প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » ঘরের মাঠে পাঞ্জাব জয়ের নায়ক লোকেশ রাহুল!

ঘরের মাঠে পাঞ্জাব জয়ের নায়ক লোকেশ রাহুল!

প্রকাশ : ৭ মে ২০১৮১:২২:৪৮ পূর্বাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

একদিকে টেবিলের তলানিতে থাকা রাজস্থান, অন্যদিক টুর্নামেন্টে ভালো শুরু করেও শেষ কয়েক ম্যাচে খারাপ করে প্লে অফ খেলা নিয়ে সংশয়ে থাকা পাঞ্জাব। দুই দলের জন্যই ম্যাচটি মহা গুরুত্বপূর্ন। এক দলের বেঁচে থাকার অন্য দলের নিরাপত্তার। ঘরের মাঠে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাঞ্জাবের রবিচন্দন আশ্বিন।

সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমানে নিজেই প্রথম ওভার করেন। সফলও হন, তৃতীয় বলেই এন্ড্রু তায়ের তালুবন্ধি করে ফেরান রাজস্থানের উদ্বোধনি ব্যাটসম্যান ডার্সি শটকে। ২ রান করা ডার্সি স্লোগ সুইপ খেলতে গিয়ে টপ এজের শিকার হন। রাজস্থানের দুর্ভাগ্যের গল্প এখানেই শেষ নয়, চতুর্থ ওভারের আক্সার পাটেলের চতুর্থ বলে কাট করতে গিয়ে শর্ট থার্ড ম্যানে থাকা ক্রিস গেইলের হাতে ধরা পরেন ৫ রান করা আজিঙ্কা রাহানে। ষষ্ঠ ওভারে আশ্বিনের বলে জস বাটলারকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যায় বাটলার। সে ওভার থেকে ১২ রান তোলে বাটলার-স্যামসন। দুইজন সতর্ক ব্যাটিং করলেও বিপত্তি ঘটে ১১তম ওভারে। অন্ড্রু তায়ের বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ারে করুন নায়ারের কাছে ধরা পরেন ২৩ বলে ২৮ করা সাঞ্জু স্যামসন।

১ ওভার পরে পরের আক্রমনটা করেন মুজিব উর রহমান। তার পঞ্চম বলে এগিয়ে এসে লং অফ দিয়ে উড়িয়ে মারলে আগারওয়াল ও মানোজ তিওয়ারির ফিল্ডিং সমন্বয়ে ফেরেন বেন স্টোকস। ১৪তম ওভারে এসে জোড়া আক্রমন করে মুজিব উর রহমান। প্রথম বলটি ৩৯ বলে ৫১ রান করা বাটলারের ব্যাট ছুয়ে উইকেট রক্ষক রাহুলের হাতে। দ্বিতীয় বলটি গুগলি ছিল। যারে ফাঁদে পরে বোল্ড জোফরা আর্চার। পরের ওভারেই গৌতমকে ফেরান আঙ্কিত রাজপুত। বাউন্সার বলটি মিড উইকেটে থাকা স্টয়নিসের হাতে তুলে দিয়েছেন গৌতম। রাহুল ত্রিপাঠিও ব্যার্থ ছিলেন ১১ রান করে অন্ড্রু তায়ের স্লোয়ার বলে মিড অফে আশ্বিনকে সহজ ক্যাচ দেন তিনি।

ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন ১৬ বলে ২৪ করা শ্রেয়াস গোপাল। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরেও ৯ উইকেটে ১৫২ রানের সংগ্রহ পায় রাজস্থান রয়েলস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব বেশি ভালো হয়নি পাঞ্জাবের। প্রথম ওভারে ১, দ্বিতীয় ওভারে ৫ রানই তুলতে পারে গেইল-রাহুল। তৃতীয় ওভারে রাহুল আক্রমনাত্মক হন, ৩টি চারে ১৩ রান তুলেন। তার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে পরের ওভারে আর্চারের বলে বড় শট খেলার চেস্টায় কট বিহাইন্ড হন ৮ রান করা গেইল।

পরের ওভারেই মায়াঙ্ক আগারওয়ালের রূপে আরেকটি ধাক্কা খায় পাঞ্জাব। স্টোকসের শট বল পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ারে ত্রিপাঠিকে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর কারুন নাইয়ার ও রাহুল ঝুকি মুক্ত ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ১১তম ওভারে বিপত্তি ঘটে আনুরিত সিংয়ের শট স্লোয়ীর বল পুল করতে গিয়ে মিস করে নাইয়ার। ২৩ বলে ৩১ করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।১৩তম ওভারে গৌতমের বলে ডার্সি শটকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আক্সার।

এতসময় ধরে এক প্রান্ত আগলে রাখা রাহুলের একটা সঙ্গির প্রয়োজন ছিল। যার সাথে মিলি দলকে জয়ে বন্দরে নিয়ে যাবে। এবার সেই দায়িত্ব পালন করলো মার্কাস স্টয়নিস। রাহুল খেলেছেন ৫৪ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়। সাথে স্টয়নিসের ১৬ বলে ২৬ রানের ক্যামিও পাঞ্জাবকে এনে দেয় ৬ উইকেটের দুর্দান্ত জয়। অসাধারন বোলিং পারফর্মেন্স ম্যাচ সেরা মুজিব উর রহমান।

আগামিকাল বাংলাদেশ সময় ৮টা ৩০ মিনিটে হায়দ্রাবাদের রাজিব গান্ধি আন্তর্জাতিত স্টেডিয়ামে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গলুরুর বিপক্ষে মাঠে নামবে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।