প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » সর্বোচ্চ ব্যাবধানে জয় তুলে নিলো বাংলাদেশ!

সর্বোচ্চ ব্যাবধানে জয় তুলে নিলো বাংলাদেশ!

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারী ২০১৮৭:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

ত্রিদেশীয় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে, শ্রিলংকার বিরুদ্ধে ১৬৩ রানের বিশাল জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ব্যাবধানে জয় পাওয়ার রেকর্ড এখন এটিই।

না ব্যাটিং, না বোলিং। পুরো ম্যাচেই একবারের জন্যও দেখা মিলে নি লংকানদের লড়াই। অনেকটা হেঁসে-খেলেই জয় পেয়েছে টাইগার বাহিনী। টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মাসরাফি। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটাও দারুন করেন তামিম-বিজয়। তবে অসাধারন শুরু করে গত ম্যাচের মত এবারো দ্রুত ফিরেছেন বিজয়। থিসারা পেরার শর্ট বলে ছোঁয়া লাগিয়ে ডিকভেলাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। তার আগে ৩৫ রানই করতে পেরেছিলেন। এরপর দেখা মিলে সাকিব-তামিমের রসায়ন। দুজনের অভিজ্ঞতায় ভর করে অনেকটা এগিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ম্যাচের পুরো গল্পটাই যেন বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ থেকে চুরি করা হয়েছে। এবারও তামিমের দারুন ব্যাটিং-শিল্পে দেখা মিললেও রয়ে গেছে সেঞ্চুরির আক্ষেপ। ৩০তম ওভারে ধনঞ্জয়ার বলে কট বিহাইন্ড হন তামিম। ৭ চার আর ২ ছক্কা দিয়ে নির্মিত ৮৪ রানের পাহাড় বানাতে খরচ করেছেন ১০২ বল। তামিমর বিদায়ের পর মাঠে নামেন বাংলাদেশের আরেক ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিক। মুশফিক-সাকিবের জুটিটাও বাংলাদেশকে নিরাপদে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে যখন ৩৮তম ওভারে নিজের বলেই সাকিবের ক্যাচ নেন গুনারত্নে। ৬৩ বলে ৬৭ রানের ইনিংসে ৭টি চার মেরেছেন এই অলরাউন্ডার।

এরপর দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ। অর্ধশতক করেছেন মুশফিকও। ৫২ বলে ৬২ করে থিসারা পেরেরার বলে বোল্ড হন মুশি। একসময় ৩৫০ রানে সম্ভাবনা থকলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে পরে যায় বাংলাদেশ। মাসরাফি একটা চার মারার পর বিদায় নেন। গোল্ডেন ডাক পান নাসির। শেষ সময়ে টাইগারদের হয়ে লংকান কফিনে শেষ পেরেক ঢুকেন সাব্বির। সাথে সাইফের সঙ্গও ছিল প্রশংসনীয়। সাব্বিরের ১২ বলে ২৪ রানের ইনংসে ভর করে ৩২০ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। থিসারা ৩ ও প্রদিপ ২টি উইকেট পেয়েছেন।

বিশাল লক্ষ সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খেতে শুরু করে লংকানরা। সবাইকে অবাক করে দিয়ে নাসিরকে দিয়ে বোলিং শুরু করেন অধিনায়ক মাসরাফি। প্রথম ওভারে উইকেট না পেলেও রান দিয়েছেন মাত্র দুটি। পরের ওভারে এসেই অধিনায়কের মুখে হাসি ফোঁটালেন নাসির। কুশাল পেরেরাকে বোল্ড করেন তিনি। অপরদিক থেকে সঠিক জায়গায় বল করে ব্যাটসম্যানদের অশান্তিতে রাখতে শুরু করেন মাসরাফি। ফলও পান দ্রুতই। থারাঙ্গাকে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানান। এর আগেই অবশ্য সুযোগ তৈরী হয়েছিল কিন্তু রিভিউ নিয়ে একটুর জন্য বেঁচে যান থারাঙ্গা। ওপর প্রান্তে থাকা কুশাল মেন্ডিসকেও ফেরেন কিছু সময়ের ব্যাবধানে। এরপর থেকেই শুরু হয় আশা যাওয়ার মিছিল। ডিকভেলার উইকেট নেন মুস্তাফিজ।

এরপর অনেকটা সময় মাটি আকড়ে ছিলেন চান্ডিমাল। এবার তাকে ফেরান সাকিব। গত ম্যাচের মত এবারও দুর্দান্ত ফিল্ডিং করে রান আউট করেন সাকিব। ফিল্ডিং সাকিবের পর এবার বোলার সাকিবের জ্বলে ওঠার পালা। পর পর দুই বলে গুনারত্নে ও হাসারাঙ্গাকে ফেরান তিনি। দেয়ালে পিঠ ঢেকে গেলে খোঁলশ ছেড়ে বেড়িয়ে আসেন থিসারা পেরেরা। চার-ছয়-চার-ছয়। সাকিবের ওভারের প্রথম চার বলের দৃশ্যটা এমনই ছিল। কিন্তু ৫ম বলটা খেলতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে বসেন পেরেরা। লাকমাল আর ধনঞ্জয়ার উইকেট তুলে নিয়ে শেষ কাজটা করেন রুবেল। সাকিব ৩টি, রুবেল আর মাসরাফি ২টি এবং নাসির ও মুস্তাফিজ পান ১টি করে উইকেট।

আগেই বলে ছিলাম আজকের ম্যাচের গল্পটা অনকটা জিম্বাবুয়ের সাথে ম্যাচের সাদৃশ্য। তাই ম্যাচের নায়কটাও যে এক! সাকিব আল হাসান!

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।