প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » ফিরতি ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অসাধারণ জয়!

ফিরতি ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের অসাধারণ জয়!

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৮১:৪০:৫৫ পূর্বাহ্ন

জিহাদুল ইসলাম | বাংলা ইনিশিয়েটর

ম্যাচটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিলো।পয়েন্ট টেবিলের যথাক্রমে দুই ও তিনে থাকা পাঞ্জাব আর হায়দ্রাবাদের ফিরতি ম্যাচ ছিলো এটি।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ব্যাটিংয়ের সূচনাটা শুভ হয়নি। দলের অন্যতম ভরসা ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন আজকের দিনে পুরোপুরি ব্যর্থ ছিলেন। তিন বলে শূন্য করে দলকে বিপর্যয়ে রেখে শুরুতেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। দলের অন্যতম ব্যাটিং ভরসা শিখর ধাওয়ানও ব্যাটিং ব্যর্থতার কাতারেই ছিলেন। টি-টুয়েন্টির সুলভ ব্যাটিংটা সেভাবে কেউই করতে পারেননি। দলের বিপর্যয়ে একাই বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন মনিশ পান্ডে। তার অর্ধশতক রানের উপর ভর করেই সানরাইজ হায়দ্রাবাদ লড়াই করার মতো পুঁজি পায়।সাকিবের ২৯ বলের ২৮ রানের ইনিংসটাও সানরাইজের ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

ম্যাচ সেরা আঙ্কিত রাজপুত (৪-০-১৪-৫)

পাঞ্জাবের হয়ে চালকের আসনে একাই চড়েছেন রাজপুত। ৪ ওভারের বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিয়ে একাই সানরাইজের ইনিংসে ধস নামিয়ে আনেন। পাঞ্জাবের হয়ে অন্য উইকেটটি নেন আফগান স্পিনার মুজিব। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে ১৩২ রানের টার্গেট মামুলি ব্যাপার হলেও দলটা সানরাইজ হায়দ্রাবাদ বলেই ম্যাচের শেষের চিত্রনাট্যটা পাল্টে যায়।আগের ম্যাচে মুম্বাইকে ১১৮ রানের টার্গেট দিয়েও ৩২ রানে সহজ ম্যাচ জিতে নিয়েছিলো সানরাইজ হায়দ্রাবাদ। সেই ম্যাচের তাজা অভিজ্ঞতাটাই কাজে লাগিয়েছেন ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন এর দল।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জন্য এটি ছিলো ফিরতি ম্যাচে পাঞ্জাবের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। আর পাঞ্জাবেরর কাছে ছিলো আরো একটি ম্যাচ জিতে নিজেদের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। ১৩২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অসাধারণভাবেই করেছিলেন ওপেনার লোকেশ রাহুল এবং ক্রিস গেইল। তাদের ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ভর করেই পাঞ্জাব ধীরে ধীরে জয়ের বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু তাদের ৫৫ রানের জুটি ভেঙ্গে প্রথম আঘাত হানেন হায়দ্রাবাদের লেগস্পিনার রশিদ খান। ব্যক্তিগত ৩২ রানে লোকেশ রাহুল ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ক্রিস গেইলকেও একই পথ দেখান থাম্পি। সানরাইজের প্রত্যাবর্তনটা এখান থেকেই। করুণ নায়ার আর এম আগারওয়াল ছাড়া শেষে কেউ আর ডাবল ফিগার সংখ্যা স্পর্শ করতে পারেননি। শেষে আফগান বোলার মুজিব অবশ্য ১০ রান করে হারার ব্যবধানটাই কমিয়েছেন।

সানরাইজার্সের জয়ের পিছনের বড় ভূমিকাটা পালন করেছেন রশিদ খান এবং সাকিব আল হাসান। সাকিব তিন ওভার করে দুটি উইকেট তুলে নেন। রশিদ খানও নিজের ঝুলিতে দুটি উইকেট লুফে নেন। শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে ১৩ রানের জয় পায় হায়দ্রাবাদ। দলের সাফল্যের দিনে এদিন ব্যক্তিগতভাবেও এক মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব। ৫০ ম্যাচ খেলে আইপিএল ক্যারিয়ারে তার উইকেটসংখ্যা ঠিক ৫১। দল হারলেও ম্যাচ সেরা হয়েছেন আঙ্কিত রাজপুত। সাথে একটি লজ্জাজনক রেকর্ডের পাশে নাম বসে পাঞ্জাবের। আইপিএল ইতিহাসে ৫০ এর অধিক ওপেনিং জুটি গড়ার পরেও সবচেয়ে কম রানে অল-আউট হওয়ার রেকর্ড এখন কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের।

কাল ঘরের মাঠে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।