প্রচ্ছদ » ভ্রমন » ঘুরে আসুন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি!

ঘুরে আসুন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি!

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৮৭:২৭:৫০ অপরাহ্ন

শাহরিয়ার আকাশ | বাংলা ইনিশিয়েটর

সাত ঘাটের পুকুর
ছবি : শাহরিয়ার আকাশ

ঢাকার মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে প্রায় ২০০ বছর পূর্বেকার বালিয়াটি জমিদার বাড়ি অবস্থিত। এটি মানিকগঞ্জ জেলার সদর থেকে আনুমানিক আট কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ঢাকা জেলা সদর থেকে পয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত। অনেকের কাছে এটি ‘বালিয়াটি প্রাসাদ’ কিংবা ‘বালিয়াটি জমিদার বাড়ি’ নামেও পরিচিত। এর স্থাপত্যকাল আনুমানিক ১৯ শতক।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত এই প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬,৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী দালানের সমাবেশ।

প্রায় ২০ একরের বেশি জায়গা জুড়ে জমিদার বাড়িটির বিস্তৃতি। সবগুলো প্রাসাদই একই সময়ে বা একই জমিদারের শাসনামলে স্থাপন করা হয় নি, বিভিন্ন উত্তরাধিকার সূত্রে উনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকের প্রথমভাগে প্রাসাদগুলো নির্মাণ করা হয়। জমিদার বাড়ির মূল ফটক থেকে প্রবেশ করতেই মূলত চারটি সুবিশাল প্রাসাদ চোখে পড়ে।এই চারটি প্রাসাদ তৎকালীন ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো। চারটি দালানের মধ্যে হাতের বাম দিকের দ্বিতীয় প্রাসাদের দ্বিতীয় তালায় এখন একটি জাদুঘর রয়েছে। জাদুঘরের সংগ্রহশালায় জমিদারদের ব্যবহৃত আসবাব, কেদারা, আয়না সহ বেশকিছু প্রাচীন সংগ্রহ রয়েছে। ডানদিকের সর্বশেষ দালানটি অত্যন্ত সুন্দর কারুকার্যখচিত টেরাকোটা শিল্পের দ্বারা সজ্জিত, এর প্রাচীন গুরুত্ব অনুধাবন করে এতে তেমন কোনো বড় ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়নি, এমনকি প্রাসাদে নতুন কোনো রঙ করাও হয়নি।

ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত চারটি দালানের পিছনে আরো মোট চারটি দালান রয়েছে, যাদের মূলত ‘অন্দরমহল’ বলা হয়। অন্দরমহলেই জমিদাররা তাদের পরিবার সহ বসবাস করতেন।

টেরাকোটার প্রাসাদ
ছবি : শাহরিয়ার আকাশ

‘গোবিন্দ রাম সাহা’ বালিয়াটি জমিদার পরিবারের গোড়াপত্তন করেন। তিনি তৎকালীন সময়ে লবণের ব্যবসা করতেন। বালিয়াটি জমিদার বাড়ির শাসকদের শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্যে ব্যাপক খ্যাতি ছিল। জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারের মধ্যে কিশোরিলাল রায় চৌধুরী, রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী তৎকালীন শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ঢাকার জগন্নাথ কলেজ এর (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জমিদার কিশোরিলাল চৌধুরীর পিতা, যার নামেই নামকরণ করা হয় ‘জগন্নাথ কলেজ’।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অন্যতম প্রধান আকর্ষণের একটি ছিল সাতটি ঘাট বিশিষ্ট একটি পুকুর।

বালিয়াটি প্রাসাদ বাংলাদেশের ১৯ শতকে নির্মিত রেনেসা যুগে নির্মিত স্থাপত্যকৌশলের সাহায্যে নির্মিত অন্যতম নিদর্শন। এই বিশাল প্রাসাদটি ২০ একরের চেয়ে বেশি স্থান জুড়ে অবস্থিত। আসলে এই প্রাসাদটি একই রকম দেখতে কিন্তু পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্লকের সমন্বয়ে গঠিত যার সর্ব পূর্বদিকের একটি ব্লক ব্যতিত বাকি চারটি ব্লক এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে চারটি ব্লক আছে যার মধ্যে মাঝের দুইটি ব্লক, যার একটি দ্বীতল বিশিষ্ট এবং আরেকটি টানা বারান্দা বিশিষ্ট যা তিনতল বিশিষ্ট।

এই প্রাসাদের চারটি ব্লকের পিছন অংশে চারটি আলাদা আভ্যন্তরিণ ভবন বা অন্দর্মহল আছে। উত্তরদিকে কিছুদূরে অবস্থিত পরিত্যক্ত ভবনটি হল বহির্মহল যা কাঠের কারুকার্য সম্পন্ন। এই ভবনে প্রাসাদের চাকর বাকর, গাড়ি রাখার গ্যারেজ, ঘোড়াশাল ছিল বলে ধারনা করা হয়। এই বিশাল প্রাসাদটির চারপাশ সুউচ্চ দেয়াল দ্বারা পরিবেষ্টিত। এই প্রাসাদের তিনটি প্রবেশপথ আছে। যার প্রত্যেকটিতে অর্ধবৃত্তাকার খিলান আকৃতির সিংহ খোদাই করা তৌরণ বিদ্যমান।

প্রাসাদ ও জাদুঘর
ছবি : শাহরিয়ার আকাশ

জমিদার বাড়িটিতে অনেকগুলো স্থাপনা রয়েছে যেগুলো পাচঁটি পৃথক ভাগে বিভক্ত। সর্বমোট আটটি সুবিশাল দ্বিতল ও ত্রিতল স্থাপনা রয়েছে। স্থাপনাগুলো ঘিরে রয়েছে প্রাচীর। প্রাসাদটির দক্ষিণ দিকে প্রবেশদ্বার হিসেবে চারটি সিংহদুয়ার রয়েছে এবং উত্তরে বিশাল আকৃতির পুকুর রয়েছে। দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ সম্মুখভাগের ইমারতগুলোতে কোরিনথিয় সত্মম্ভের সারি রয়েছে। এছাড়াও স্থাপনাগুলোতে দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য লক্ষ করা যায়।

যাতায়াত: ঢাকার নবীনগর থেকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াগামী বাসের ৪০ টাকা দরে জন প্রতি টিকিট কিনে বাসে চড়ে সাটুরিয়া বাজারে নামুন, সেখানে থেকে জন প্রতি ১০ টাকা করে অটোতে জমিদার বাড়ির সামনে নিয়ে পৌঁছে দেবে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।