প্রচ্ছদ » উড়াল » সংগঠন » বই সম্বন্ধে সেরা পাঠকদের মতামত

বই সম্বন্ধে সেরা পাঠকদের মতামত

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮৯:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

গত ২৬ মার্চ উপন্যাস প্রকাশন আয়োজিত “সেরা পাঠক খুঁজছি, সেরা লেখক খুঁজছি” আয়োজনের সেরা পাঠকদের পুরস্কার দেয়া হলো। পুরস্কারপ্রাপ্ত সেরা তিন পাঠক জানিয়েছেন বই সম্পর্কে তাদের বিভিন্ন মতামত।  চলুন তাদের মতামত দেখে আসা যাক –

 

তাসরুজ্জামান বাবু

১. সেরা পাঠক হয়ে কেমন লাগছে?

এ অনুভূতি আসলে বোঝানোর নয়। আগে ভেবেছিলাম সেরা পাঠক হতে পারলে এই করব, সেই করব। ফেসবুক ভরিয়ে ফেলব পোস্টে পোস্টে ইত্যাদি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন হলাম তখন ফেসবুকে একটা পোস্টও দেওয়া হয়ে ওঠেনি। প্রশ্ন আসতে পারে, কেন? সৈয়দ মুজতবা আলীর একটা লেখা আছে, ‘অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথর’ । এই প্রবাদটির অনুকরণে আমার অবস্থা বলতে চাই, ‘অল্প আনন্দে ফূর্তি অধিক আনন্দে মূর্তি’! সত্যি বলতে কী, আমি আনন্দে একেবারে স্ট্যাচু হয়ে গেছি! তিন বছর ধরে প্রতি মাসে নিজ পছন্দের দুটি করে বই পাওয়ার মতো পুরস্কার একজন পাঠকের জন্য কতটা লোভনীয় চিন্তা করতে পারেন? বিচারক রাজীব হাসান পর্যন্ত আমাদের পুরস্কারের কথা শুনে বলছিলেন, ‘আমি বিচারক থাকতে চাই না । আমিও অংশ নিতে চাই।’ আর আয়োজক টিমের নিশীতা মিতু বলছিলেন, আমারই হিংসা হচ্ছে! যাই হোক, একজন পাঠককে আপনি টাকা দিয়ে, ক্রেস্ট দিয়ে, বিমানের টিকেট দিয়ে বা প্রাইজবন্ড দিয়ে খুশি করতে পারবেন না। খুশি করতে পারবেন বই দিয়ে। উপন্যাস প্রকাশন সেটাই করেছে।

২. আয়োজনটি সম্পর্কে বলুন। আয়োজনটি কেমন মনে হয়েছে? এই আয়োজনে বই পড়া সম্পর্কিত খরা কি কিছুটা কাটবে?

