প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন দূরীকরণ দিবস’

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন দূরীকরণ দিবস’

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৭৬:২১:৩২ অপরাহ্ন

সুরাইয়া আক্তার জীম | বাংলা ইনিশিয়েটর

আজ ২৫ নভেম্বর, শনিবার! ১৯৬০ সালের এ দিনেই ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে তিনজন নারী নির্যাতিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৯৮১ সালের জুলাই মাসে প্রথম লাতিন আমেরিকায় নারী অধিকার সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে নির্যাতন বিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পক্ষকালব্যাপী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এক জরিপে জানা গেছে, বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগ নারী তাদের জীবনে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। এর মধ্যে বেশির ভাগ হয় তাদের পরিবার বা খুব কাছের সদস্য দ্বারা। পারিবারিক ক্ষেত্রে হিংস্রাত্মক ঘটনা হচ্ছে- নারীর মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। নারীদের নির্যাতনের প্রধান কারন মনে করা হয় যৌতুককে। এছাড়া দারিদ্রতার কারণে নারী সুশিক্ষা না পেলেও, সে তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। নারীর প্রতি সহিংসতার মধ্যে আরো রয়েছে- এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, নারীকে অবমূল্যায়ন, সমকাজ তবে অসমান বেতন তথা ইত্যাদি ।

বাংলাদেশে নারির প্রতি সহিংসতা বন্ধে নানারকম আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের সুযোগ রয়েছে তথা- ১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত, ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০ ও ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট-২০০৮, হাইকোর্ট নির্দেশিত যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা-২০০৮ পাস হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে প্রথমেই নারীর প্রতি মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে। নারীকে বোঝা না ভেবে, পুরুষের সমতালে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতে হবে।

১৯৯৩ সালের ২৫ নভেম্বর জাতিসংঘ ‘নারী নির্যাতন দূরীকরণ ঘোষণা’ প্রকাশ করে এবং ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের খসড়া অনুমোদন করে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন দূরীকরণ দিবস’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রুখতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কার্যক্রমের মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।