প্রচ্ছদ » আমাদের সাহিত্য » বই পরিচয় » বই পরিচিতিঃ পুত্রেরা

বই পরিচিতিঃ পুত্রেরা

প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮৭:৫০:২৮ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত
বইয়ের নামঃ পুত্রেরা
লেখকঃ ফ্রানৎস কাফকা
বাংলা অনুবাদঃ মাসরুর আরেফিন
প্রকাশনীঃ পাঠক সমাবেশ
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৩
পৃষ্ঠাঃ ১৭৬
ধরণঃ গল্প
মূল্যঃ ৪৫০ (বইয়ের ওপর মুদ্রিত)

ফ্রানৎস কাফকা বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক। এ পর্যন্ত নোবেল বিজয়ী ১০৯ জন লেখকের মধ্যে ৩২ জনই তাঁদের লেখায় সরাসরি কাফকার প্রভাব আছে বলে উল্লেখ করেছেন। কাফকা তার জীবদ্দশায় এতটাও বিখ্যাত ছিলেন না, যতটা তাঁর মৃত্যুর পর হয়েছেন।

কাফকার তিনটি গল্প রায় (The Judgement), দি স্টোকার (The Stoker – A Fragment) এবং রূপান্তর (The Metamorphosis) এই তিনটি গল্প নিয়ে বই – ‘পুত্রেরা’ (The Sons). বই তিনটি প্রথমে আলাদা আলাদাভাবে বের হলে লেখক প্রকাশককে চিঠি দেন গল্প তিনটির মধ্য একটি সাদৃশ্য আছে, তাই তিনি যেন তিনটি গল্প একইসঙ্গে একটি বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এবং বইয়ের নাম দেন ‘পুত্রেরা’। কিন্তু প্রকাশক তরুণ লেখকের কথা তেমন গুরুত্বসহকারে নেন নি। তাই লেখক জীবিত থাকাকালে তার ইচ্ছায় ‘পুত্রেরা’ নামে বইটি বেরোয় নি। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার ইচ্ছা পূরণ হয়।

বইটির প্রথম গল্প ‘রায়’ এ এক ছেলের সঙ্গে তার পিতার বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। পিতা বিভিন্ন বিষয়ে পুত্রকে দায়ী করেন। এক পর্যায়ে তিনি তার পুত্রকে পানিতে ডুবে মরার মৃত্যুদন্ড দেন। পুত্রও পিতার আদেশ পালন করে সেই দন্ডকে বরণ করে নেয় এবং পানিতে ঝাঁপ দেয়ার আগে বলে, “প্রিয় বাবা-মা, তোমাদের সব সময়ই ভালোবেসেছি আমি।” রায় গল্পটি লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী তার প্রথম সফলতা।

দ্বিতীয় গল্প ‘দি স্টোকার’ তার লেখা ‘নিখোঁজ মানুষ’ (The Lost One) কিংবা আমেরিকা (প্রকাশকের দেয়া নাম) উপন্যাসের প্রথম অধ্যায় মাত্র। উপন্যাসটি প্রকাশ করার পর লেখকের মনে হয়েছিল এর প্রথম অধ্যায়টি আলাদাভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে। তারই ফলাফল গল্পটি। এ গল্পেও পাঠক অবাক হয়ে এক পিতা-মাতার অন্ধভক্ত সন্তানকে দেখাতে পাবেন। যাকে কিনা তার মা-বাবা এমন একটি দোষের সাজা দেয়, যা কিনা সে করেই নি! সাজা হিসেবে তারা নিজেদের ছেলেকে আমেরিকার জাহাজে তুলে দেন। ছেলেও বাধ্য সন্তানের মতো তা মেনে নেয়।

বইটির তৃতীয় গল্প ‘রূপান্তর’-কে বলা হয় কাফকার সবচেয়ে বিখ্যাত গল্প। গল্পে এক সেলসম্যান রাতারাতি আরশোলা ধরণের এক পোকায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। এটা গল্পের হাস্যকর দিক নয়, বরং গল্পের হাস্যকর দিক হলো ছেলেটা কত সহজে নিজের নির্মম নিয়তিকে মেনে নেয়! তার পিতা যখন তার দিকে একটি আপেল ছুঁড়ে মারে এবং সেখান থেকে ঘা হয়, তখনও সে কতটা নিস্পৃহ থাকে!

তিনটি গল্পের একরকম দিক হলো এখানে তিনজন পুত্র তাদের পিতার দেয়া আদেশ কিংবা নিষ্ঠুর আচরণ কোনো প্রতিবাদ ছাড়া মেনে নিয়েছে। যা খুবই অদ্ভুত। কাফকার এ ধরণের লেখার কারণেই তাকে নিয়ে গবেষণা কম হয় নি। ১৯৯৬ থেকে ২০১০ এর ভেতর প্রতি ১০ দিনে তাকে নিয়ে লেখা একটি করে গবেষণা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে!

রহস্যময় কাফকার রহস্যময় গল্পগুলো পড়ে বুঝতে সাহায্য করবে বাংলা অনুবাদের সঙ্গে থাকা ভূমিকা ও পাঠ-পর্যালোচনা।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।