প্রচ্ছদ » উড়াল » কিশোরকাল ও বন্ধু নির্বাচন

কিশোরকাল ও বন্ধু নির্বাচন

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০১৮৯:০৫:৪২ অপরাহ্ন

নুহাশ তালুকদার | বাংলা ইনিশিয়েটর

জীবনকে যদি একটি বট গাছের সাথে তুলনা করা হয়, তবে কিশোর বয়স হচ্ছে সেই বট গাছের ভিত্তি। একজন মানুষের জীবন কেমন হবে তার সিংহভাগ নির্ভর করে এই সময়টার উপর।

সবকালের সব মানুষের জীবনেই এই কিশোর বয়স এসেছিল বা এসেছে। প্রথম যৌবনাগমন কিশোর-কিশোরীর মধ্যে এক প্রকার আলোড়ন সৃষ্টি করে। লেখাপড়ার মাঝখানে বয়ঃসন্ধিকালের রঙ্গীন উম্মাদনা স্বাভাবিক শিক্ষা গ্রহণের পথে সংকট সৃষ্টি করে। কিশোর বয়সে আচার-আচরণ, চিন্তাভাবনা এবং মানসিকতায় বিভিন্ন পরিবর্তন  আসে। এই সব সমস্যা কাটিয়ে  কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে রাখাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত  প্রায় সব শ্রেণির পাঠ্যসূচীতে  কিশোর বয়স, কিশোর সমস্যা ও বয়ঃসন্ধি নিয়ে লেখা থাকে। তবে সে লেখার বিস্তৃত আলোচনা প্রায় বেশিরভাগ বিদ্যাপীঠে দেখা যায় না। আর যদিও এসব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করা করা হয়, তবে শ্রেণিকক্ষে পড়ে যায় হাসির রোল! যেন এ এক সবার জানা গোপন ব্যাপার!

কিশোররা শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের সাথে যতই এসব ব্যাপার নিয়ে হাসাহাসি করুক না কেন, দিন শেষে তারাও একই সমস্যায় পড়ে থাকে। এসব ব্যাপার নিয়ে বড়দের সাথে আলোচনা করতে যতই বলা হোক না কেন, আমাদের দেশের কিশোররা বরাবরই হীনমন্যতায় ভোগে এসব ব্যাপারে। তারা বন্ধুদের সাথেই এসব ব্যাপার আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

কিশোর বয়সে কিশোররা সবচেয়ে বড় ভুল করে বন্ধু নির্বাচনে। কারণ এই বয়সে অনেকেই অনেক সমস্যা বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করে থাকে। যেহেতু বন্ধুও সমবয়সী, সেহেতু তারও সমস্যার সমাধান নাও জানা থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো সমস্যা কোনো এক বন্ধুর সাথে আলোচনা করা হলে তা অনেক সময় ছড়িয়ে যায়, অনেক হাসাহাসি হয় বন্ধুমহলে এ নিয়ে। এতে সমস্যা বহনকারী অনেক মানসিক সমস্যায় পড়ে যান। তাই এ সময় অবশ্যই, ভালো মানের বন্ধু নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে অনেক বড় সমস্যার সম্মুখীন হওয়া লাগতে পারে। কারণ এ সময়ের প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথে বন্ধুর সম্পর্ক রয়েছে।

ধরো- কাউকে দেখে তোমার অনেক ভালো লাগলো।  এই ভালোলাগা তুমি বন্ধুদের সাথে আলোচনা না করে থাকতে পারবে না। আবেগ জিনিসটা বড্ড বেশী কাজ করে কিশোর বয়সে। তোমার বন্ধুদের একজন হয়তো এই ভালোলাগাকে কেবল স্বাভাবিক সমর্থন করেই বসে থাকবে। কারণ সে জানে , এর চেয়ে বেশী এগিয়ে গেলে তোমার পতন অবধারিত। আবার অন্য একজন বন্ধু হয়তো তোমাকে আবেগ দ্বারা বড্ড বেশী তাড়িত করে  সামনে এগোতে উৎসাহ প্রদান করবে। এই আবেগের পাহাড় থেকে লাফ দিলে হয়তো  তুমি ক্ষণস্থায়ী আকাশে উড়ার অনুভূতি পাবে, কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানেই অনেক উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ার স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।

বন্ধু নির্বাচন সম্পূর্ণই তোমার উপর নির্ভর করে। আর যদিও আবেগের পাহাড় থেকে লাফ দেয়ার মত ভুল করে থাকো তবে সেই প্রথম বন্ধু তোমাক ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। বুঝানোর চেষ্টা করবে, এরকম উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়েও বেঁচে থাকা সম্ভব। তোমাকে সে ধীরে ধীরে সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করবে।

দ্বিতীয় বন্ধু যে সারিয়ে তুলবেনা, তা কিন্তু নয়। তবে, যদি এই প্রথম বন্ধুর সারিয়ে তোলা হোমিওপ্যাথি ওষুধের সাথে তুলনা করে তবে, দ্বিতীয় বন্ধুটির সারিয়ে তোলাকে এন্টিবায়োটিকের সাথে তুলনা করতে হবে।

দ্বিতীয় বন্ধুর দেয়া সমাধানটি ক্ষণস্থায়ী এবং সেই সাথে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যুক্ত। সে হয়তো তোমাকে সিগারেটেরর নেশা ইত্যাদির দিকে ধাবিত করবে। তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, তবে তার লাভটা কী আমাকে নেশার হাতে তোলে দিয়ে?

উত্তরটা মাথা দিয়ে ভাবলে সোজা। তোমাকে যদি প্রথম কয়েকদিন তার নিজ অর্থায়নে, সিগারেটের মতো জিনিসের সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়। তবে, কিছুদিন পরে তুমি সিগারেটের পোকা হয়ে উঠবে। নেশা নামক জিনিসটি তোমাকে দিয়ে বলাবে, “বন্ধু অনেকদিন সিগারেট খাই না। চল আজকে সিগারেট খেয়ে আসি।” তখন তোমার বন্ধু বলবে, “আজকে আমার কাছে টাকা নাই।” তখন তোমার নেশাগ্রস্ত মন নির্দ্বিধায় বলবে, “চল, আজকে টাকা আমি দিব।” এমনি ভাবে তোমার সেই বন্ধুটির নেশার অর্থায়নের বড় উৎস হবে তুমি। এই তার লাভ।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরীরা আজ ধূমপায়ী। আর তার একমাত্র কারণ বন্ধু-বান্ধবের উৎসাহ প্রদান। তবে কিছু ক্ষেত্রে মা-বাবার বা পারিবারিক শিক্ষার অভাব বিরাজমান।

এমন একজন বন্ধু বানাতে হবে যার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখা যায়। বন্ধু নির্বাচন কিশোর বয়সে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। তাই জেনে-বুঝে, বাছ-বিচার করে বন্ধু নির্বাচন করো। কিশোর বয়সটাকে আতঙ্কের মধ্যে নয়, সুন্দরভাবে উপভোগ করো।

মডেলঃ (বাম থেকে) রাকিব, সাকিব, সিফাত, রাশিক
ছবিঃ রেজওয়ান রাহমান রাজ

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।