এককথায় অসাধারণ একটি আয়োজন। সারাদিন একটা ডিঙ্গি নৌকায় করে শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনায় ঘোরাঘুরি । সত্যিকার অর্থেই ‘পাগলামি আর রিস্ক’। পাগলামি এজন্য যে, নৌকার মধ্যে আমরা আব্দুল্লাহ আল ইমরানের ‘কালচক্র’ বইটা পড়ে রিভিউ লিখছিলাম । সভ্য সমাজের কাছে এটা একেবারে অর্থহীন ঠেকবে, ‘কেন বাপু, নৌকার গলুই এ বসে কষ্ট করে রিভিউ লেখার দরকার কী? এটা তো চেয়ার-টেবিলে বসেও লেখা যায় ।’ আর রিস্কের কথা তো বলাই বাহুল্য। মাঝ নদীতে গিয়ে ঢেউ এর তোড়ে নৌকার দুলুনিতে সবাই একটু তটস্থ ছিল। নৌকা ডুবে গেলে কে কাকে উদ্ধার করবে তা নিয়ে অস্বস্তিকর পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেল যা আমার মত স্বল্পপাল্লার সাঁতারুর ভীতিটাকে আরো উস্কে দিল। পুরো আয়োজনে ছিল নান্দনিকতার ছাপ । সকাল এগারোটায় আমরা জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে রঙিনকাগজসজ্জিত ও পতাকাশোভিত ডিঙিতে উঠলাম। একজন শিল্পী বাঁশি বাজিয়ে শোনালেন। এরপর শুরু হলো, রিভিউ পর্ব । নিজেকে খুব হোমরাচোমরা গোছের মনে হচ্ছিল যে আমাদেরকে ঘিরে আয়োজন হচ্ছে! ছয়জন প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত রিভিউয়ারদের মধ্য থেকে যে চারজন এসেছে তারাই অনুষ্ঠানের সবেধন নীলমণি । আমাদের হাতে হাতে বই দিয়ে দুই ঘন্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলো। নৌকা তখন অপর পাড়ে গিয়ে ঠেকেছে । আমরা চারজন যখন রুদ্ধশ্বাসে ২০০ পৃষ্ঠার বই শেষ করতে ব্যস্ত তখন বাকিরা টপাটপ তীরে নেমে ছবি ওঠাচ্ছে। এরই মধ্যে একটা খরমুজ কেটে চিনি মাখিয়ে খাওয়া হলো। তারপর দুপুর দুইটার সময় লাঞ্চ করতে বসলাম। নৌকার ভেতর লাঞ্চ। খিঁচুড়ি উইথ মুরগী। হাল্কা কিন্তু জম্পেশ আয়োজন! খাওয়ার পর শুরু হলো আমাদের রিভিউ লেখা। আধা ঘন্টা সময়ের মধ্যে রিভিউ লিখে শেষ করার পর শুরু হলো মার্কিং। প্রতি রিভিউয়ারের লেখা বাকি তিনজন মূল্যায়ন করে ৭ এর মধ্যে নম্বর দিল। বিচারক রাজিব হাসান দিলেন ৩ এর মধ্যে নম্বর । সবে মিলে মোট ১০ এর মধ্যে মার্কিং করে সেরা তিনজন রিভিউয়ার নির্বাচিত হলো । নৌকা ততক্ষণে ফেরার পথে অনেক দূর এগিয়েছে। এরই মধ্যে বৃষ্টি শুরু হলো । যেই না আমরা ঘাটে ফিরে এলাম বৃষ্টি একেবারে ঝমঝমিয়ে নামল। বৃষ্টি ছাড়া কোনো সৃষ্টিছাড়া দিনের পূর্ণতা হয় না। দিনটা স্মরণীয় করে রেখে গেল বৃষ্টি । দিনটি ছিল ২৬ মার্চ। সবার হাতে শুভেচ্ছা স্বরূপ রাজিব হাসানের ‘হরিপদ ও গেলিয়েন’ বইটির সাথে যখন একটি করে পতাকাও দেয়া হল, তখন আসলেই মনে মনে উপন্যাস প্রকাশনীর মধ্যধার ( প্রধান ব্যক্তিকে কর্ণধার বলাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?) রিয়াজ মাহমুদের রুচির তারিফ না করে পারলাম না।
আপনি জানতে চেয়েছিলেন, এই আয়োজনে বই পড়া সম্পর্কিত খরা কিছুটা কাটবে কিনা । এই আয়োজনটি ছিল সেরা পাঠক খুঁজে নেওয়ার জন্য। উপন্যাস প্রকাশনী পরবর্তিতে এই সেরা পাঠকদের নিয়ে বিভিন্নভাবে এগোবে। উপন্যাস প্রকাশনীর একটি মেগা প্ল্যানের মধ্যে এটি একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। কাজেই সেরা তিন রিভিউয়ার বাছাই করার সাথে বই পড়ার খরা কাটানোর সরাসরি সম্পর্ক নেই বটে তবে উপন্যাস প্রকাশনীর টোটাল প্ল্যানটি পাঠক-খরা কাটাতে ভূমিকা রাখবে বলে আমার নিশ্চিত বিশ্বাস।

৩. লেখালেখির সঙ্গে কি জড়িত আছেন?

