প্রচ্ছদ » বাংলাদেশ » হুমায়ুন ফরীদির ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী আজ

হুমায়ুন ফরীদির ষষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী আজ

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮১:৪৪:১৩ অপরাহ্ন

 শাফিন রাহমান | বাংলা ইনিশিয়েটর

ফুল ফুটুক আর নাইবা ফুটুক আজ বসন্ত । কিন্তু আজ কি সবার জন্যই বসন্ত? নাহ ! এই বসন্ত দিবস সবার জন্যই খুশির না, কিছু মানুষ আছেন যারা বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি হুমায়ুন ফরীদির চলে যাওয়া এখনো মানতে নারাজ। অন্তত তাদের জন্য মনখারাপের দিন আজ। ছয় বছর হয়ে গেছে তিনি চলে গেছেন।

আজ ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সালের এই দিনে অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি মারা যান। বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা  হুমায়ুন ফরিদী । তিনি চলচ্চিত্রের সকল ক্ষেত্রেই তার অবদান রেখেছেন ।  তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছেন।

হুমায়ূন ফরীদি  ১৯৫২ সালের ২৯ শে মে  ঢাকার  নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন । চার ভাই বোনের মধ্যে তার অবস্থান ২য় । বাবা এটিএম নুরুল ইসলামের চাকরির সুবাদে উনি মাদারিপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এ ভর্তি হন। এ সময় মাদারিপুর থেকেই নাট্য জগতে প্রবেশ করেন। তার নাট্যঙ্গনের গুরু বাশার মাহমুদ । তিনি সরব প্রথম কল্যাণ মিত্রের ‘ত্রিরত্ন’ নাটকে ‘রত্ন’ চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয় জীবনে সর্বপ্রথম দর্শকদের সামনে অভিনয় করেন।  তিনি চাদপুর সরকারি কলেজ এ পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন ।

পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তিনি প্রথম চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন । অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত বিখ্যাত সংশপ্তক  নাটকে ‘কানকাটা রমজান’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত হয়েছিলেন । তার মঞ্চ অভিনয় গুলোর মধ্যে ছিলো ,ত্রিরত্ন (প্রথম অভিনয়) ; কিত্তনখোলা ; মুন্তাসির ফ্যান্টাসি ইত্যাদি ।

হুমায়ুন ফরীদি টিভি নাটকে প্রথম অভিনয় করেন আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় ‘নিখোঁজ সংবাদ’-এ। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য টিভি নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘নীল আকাশের সন্ধানে’, ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’, ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’। হুমায়ুন ফরীদি কিছু বাংলা চলচ্চিত্রে খলনায়কের অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি একাধারে আর্ট ফিল্ম এবং বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

আর্ট ফিল্মে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হুলিয়া, ব্যাচেলর, আহা, মাতৃত্ব, বহুব্রীহী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র জয়যাত্রা, শ্যামল ছায়া ও একাত্তরের যিশু। মাতৃত্ব চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর অভিনীত বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেলখযোগ্য হলো দহন, সন্ত্রাস, বিশ্বপ্রেমিক, ত্যাগ, মায়ের মর্যাদা, অধিকার চায়, মায়ের অধিকার, ভন্ড, রিটার্ন টিকেট, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি, দূরত্ব ইত্যাদি।
২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন হুমায়ুন ফরীদি। নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাকে সম্মাননা প্রদান করে।

তবে ফরিদীর একুশের পদকের জন্য গতবছর তরুণ সমাজের মধ্য থেকে দাবি তোলা হয়েছিলো। সবশেষ এ বছর তাকে অভিনয়ে এ  সম্মাননা (মরণোোনোত্তর) দেয়া হচ্ছে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।