প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » মাসরাফি-পেরেরা জাদুতে জয় পেল রংপুর রাইডার্স!

মাসরাফি-পেরেরা জাদুতে জয় পেল রংপুর রাইডার্স!

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৭১০:১৩:২০ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

টসে জিতেই ফিল্ডিং নেবার সিদ্ধান্ত এবারের বিপিএলে অনেকটা অলিখিত নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে টসে জিতে তাই করলেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাসরাফি। গত ম্যাচে জয়ের পর আজও বেশ ভাল শুরু করেছিল চট্রগ্রামের দলটি। তবে ভূল বোঝাবুঝিতে ভালটা বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি চিটাগাং। দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে সৌম রানের জন্য দৌড় দিয়েও মাঝ পথে থেমে যান। লুক রঞ্চি ফেরার আগেই রুবেল থ্রো করা বল দিয়ে উইকেট ভেঙ্গে দেন উইকেট রক্ষক মিথুন। এরপর মাসরাফির বলে মালিঙ্গাকে ক্যাচ দিয়ে বিজয় দ্রুত বিদায় নিলে জুটি গড়েন সৌম-স্টিয়ান। অস্টম ওভারে সৌমকে ফেরান নাহিদুল। তার আগে ২৬ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলেছেন সৌম সরকার।

এরপর মাঠে আসেন আগের ম্যাচের নায়ক সিকান্দার রাজা। স্টিয়ান রাজার সতর্ক জুটি ভাঙ্গে দলীয় ১৩২ রানে। রুবেলের বলে নাফিসকে ক্যাচ দিয়ে সাঁজ ঘরে যান এক প্রান্ত টিকে থাকা স্টিয়ান এবার নাজিবুল্লাহর সাথে জুটি বাঁধেন। ১৯তম ওভারে থিসারা পেরেরার বলে মিথুনকে ক্যাচ দিয়ে ৪০ বলে ৬৮ রানের ইনিংসে দাড়ি টানেন। শেষ সময়ে নাজিবুল্লাহর ১৬ বলে ২৫ রানের ক্যামিওতে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ১৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় চিটাগাং ভাইকিংস। রংপুরের হয়ে মাসরাফি, মালিঙ্গা, রুবেল, পেরেরা এবং নাহিদুল প্রত্যেকে পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

বড় লক্ষ তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালই করেছিল রংপুরের গেইল-ম্যাককালাম জুটি। তবে সতর্ক ব্যাটিংয়ের পরেও ইনিংস বড় করতে আবার ব্যার্থ হন ব্রেন্ডেন ম্যাককালাম। ষষ্ঠ ওভারে আল-আমিনের বলে ক্লিন বোল্ড হন এই কিউই ব্যাটসম্যান। এরপরই সাহসি এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলকে চমকে দেন অধিনায়ক মাসরাফি। গেইলের সাথে জুটি বাধতে নিজেই মাঠে নেমে পরেন। বড় বড় শট খেলে বোলারদের কচুকাঁটা করতে ভালই জানেন ম্যাশ এ নিয়ে সন্ধেহ নেই কারো। তই বলে এত উপরে সহজে দেখা যায়না ম্যাশকে। তবে এই সিদ্ধান্তর জন্য তাকে পুরো নাম্বার দিতে বাধ্য সবাই। ১৭ বলে ৪২ রানের ঝড়ময় ইনিংস খেলে সানজামুলের বলে বোল্ড হন। ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ওভার বাউন্ডারিতে সাঁজানো এই ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল ২৪৭.০৬। অনেক এলেন ঝড় তুললেন চলে গেলেন।

সঙ্গি হারিয়ে পরের ওভারেই ফেরেন গেইল। ২৫ বলে ৩৫ বলের ইনিংসে ৩টি ছক্কা ও ১টি চার মারেন ক্যারিবিয়ান দানব। ক্রিজে নতুন দুই ব্যাটসম্যান মিথুন-বোপারা। বেশ ধীর গতিতে ব্যাটিং করতে থারা বোপারাকে ইনিংসটা বড় করতে দিলেন না সৌম সরকার। দলীয় ১২৯ রানে নাজিবুল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন বোপারা। এক প্রান্তে দারুন ব্যাটিং করতে থাকা মিথুনের হাতেই হয়ত ম্যাচ শেষ হবে মনে হলেও রেইসের বলে বোল্ড হয়ে ঘরে ফেরেন ২৯ বলে ৪৪ রান করে। শেষ ওভারে ১৪ রানের প্রয়োজন জয় পেতে। ফলাফল তখন যেকোন কিছুই হতে পারে।

ব্যাট হাতে প্রস্তুত পেরেরা। প্রথম বলে ২, পরের বলে ৬। ম্যাচটা হয়ত রংপুরের হতে চলেছে। সেই সময়ই জ্বলে উঠল চিটাগাংয়ের ভাগ্য। প্রথমে নাহিদুল রান আউট, পরের বলেই সৌমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন নাফিস। পরের বলে ২ রান নিয়ে স্ট্রাইক নিজের হাতে রাখেন পেরেরা। কেননা অপর প্রান্তে যে মালিঙ্গা। অতিরিক্ত চাপে ওয়াইড দিয়ে বসলেন তাসকিন। শেষ বলে ৩ রানের প্রয়োজন রংপুরের। আর ৩ রান বেশি অর্থাৎ ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন পেরেরা।

৩ উইকেটের অসাধারন জয় পায় রংপুর রাইডার্স।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।