প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার!

শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার!

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭৪:০৮:০৪ অপরাহ্ন

বাংলা ভাষায় প্রথম সায়েন্স ফিকশনের রচয়িতা কে- এই প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু বাংলাদেশে সায়েন্স ফিকশনকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে তুলে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান কার এটা নিয়ে কারো কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের পাঠকদের অনেকেরই সায়েন্স ফিকশনের জগতে প্রবেশ কপোট্রনিক সুখ দুঃখ, রুহান রুহান, মহাকাশে মহাত্রাস কিংবা ক্রোমিয়াম অরণ্য দিয়ে।

শুধু কী সায়েন্স ফিকশন? বর্তমান প্রজন্মের পাঠকদের একটা বিশাল অংশ সাহিত্যের দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে তার বই পড়ে। সবাই যখন বড়দের জন্য সিরিয়াস টাইপ বইপত্র লিখতে ব্যস্ত তখন তিনি লিখলেন হাত কাটা রবিন, দিপু নাম্বার টু, বাচ্চা ভয়ঙ্কর কাচ্চা ভয়ঙ্কর, মেকু কাহিনী, লিটু বৃত্তান্ত, স্কুলের নাম পথচারী, আঁখি এবং আমরা ক’জন, নিতু ও তার বন্ধুরা সহ অসংখ্য অসংখ্য কিশোর উপন্যাস। দেশের শিশু- কিশোর পাঠকদের উদ্দেশ্যে লেখা এসব উপন্যাসে সহজ- সরল লেখনির মাধ্যমে শেখালেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়। গল্পচ্ছলে নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা, বিবেকবোধ, অসাম্প্রদায়িকতার দীক্ষা দিলেন। শেখালেন ঠিক কে ঠিক এবং ভুল কে ভুল বলতে হলে বড় মানুষ হতে হয় না।

একটা সময়ে এদেশে নেমে এসেছিল অন্ধকার। তখন দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যেত না, জয় বাংলা শ্লোগান নিষিদ্ধ ছিল। সারা দেশে ইতিহাস বিকৃতির উৎসব চলছিল যেন। স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হল, শহীদ সংখ্যা- বীরাঙ্গনা সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হল, বিতর্ক সৃষ্টি করা হল পুরো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটা নিয়েই। তারপর এই মানুষটা লিখলেন আমার বন্ধু রাশেদ- শেষ পৃষ্ঠায় এসে চোখের কোণে জল জমে নি এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার কথা না। তার লেখনিতে বারবার উঠে এসেছে একাত্তরের কথা, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, পাকিস্তানিদের নৃশংসতার কথা, তাদের দোসরদের নির্মমতার কথা। নতুন প্রজন্মের ভেতর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বীজ বপনের পেছনে তার অবদান কিন্তু নেহায়েত কম নয়।

মুহম্মদ জাফর ইকবাল। জন্ম ১৯৫২ সালে, সিলেটে। তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ। মা রত্নগর্ভা আয়েশা আক্তার খাতুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি সম্পন্ন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়া ইনিস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে সাফল্যের সাথে ডক্টরেটোত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন। ১৯৮৮ তে তিনি বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর) এ গবেষক হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৪ পর্যন্ত সেখানেই কাজ করেন।

কিন্তু প্রবাসের বিলাসবহুল জীবন তার ভালোলাগে নি। আয়েশের জীবন ছেড়ে নিজের দেশে ফিরে আসেন আবার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নতুন করে কর্মজীবন শুরু করেন। দেশে বিজ্ঞানচর্চা এবং কম্পিউটার সায়েন্সকে জনপ্রিয় করার পেছনেও তার অবদান অনস্বীকার্য।

চাইলেই পারতেন নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে উন্নত দেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে। শুধু শেকড়ের টানে এই হাজারো সমস্যার দেশে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে দেশের শিক্ষাঙ্গনে, সাহিত্যজগতে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান রেখে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। সমালোচনা, গালি গালাজ, প্রাণনাশের হুমকি, হামলা, অপমান কোনকিছুই তাকে তার অবস্থান থেকে টলাতে পারে নি।

শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার! ধন্যবাদ আমাদের শৈশবকে বর্ণিল ও আনন্দময় করে তোলার জন্য। ধন্যবাদ সবকিছুর জন্যই।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।