প্রচ্ছদ » অনিয়ম » চিড়িয়াখানার অনিয়ম যেন কমছেই না

চিড়িয়াখানার অনিয়ম যেন কমছেই না

প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৭৬:৫২:১৫ অপরাহ্ন

অহিদা আক্তার ফাবিয়া । বাংলা ইনিশিয়েটর

আইন অমান্য করে পশুকে খাবার দিচ্ছে এক দর্শনার্থী ।

বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে ছোট-বড় সবারই পছন্দ চিড়িয়াখানা। বিনোদনের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে এখনও ঢাকা চিড়িয়াখানার স্থান সবার উপরে। বছরে ৪০ লক্ষেরও বেশি দর্শনার্থীদের সমাগম হয় এখানে। কিন্তু দর্শক প্রিয়তায় শীর্ষে থাকার পরেও এর পরিবেশ, প্রাণীবৈচিত্র্য দেখার সুযোগ সুবিধা যেন এখনও দর্শক বান্ধব নয়।

যেকোনো চিড়িয়াখানায় পশু-পাখিদের দেখে এদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানা গেলেও ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানার দৃশ্য যেন এর বিপরীত।চিড়িয়াখানার বেশিরভাগ প্রাণীরাই যেন নিষ্প্রাণ। বাঘ, সিংহ, ভালুক, সজারু এসব প্রাণিদের খাঁচায় গেলে দেখা যাবে এসব প্রাণিগুলো এক জায়গায় নিজেদের মতো থাকে যেটা দর্শকমহলকেও বিরক্ত করে। তাছাড়াও এসব প্রাণিদের খাবারের মান নিয়েও দর্শকদের প্রশ্ন রয়েছে। বেশ কয়েকটি খাঁচা খালি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে একজন দর্শকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, “কয়েকটি খাঁচা খালি, অাবার অনেক খাঁচাতেই প্রাণী পরিচিতিসহ নামফলক দেখা যায় নি।”

অনেক প্রাণিদের খাঁচার সামনের নিরাপত্তার বেরী ভেদ করে প্রাণিদের জাগিয়ে তোলা, তাদের খাবার দেয়া ও তাদের সাথে ছবি ওঠানোর দৃশ্যও বিরল নয়। এতে দর্শকদের জীবনের উপরও ঝুঁকি রয়েছে। এ বিষয়ে চিড়িয়াখানার তথ্য কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, “প্রতিটি খাঁচার সামনেই আমাদের কেয়ারটেকার আছে তারা এ বিষয়গুলো দেখেন। কিন্তু সবকিছু দেখার বা নিষেধ করার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি দর্শনার্থীদের সচেতনতাকেও গুরুত্ব দেন।”

কিন্তু কেয়ারটেকার থাকার বিষয়ে দর্শকদের সাথে কথা বললে তারা জানান কোনো খাঁচার সামনেই তারা কেয়ারটেকারদের থাকতে দেখেননি। যার কারণে অনেক দর্শকই এই কাজগুলো করছে বলে তাদের অভিযোগ। চিড়িয়াখানার ভিতরে কোনো হকারদের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও বোটানিক্যাল গার্ডেনের দেয়াল টপকে অনেক হকারই ভিতরে প্রবেশ করছে ও তাদের পণ্যগুলো বিক্রি করছে। দর্শকরাও তাদের প্রয়োজন মেটাতে হকারদের কাছ থেকে বিভিন্ন জিনিস কিনছেন।

নিরাপত্তা সীমানা ভেদ করে এভাবে প্রায়ই ভেতরে চলে যায় দর্শনার্থীরা

তাছাড়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে অনেক দর্শকই সতর্কতা নির্দেশক সাইনবোর্ড দেখা সত্ত্বেও সেখানে নির্দ্বিধায় প্রবেশ করছে। চিড়িয়াখানা কতৃপক্ষের সুব্যবস্থা না থাকার কারণেই এমন হচ্ছে বলে দর্শনার্থীদের দাবি। এছাড়াও শিশুদের আনন্দের জন্য চিড়িয়াখানায় একটি পার্কের ব্যবস্থা করলেও এর পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে অনেকেই এই পার্কে যেতে চায় না। তাছাড়া পার্কের রাইডগুলোর সবগুলোই অনেক পুরনো ও ভাঙ্গা বলে শিশুরা জানায়। এগুলো আরো সুন্দর করা ও এর অবকাঠামোকে উন্নত করা প্রয়োজন বলে জানান দর্শনার্থীরা।

চিড়িয়াখানা কতৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া ও দর্শনার্থীদের সতেনতা এই দুটোরই প্রয়োজন চিড়িয়াখানার বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য। তাহলেই হয়তো ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ওয়ার্ল্ড এসোসিয়েশন অব জু এন্ড অ্যাকুরিয়ামসের (ওয়াজ) এর সদস্য হতে পারবে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।