হ্যাঁ, আছি। হাইস্কুল-কলেজে থাকা অবস্থায় পত্রপত্রিকায় লিখতাম। এখন চাকুরির ব্যস্ততার জন্য লেখালেখির পরিমাণ অনেক কমে গেছে এবং পত্রিকায় লেখা তো প্রায় হয় না বললেই চলে। একসময় মনে হচ্ছিল আমার লেখক সত্ত্বাটি কোমায় চলে যাচ্ছে তখন নিজেকে জাগানোর জন্য নতুন-পুরাতন লেখা মিলিয়ে বই বের করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এভাবে সময় প্রকাশন থেকে আমার গতবছর এবং এবছরের বইমেলায় দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ‘তৃতীয় অনুভূতি’ এবং কল্পবৈজ্ঞানিক থ্রিলার ‘বিয়ন্ড দ্য ম্যানমেইড ইউনিভার্স’ । অবশ্য রুয়েটে ফাইনাল ইয়ারে থাকাকালীন একটা বাংলা বইকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলাম যা সেইসময়ই প্রকাশিত হয়েছিল। যাই হোক, আমার প্ল্যানটি কাজ ুকরছে । ধারাবাহিকতা রক্ষার খাতিরে হলেও এখন ফি বছর একটা করে বই লেখার তাগাদা অনুভব করছি। সম্প্রতি সামনের বইমেলাকে লক্ষ্য করে নতুন একটা উপন্যাস লেখার কাজে হাত দিয়েছি ।

৪. আপনার মতে ‘সেরা পাঠক’ মানে কী?

‘সেরা পাঠক’ টার্মটি আসলে এর আগে কখনো চিন্তা করিনি। উপন্যাস প্রকাশনী এই টার্মটি মূলত সেরা রিভিউয়ারকে বোঝাতে ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ, একটি বই পড়ে সেটাকে এককথায় ‘অসাম’ বা ‘রাবিশ’ বলে ছেড়ে দিলে তা সেরা পাঠকের লক্ষণ নয়। বইটি ভাল লাগলে কেন ভাল লাগল, খারাপ লাগলে কেন খারাপ লাগল তার বিস্তারিত আলোচনা করার সামর্থ্য ও সমালোচকসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি যে পাঠকের মধ্যে পাওয়া যায় তাকেই তারা সেরা পাঠক হিসেবে চিহ্নিত করছে। উপন্যাস প্রকাশনী মনে করে, দীর্ঘদিনের বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকেই পাঠকের মধ্যে এমন একটি মনন জন্মলাভ করে। উপন্যাস প্রকাশনী সবচেয়ে বেশি বই পড়েছে এমন কাউকে নয় বরং বইয়ের সেরা সমঝদারকে ‘সেরা পাঠক’ হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছে । উপন্যাস প্রকাশনীর দৃষ্টিকোণ থেকে আমি কীভাবে ‘সেরা পাঠক’ লিস্টে অন্তর্ভূক্ত হলাম জানি না তবে সেরা পাঠক বাছাইয়ের এই ফর্মুলার সাথে আমিও সম্পুর্ণ একমত ।

৫. আপনার কী মনে হয় ? বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম কি বইপ্রেমী নাকি বইবিমুখ?

