প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » তীরে এসে তরী ডুবল বাংলাদেশের!

তীরে এসে তরী ডুবল বাংলাদেশের!

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারী ২০১৮৮:২৯:৫৭ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে থেকেই বাংলাদেশ ছিল সকলের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ১ম ম্যাচ, ২য় ম্যাচ, ৩য় ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচেই অসাধারন পারফর্মেন্সে জয় পায় টাইগাররা। ফাইনাল নিশ্চিত। এমনকি কল্পনায় হয়তো মাসরাফির হাতেই শিরোপা দেখতে শুরু করে দিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল সবকিছু। ভূমিকম্পের মতই হঠাৎ করে মাটিতে নেমে গেল আকাশ ছোঁয়া টিম বাংলাদেশ।

লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে অসহায় পরাজয়ের লজ্জার পর আজ ফাইনালেও ব্যার্থ বাংলাদেশ। বোলিংয়ে সফলতা থাকলেও পরাজয়ের বড় কারন ব্যাটিং ব্যার্থতা। শুরুতেই গুনাথিলাকাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মিরাজ। মাঠে নেমেই ঝড় তুলতে শুরু করেন কুশাল মেন্ডিস। ৩ ছক্কা ও ২ চার মেরে ৯ বলে ২৮ রান তুলে মাসরাফির বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ধরা পরেন তিনি। এরপর শুরু হয় থারাঙ্গা-ডিকভেলার সতর্ক জুটি। দলীয় ১১৩ রানে এই জুটি ভাঙ্গেন সাইফউদ্দিন। ৫৭ বলে ৪২ রান করে সাব্বিরকে ক্যাচ দিয়েছিলেন ডিকভেলা। এরপর চান্ডিমালও শুরু করেন ধৈর্য আর সতর্কতার প্রদর্শনী। ৯৯ বলে ৫৬ করে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হন থারাঙ্গা।

এরপর থিসারা, গুনারত্নে, ধনাঞ্জয়ারা ব্যার্থ হলেও অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন চান্ডিমাল। রুবেলের বলে বোল্ড হবার আগে ৭৪ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। রুবেলের অসাধারন বোলিংয়ের ফলে ২২১ রানেই থামে শ্রীলংকার ইনিংস। রুবেল ৪ ও মুশফিক ২ উইকেট পান। বাংলাদেশি হিসেবে সবচেয়ে দ্রুত ৫০ উইকেটের রেকর্ড নিজের করেন মুস্তাফিজ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তামিম ফেরেন ৩ রান করে রান আউটের শিকার হন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মিথুন। অন্যদিকে আঙ্গুলে চোট পেয়ে ব্যাটিং করতে নামতে পারননি সাকিব। তার জায়গায় নেমে আরো একবার ব্যার্থ সাব্বির। এরপর মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মুশফিক। মিরাজ, সাইফ, মাসরাফি, রুবেল ব্যার্থ হলেও এক প্রান্ত আগলে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু সঙ্গি না পেয়ে ৯২ বলে ৭৬ রান করেই থামতে হয় তাকে।

এদিকে প্রাপ্তির মধ্যে আরো প্রাপ্তি তরুন লংকান বোলার মাধুশানাকা। ওভারের শেষ দুই বলে মাসরাফি, রুবেলকে ফিরিয়ে পরের ওভারের ১ম বলেই মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে অভিষেকেই হ্যাট্রিক করেন তিনি। মাধুশানাকা ৩টি এবং ধনাঞ্জয়া ও চামিরা পেয়েছেন একটি করে উইকেট। ৭৯ রানের জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ নিজেদের করে নিল লংকানরা। ম্যাচ সেরা উপুল থারাঙ্গা এবং সিরিজ সেরা থিসারা পেরেরা।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।