প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক » নাসার সাবেক বিজ্ঞানী এখন টেনেসির স্কুল পরিষ্কার করেন!

নাসার সাবেক বিজ্ঞানী এখন টেনেসির স্কুল পরিষ্কার করেন!

প্রকাশ : ৬ মে ২০১৮৪:৫৭:০৮ অপরাহ্ন

জোবায়দা সুলতানা সিজেল | বাংলা ইনিশিয়েটর


অবিশ্বাস হলেও এটা সত্য যে নাসায় কাজ করা একজন বিজ্ঞানি এখন আমেরিকার টেনেসির একটি স্কুল এ ক্লিনার হিসেবে কাজ করছেন। তবে এই কাজে তার কোনো লজ্জা নেই। বরং তিনি এই কাজটাকে অনেক ভালোবাসেন। সেখানের ছাত্রছাত্রীদের সাথে তার তৈরি হয়েছে খুব ভালো সম্পর্ক। যার কারনে নাসায় যদি তার আবার কাজ করার সুযোগ আসে তাহলেও সে এই কাজটি ছেড়ে চলে যেতে চাননা। তিনি বলেন এখানকার ছাত্রছাত্রীদের মাঝে যে ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন তা কোথাও কখনো পাননি।”কাওকে দেখা মাত্রই তার বিষয়ে, তার অবস্থান সম্পর্ক খারাপ কোনো মন্তব্য করা ঠিক না কারন তুমি তার সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নও” -কথাটি কি পরিমান সত্য তা বুঝা যায় ৭৭ বছর বয়সী নাসার এই বিজ্ঞানিকে দেখে।

টেনেসির নর্থ সাইডে অবস্থিত কোল্টারগ্রো ইন্টেরমিডিয়েট স্কুল এ তিনি এখন কাজ করছেন এই বিজ্ঞানি। যাকে দেখে সেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা হতবম্ভ হয়ে বলেছিলো সে এইখানে কি করছে। হ্যাঁ, সেই বিজ্ঞানী যার নাম মৌরীক ফোরেস্টর। এক সময় মানুষকে চাঁদে যেতে যারা সাহায্য করেছেন তিনি তাদেরি একজন। এবার এপোলো কর্মসূচিতেও কাজ করেছেন এই বিজ্ঞানি। প্রতিবেদকের কাছে তিনি জানান যে “তিনি এখনো অনেক বিস্মিত হয় সেই কর্মসুচি নিয়ে।কারন সেই কাজগুলো ছিলো অনেক জটিল ও অনেক কঠিন। তিনি এও জানান যে তিনি তার জীবনে যত পদক ও সনদ পেয়েছেন তা একসাথে রাখলে ঘরের একটি কোন ভরে যাবে।

নাসার এই বিজ্ঞানি ২০১৪ সালে স্ট্রোক বা এইরূপ কোন একটা রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু এর ব্যাপারে ডাক্তারররা স্পষ্ট কিছু ধরতে পারেন নি। কিন্তু এটা যে তার জ্ঞান চর্চার জন্য অনেক ব্যাঘাত ঘটাবে তা সে বুঝতে পেরেছিলো। পরিষ্কার করার কাজটাকে তিনি প্রথমে ব্যায়াম হিসেবে নেন। কিন্তু আস্তে আস্তে তিনি সেই স্কুল এর প্রত্যেক জিনিসের সাথে তার একটা গভীর সম্পর্ক তৈরী হয়ে যায়। সেই স্কুলের প্রতিটা ছাত্র ছাত্রী তাকে অনেক সম্মান করে,তার অনেক যত্ন নেয়।তারা তাকে অনেক ভালোবাসে। আর একি অনুভুতি মৌরীরও। সে জানায় তারা তাকে তাদের ভালোবাসার কথাও বলে। এটাই নাকি তার সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন।

তাই তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো নাসায় কেউ তাকে কখনো ভালবাসার কথা বলেছিলেন কিনা? সে হাসতে হাসতে জবাব দিয়েছিল “তার সেই কথা মনে নেই”। আর এটা বলেই সে কান্না করে দেয়। আর এটাই এই গল্পের সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার বিষয়। সে যদি কখনো জাদুবলে আগের কাজটি ফিরে পেতেন তবুও সে এই কাজটি ফেলে চলে যেতে পারতেন না। পৃথিবীতে এখনো অনেক মানুষ আছে যারা সফলতার মূলমন্ত্র খুঁজে পান না। কিন্তু মৌরি এটা প্রমান করেছে যে সফলতার মূলমন্ত্র খুঁজে পাওয়া কোনো রকেট বিজ্ঞান নয়।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।