আমি নিজেও তরুণ এবং আমি বইয়ে বুঁধ হয়ে যাওয়া পছন্দ করি । আর আমার মত তরুণ বইপাগলদের সংখ্যা এদেশে হাজার হাজার নয় বরং লক্ষ লক্ষ । কাজেই তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ বলি কীভাবে? একসময় আমি জেলা সাধারণ পাঠাগারের সদস্য হিসেবে প্রচুর বই পড়তাম এবং ভাবতাম, আমার মত এত বড় বইপোকা আর কোথায়? আসলে আমার বন্ধুচক্রের বই-অনীহা দেখে এমন ভুলধারণার বশবর্তী হয়েছিলাম। এখন ফেসবুকে বইপ্রেমীদের গ্রুপগুলোতে লক্ষ লক্ষ মেম্বারের সরব উপস্থিতি দেখে বুঝতে পারছি আমি আসলে খুবই ক্ষুদ্র আকারের বইপোকা। এত বড় বড় বইপোকা যে দেশে আছে সে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বইবিমুখ বলাটা একরকম অন্যায় বোধ করি। তবে কথা হলো, দেশে যে অনুপাতে মানুষ বাড়ছে, বইপোকাদের চাষবাস সেই অনুপাতে হচ্ছে না। এমনকি নেটাসক্তির কারণে অনেক বইপ্রেমীরও বই পড়ার হার কমে যাচ্ছে। সেই কারণে দেশে পাঠকের হার আনুপাতিকভাবে কম মনে হচ্ছে। দশ বছর আগে একটা বইয়ের প্রথম মুদ্রণ কমপক্ষে এক হাজার কপি ছাপা হত। কিন্ত এখন পাঁচশ কপি ছাপা হয়। অথচ দশ বছরে পাঠক সংখ্যা বেড়েছে এবং লেখকও দ্বিগুণ হয়ে যায়নি । তাহলে? আসলে পাঠকসংখ্যা যে হারে বাড়ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার তার চেয়ে অনেক বেশি বলেই পাঠক-খরা অনুভূত হচ্ছে ।

মেহেদী হাসান

১.সেরা পাঠক হয়ে কেমন লাগছে?

স্বাভাবিক ভাবেই আনন্দ লাগছে খুব। ব্যাপারটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। এমনকি প্রথম কয়েকদিন বিশ্বাসও করতে পারছিলাম না যে এত বড় একটা আয়োজনের সেরা তিনজন হতে পেরেছি।

২.আয়োজনটি সম্পর্কে বলুন।

চমৎকার গুছানো একটি আয়োজন। স্টেপ বাই স্টেপ আয়োজনটা যত সুষ্ঠু ভাবে করা হয়েছে, সেটা প্রসংশনীয়। নৌকার উপরে চূড়ান্ত পর্বের আয়োজন করাটা ছিল সবচেয়ে ইউনিক একটা আইডিয়া।

পাশাপাশি আয়োজনটাকে আমি উচ্চাভিলাষীও বলবো। যত বড় স্বপ্ন নিয়ে উপন্যাস প্রকাশন এগিয়ে এসেছে, এটা কল্পনাতীত ব্যাপার। প্রতিবছর এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে অবশ্যই বই পড়া সম্পর্কিত খরা কাটবে।

৩. লেখালিখির সঙ্গে কি জড়িত আছেন?

না। তবে ইচ্ছে আছে। নিজেকে প্রস্তুত করছি। আরো অনেক পড়া বাকি।

৪. আপনার মতে সেরা পাঠক মানে কি?

সেরা পাঠক কেবল প্রতিযোগীতায় বিজয়ীই না, আমি সেরা পাঠক বলতে তাকেই বুঝি, যিনি একটি ভালো বই পড়ে তার জ্ঞান টুকু নিজের জীবনে কাজে লাগাতে পারেন, নিজের চিন্তা ও মননের উৎকর্ষ সাধন করতে পারেন।

৫. আপনার কি মনে হয়? বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম কি বইপ্রেমী নাকি বই বিমুখী?

