প্রচ্ছদ » আমাদের সাহিত্য » বই পরিচিতিঃ চন্দ্রমুখী

বই পরিচিতিঃ চন্দ্রমুখী

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮৩:০১:১৭ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর


নামঃ চন্দ্রমুখী
লেখকঃ আশীফ এন্তাজ রবি
প্রকাশনীঃ আদর্শ
মূল্যঃ ২০০ টাকা (বইয়ের ওপর মুদ্রিত। বইমেলা থেকে ২৫ শতাংশ ছাড়ে ১৫০ টাকা)
পৃষ্ঠাঃ ৮৭
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বইটার রিভিয়্যূ পড়েছিলাম বইমেলার শুরুর দিকেই। রিভিয়্যূগুলোই যথেষ্ট ছিল বইটার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে। বইমেলায় গিয়েই তাই প্রথমেই কিনে ফেলেছি বইটা, আর পড়েই ফেলেছি সবার প্রথমে।

তবে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে বইটা পড়ার পর। আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে বইটা কেমন, তবে আমি এক কথায় তাকে বলে দেব, “জানি না” কিংবা “বুঝতে পারছি না।” এর কারণ এমন না যে আমি জানি না আমার কেমন লেগেছে। এর কারণ অন্য। অনেক সময় আমরা জানি আমাদের মধ্যে একটা অনুভূতি কাজ করে, কিন্তু আমরা সেই অনুভূতির নাম জানি না। কিংবা অনুভূতি পাওয়ার ক্ষমতা থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা হয়তো সবসময় হয়তো আমাদের থাকে না! আমার ক্ষেত্রে আজ সেটাই হয়েছে। নামবিহীন এক অনুভূতিতে আক্রান্ত আমি।

বইটির কাহিনী ফরিদ নামের এক যুবকের জীবন ঘিরে। সাধারণ যুবক, তার সাধারণ জীবন। তবে উদাসীন ভাব তার মধ্যে প্রবল। তার সাধারণ জীবনেই অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটলো। সেই অদ্ভুত ঘটনায় তার জীবন, তার আশেপাশের মানুষগুলোর জীবন একেবারে এলোমেলো হয়ে গেল। কিন্তু তার চেয়েও অদ্ভুত ঘটনা, এতে পুরো পৃথিবীর কিছু এলো-গেল না!

বইটির ভাষা খুবই চমৎকার। তবে কিছু ক্ষেত্রে কেন যেন হুমায়ূন আহমেদের সাথে মিল পেয়েছি ভাষাগত দিক থেকে। সমস্যাটা আমারও হতে পারে। পুরো বই এতটা সহজ-সাবলীল ভাবে লেখা যে এরচেয়ে সুন্দরভাবে পাঠককে আটকে রাখার আর কোনো কৌশল আছে বলে আমার জানা নেই!

বইটি পড়ে শেষের দুই অধ্যায়ে আমি শক খেয়েছি। এই শকটা এখন বেশি বই পড়ে পাই না আমি। লেখকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমাকে এই অদ্ভুত শকটার ভেতর দিয়ে নেয়ার জন্য। তবে আরও একটা ব্যাপার আছে, এতে কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত কিনা বুঝতে পারছি না;শকটার কারণে মনেহয় না রাতে ঘুম আর হবে। আমার কি এর জন্যেও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত?

(ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০)

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।