প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে আবারো শীর্ষে খুলনা টাইটানস!

রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে আবারো শীর্ষে খুলনা টাইটানস!

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৭১০:০৫:২৬ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি রাজশাহীর অধিনায়ক স্যামি। দলীয় নৈপুন্য ২১৩ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে খুলনা টাইটানস। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে জাকির হাসানের অসাধারন থ্রোতে রান আউটের শিকার হন রাইলি রুশো। এরপরে শান্ত-আফিফ জুটিতে ভর গড়ে সাচ্ছন্দে এগিয়ে যায় খুলনা টাইটানস। পুরো ইনিংস জুরেই যখনা খুলনার দাপট তখনই নবম ওভারে এসে জোড়া উইকেট নিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন ফ্রাঙ্কলিন। প্রথম বলে শান্তকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে একি ওভারেই তুলে নেন মাহমুদউল্লাহর গুরুত্বপূর্ন উইকেটও। ৫ চার এবং ২ ছয়ে ৩১ বলে ৪৯ রানের অসাধারন ইনিংস খেলেন শান্ত।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানের মালিক মাহমুদউল্লাহ ফেরার পর আফিফ হাসানের সাথে জুটি বাধেন নিকোলাস পূরান। দুজনের ৮৮ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহর স্বপ্ন দেখে টাইটানসরা। ৬ চার ও ৩ ছয়ে ২৬ বলে ৫৭ রানের ঝড় তোলা ইনিংস খেলে ফ্রাঙ্কলিনের বলে স্যামিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নিকোলাস পূরান। দলের সংগ্রহ তখন ১৬৩ রান। আফিফ হোসেনের সাথে জুটি বাধঁতে মাঠে আসেন কার্লোস বার্থওয়াইট। এরপর শুরু হয় চার ছক্কার বৃষ্টি। 3টি করে চার-ছক্কা মেরে ১৪ বলে ৩৪ রান করে শেষ ওভারের সামির বলে বোল্ড হন বার্থওয়াইট। অন্যদিকে এক প্রান্ত আগলে রাখা আফিফ হোসেন ৩৪ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন। ইনিংসে কোন চার না থাকলেও ছিল ৫টি ছক্কার মার। রাজশাহীর হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ফ্রাঙ্কলিন নিয়েছেন ৩টি উইকেট। পাশাপাশি ১টি উইকেট পেয়েছেন সামি।

২১৪ রানের বিশাল লক্ষ জয়ে মাঠে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি রাজশাহী কিংসের। দ্রুত রান করার নেশায় তৃতীয় ওভারেই শফিউলের বলে বোল্ড হন মমিনুল। একি ওভারে যোফরা আর্চারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লুক রাইট। দুই উদ্বোধনি ব্যাটসম্যানের ব্যার্থতা ঘোচাতে মাঠে নামেন দুই তরুন রনি তালুকদার ও জাকির হাসান। দুজনের সতর্ক ব্যাটিংয়ে আশা জাগে রাজশাহীর। এরপর নবম ওভারে জোড়া আক্রমন করেন আবু যায়েদ। প্রথম বলে রুশোকে ক্যাচ দেয়ার আগে ২৩ বলে ৩৬ রান করেন রনি তালুকদার। পরের বলেই মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন ১২ বলে ১৯ রান করা জাকির হাসান।

নিয়মিত উইকেট হারিয়ে ম্যাচ নাগালের বাইরে যেতে লাগল রাজশাহী কিংসের। এরপর ১১তম ওভারে আবার জোড়া আক্রমন করেন শফিউল। প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দেন স্যামি। পরের বলেই বোল্ড হন মুশফিক। দলীয় ১২০ রানে যোফরা আর্চারের বলে ফ্রাঙ্কলিন বোল্ড হলে একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে থাকেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ১৬ রান পরেই আফিফের বলে আরিফকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। বাকিদের মধ্যে সামির প্রচেষ্টায় শুধু ব্যাবধানই কমেছে। ১৪৫ রানে সব উইকেট হারালে ৬৮ রানের জয় পায় খুলনা টাইটানস। খুলনার হয়ে ৫ উইকেট নিয়ে একাই কিংসের মেরুদন্ড ভাঙ্গেন শফিউল। পাশাপাশি আবু যায়েদ ২টি এবং যোফরা আর্চার, মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ পেয়েছেন একটি করে উইকেট। দলীয় নৈপুন্যে অসাধারন জয় পেয়ে টেবিলের শীর্ষে খুলনা টাইটানস।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।