নারাইনের হাতে ধরা দেয়ার আগে। মিথুনের সাথে বোপারা ও পেরেরার ছোট ছোট অবদানের ফলে ১৪২ রান করতে পারে রংপুর। রাইডার্সদের অলআউট করার কৃতিত্বের বেশিরভাগই অধিনায়ক সাকিবের। তার ৫ উইকেটের ভয়ানক স্পেলের সাথে আফ্রিদির গুরুত্বপূর্ন ২ উইকেটও দারুন অবদান রেখেছে।

১৪৩ রানের সমান্য লক্ষের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ঢাকা। স্পিনার থেকে ওপেনার হয়ে যাওয়া নারাইনকে প্রথম ওভারেই ফেরান মাসরাফি। এরপর সাকিব লুইসের জুটিও বেশিক্ষন টিকতে পারেনি। জহুরুলের সাথে জুটি গড়ে দলকে টেনে নিয়ে যান লুইস। তবে ম্যাচের পুরোটা সময়েই টানাটানির মধ্য চলছিল। দলীয় রান তখন ৬৯, ২৫ বলে ২৮ রানের ইনিংস আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টায় লুইস। তখনই তাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললেন সোহাগ গাজি। পরের ওভারে জহুরুলকে ফেরান মাসরাফি। পুরো বিপিএলে এখনও সেভাবে রং দেখায়নি মোসাদ্দেক। আর সুযোগ পেয়েও ভাগ্যের কাছে হারতে হল তাকে। ভূল বোঝাবুঝিতে গেইলের কাছে রান আউট হন তিনি।

এরপর মেহেদি মারুফ ও আফ্রিদির সতর্ক ব্যাটিংয়ে ভাল কিছুর আশা জাগছিল ঢাকাবাসির মনে। তবে এবার স্বপ্ন ভাঙ্গেন রুবেল। ২১ রানে আফ্রিদিকে ফেরান ৩ ওভার পরে ফেরান মারুফকেও। বেশ বুঝে খেললেও মাত্র ১৫ রানেই থামতে হয়েছে তাকে। এরপর কেউ আর তেমন জ্বলে উঠতে পারেনি। শেষ ওভারে পোলার্ডের ছক্কার পরে ৩ বলে মাত্র ৪ রান দরকার ছিল ঢাকার। তবে থিসারা পেরেরা তা হতে দেননি। বরং শেষ দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে অলআউট করে দেন টুর্নামেন্টের জায়ান্ট দল ঢাকাকে।

৩ রানের হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ন জয় পায় রংপুর রাইডার্স। একসময় তলানিতে থাকা দলটি পয়েন্ট টেবিলের উপরে উঠতে শুরু করেছে। ৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রংপুর রাইডার্স। আর ৮ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা ডায়নামাইটস।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।