আমি মনে করি না তরুণ প্রজন্ম বই বিমুখ। আমি নিজেও তরুণ প্রজন্মেরই একজন। আশেপাশের চেনা জানা অনেকেই যথেষ্ট বই মুখী। হয়তো আগের চেয়ে কমে গিয়েছে, কিন্তু এটাও তো ঠিক, বইয়ের সহজলভ্যতাও এখন আগের মত নেই। দামের কথা বাদও যদি দেই, পাড়ায় পাড়ায় কয়টা লাইব্রেরি আছে আজকাল? অথচ পাড়ায় মহল্লায় ক্লাব ঘর, যেখানে খেলাধুলার পাশাপাশি ছোট্ট একটা লাইব্রেরীও থাকতো, তা এখন কয়টা আছে? উপজেলায় বাদ দিন, কয়টা জেলায় মানসম্মত বইয়ের দোকান আছে, যেখানে সব ধরনের সাহিত্য পাওয়া যায়? স্কুল কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় এখন বাসন, গ্লাস, প্লেট এইসব দেয়া হয়। কেন? অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলেই বই দেয়ার দাবীটা চলে আসে সবচেয়ে বেশি। আমার নিজের স্কুল কলেজে লাইব্রেরি ছিল, অথচ বছরে একদিন খোলা পেতাম না, সামনে দিয়ে ঘুরে চলে আসতাম। অধিকাংশ অভিভাবকরাও বই পড়াকে বাজে সময় নষ্ট মনে করে, অথচ সন্তানের হাতে মোবাইল দেয়া বন্ধ করেন না। শিক্ষকরাও একাডেমিক বইয়ের বাইরে বই পড়াকে উৎসাহিত করেন খুবই কম। এত কিছুর পরেও যে বই পড়ছে মানুষ, এটাই কি বেশি না?

তরুণ প্রজন্ম বই বিমুখী অবশ্যই না। বরং তাদের অধিকাংশেরই বই পড়ার, পড়তে উৎসাহিত করার, বই পড়ার উপকারীতা সম্পর্কে জানানোর জন্য যথার্থ পদক্ষেপ গুলো নেয়া হচ্ছে না। বই পড়ার সমস্যা দূর করুণ, আরো অধিক মানুষ বই মুখী হবে। আমি আশাবাদী।

অধরা আঞ্জুমান পৃথা

১.সেরা পাঠক হয়ে কেমন লাগছে?

অসম্ভব ভালো! এটি জীবনের সেরা প্রাপ্তিদের একটি। নিজেকে সেরা পাঠক বলে দাবি করার অধিকার পেয়েছি…এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।

২.আয়োজনটি সম্পর্কে বলুন। আয়োজনটি কেমন মনে হয়েছে? এই আয়োজনে বই পড়া সম্পর্কিত খরা কি কিছুটা কাটবে?

আয়োজন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য নেই। একদম বাকরুদ্ধ আমি! সাহিত্যপ্রেমী রা জানে গল্পের সৌন্দর্য বাস্তবে দেখতে এবং উপভোগ করবার আনন্দ কেমন। আমার কাছে পুরো আয়োজন মনে হয়েছে স্বপ্নের মত! বিশ্বাস করতে ধাক্কা খেতে হয়েছে… এত অসাধারণ অভিজ্ঞতা কখনো হবে জানতাম না।
হ্যাঁ, এই আয়োজনে বই পড়া সম্পর্কিত খরা কাটবে।

৩. লেখালেখির সঙ্গে কি জড়িত আছেন?

হ্যাঁ, টুকটাক লেখালেখি করছি। কোনো কোনো সম্পাদিত বইয়ে গল্প লিখি, ফেসবুকে আর্টিক্যাল আর পেইজে রিভিউ লিখি। খুব প্রফেশনালি এখনো লেখা হয়ে ওঠেনি।

৪. আপনার মতে ‘সেরা পাঠক’ মানে কী?

সেরা পাঠকের সংজ্ঞা তো অনেক রকমের হয়। আমার মতে একটি বই পড়ে সেটা কে অনুভূতি দিয়ে যিনি উপলব্ধি করতে পারেন, তিনিই সেরা পাঠক।

৫. আপনার কী মনে হয়? বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম কি বইপ্রেমী নাকি বই বিমুখ?

এইকথার উত্তর দিতে গেলে বাংলাদেশের প্রজন্মের সময়টা দু ভাগ করতে হবে।
একটা সময় তরুণ প্রজন্ম বইপ্রেমী ছিলো খুব। যখন প্রযুক্তি পুরোপুরি হানা দেয়নি… এখনো অনেক বইপ্রেমী আছে। তবে কম। বই বিমুখী আর বইপ্রেমী মিলিয়েই বাংলাদেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম।

 

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।