প্রচ্ছদ » উড়াল » হ্যারিপটারের জাদুর দুনিয়া আর স্বপ্নের সেই হগওয়ার্টস স্কুল!

হ্যারিপটারের জাদুর দুনিয়া আর স্বপ্নের সেই হগওয়ার্টস স্কুল!

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০১৮৭:৪৮:৪০ অপরাহ্ন

খাতুনে জান্নাত | বাংলা ইনিশিয়েটর

স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিনটি এখনও মনে আছে। আনন্দের কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না! নতুন স্কুলের জন্য বানানো পোশাকটা অন্তত একশ’বার বের করে পড়ে ফেলেছিলাম!

আমি জানি প্রথমদিন স্কুলে যাওয়া নিয়ে এই উন্মাদনা আপনার অজানা নয়। আপনি নিজেও হয়তো একই আচরণ করেছিলেন সে সময়! কিন্তু আমার স্কুলে যাওয়া নিয়ে এত আগ্রহ এমনি এমনি ছিল না, এর অন্য একটা কারণ ছিল। স্কুল নিয়ে আমার নিজস্ব একটা ধারণা ছিল, আমার ধারণা ছিল সে এক ভিন্ন জগৎ! স্কুল মানে অন্য এক দুনিয়া, যেখানে সত্যিকার জাদু না হলেও জাদুময় কোনো কিছু নিশ্চয়ই হয়! আর আমার সে ধারণা তৈরি করেছিলো “হ্যারি পটার” সিরিজের মুভিগুলো।

হ্যারি পটার! আমাদের শৈশব-কৈশোরের ভিন্ন এক স্বপ্নের নাম! কতবার যে রুলারকে জাদুর কাঠি বানানোর আর ঝাড়ুতে বসে উড়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ঝাটার বাড়ি খেয়েছি, তার কোনো হিসাব নেই! তবুও, হ্যারি পটার যেন অব্যক্ত এক ভালোবাসার নাম!

হ্যারি পটার সিরিজের হ্যারির প্রতি যেমন ভালোবাসা ছিল, তার চেয়ে কোনো অংশে কম তার বন্ধু রন উইজলি কিংবা হারমায়নি গ্রেঞ্জারের প্রতি ছিল না! বরং হারমায়নি অর্থাৎ এমা ওয়াটসনের প্রতি যেন আরও বেশি ভালোবাসা কিংবা দূর্বলতা কাজ করতো আমার ভেতর! হারমায়নির মতো কথা বলা, তার মতো করে অঙ্গভঙ্গি করা কিংবা হাঁটাচলা – কোনো চেষ্টাই বাদ দেই নি এ জীবনে! নিজেকে হারমায়নি ভাবার কিংবা বানানোর লুকানো চেষ্টা বোধহয় এখনও রয়ে গেছে আমার ভেতর! শুধু কি এমা? কিদ্ভুত-কিমাকার দেখা যাওয়া সত্ত্বেও হ্যারির মতো গোল গোল চশমা বানিয়ে চোখে লাগিয়ে উল্টেপাল্টে আয়নার সামনে কতবার দেখেছি নিজেকে-তার হিসাব কে রাখে?

মুভি দেখার অনেকদিন পর যখন অনুবাদগুলো পড়লাম, তখন মনে হলো মুভি কী! কেন গল্পগুলো আগে পড়লাম না! আগে পড়লে আমি নিজের মতো করে কল্পনা করতে পারতাম! আবার আরেকটু বড় হয়ে যখন ইংরেজিতে পুরো সিরিজ পড়েছি, তখন যেন আরও বেশি প্রেমে পড়ে গিয়েছি পুরো সিরিজের, প্রতিটি কাহিনীর! একটা মানুষের কল্পনাশক্তি কতটা উচ্চ পর্যায়ের হলে এরকম কিছু লেখা যায় আমি ভাবতে পারি না।

হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম বই “Harry Potter And The Philosopher’s Stone” বেরোয় ১৯৯৭ সালে। ২০০৭ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পটার সিরিজের সাতটি বইয়ের প্রথম ছয়টি বই সারা পৃথিবীতে ৩২৫ মিলিয়ন কপিরও বেশি বিক্রি হয়েছে এবং ৬৪টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এই সিরিজের সপ্তম ও সর্বশেষ বই “Harry Potter And The Deathly Hallows” প্রকাশিত হয়েছে ২০০৭ সালের ২১ জুলাই। প্রকাশকেরা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বইটির রেকর্ড-ভঙ্গকারী ১২ মিলিয়ন কপি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন।

যেই বই সারা পৃথিবীর শিশু-কিশোরের মনে এতটা আলোড়ন ফেলেছে, সে বই কিন্তু প্রথম দফায় প্রকাশক পছন্দ করেন নি! বেশ কয়েকবার রাউলিংকে হতাশ হতে হয়েছে এই পান্ডুলিপি নিয়ে! এমনকি নিজের নাম পর্যন্ত তাকে পাল্টাতে হয়েছে বইটা প্রকাশ করার জন্য, কারণ তাকে বলা হয় নারী হওয়ার কারণে সে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছেন না! যে কারণে জোয়ান ক্যাথলিন রাউলিং থেকে পুরো বিশ্বে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন জে কে রাউলিং হিসেবে!

২০০১ সালে হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম মুভি বের হলে এই সিরিজের মূল চরিত্রে অভিনয় করা তিন শিশু – ড্যানিয়েল রেডক্লিফ, এমা ওয়াটসন এবং রুপার্ট গ্রিন্ট রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন! তিনজনকে একসঙ্গে দেখতে দেখতে বড় হওয়া আমরা এখনও হা করে অপেক্ষা করছি কবে তারা আবার একসঙ্গে দেখা দেন পর্দায়! তবে চমৎকার এই তিন বন্ধুর কথা থেকে একসঙ্গে আবার পর্দায় আসার তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না! যে দিন গেছে, তা কি তবে পুরোপুরিই গেছে?

একবার এক বন্ধু বলেছিলো হ্যারি পটার তার কাছে ফালতু লাগে। সবসময় সবার মতামতকে গুরুত্ব দেয়া আমি সেই বন্ধুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম! কারণ হ্যারি পটারের সাথে আমার শৈশব জড়িয়ে আছে। আমি আমার হারানো শৈশব হ্যারি পটারের পুরনো মুভিগুলোতে খুঁজে পাই, বইগুলোর ভাঁজে ভাঁজে খুঁজে পাই। চাইলেই সেই শৈশবের গন্ধ শুঁকতে পারি, বুকে জড়িয়ে ধরতে পারি! এটা একটা আবেগ! শুধু আমার একার না, শত পটারহেডের আবেগ!

স্কুলের শত শত প্যারা, ঝামেলা, বকা, ত্যাক্ততা, বিরক্ততার শেষে স্কুলকে যখন অসহ্য লাগতে শুরু করে, হগওয়ার্টসের কথা মনে পড়লে তখনই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে ওঠে। সে এক স্বপ্নের স্কুল! আমরা সকলে সে স্কুলের ছাত্র! সকল পটারহেড!

যদি শৈশবকে সেলফবন্দী কিংবা মনের খাঁচায় এভাবে বন্দী করে রাখা যায়, সময় – অসময়ে অনুভব করা যায়, তবে ক্ষতি কী?

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।