প্রচ্ছদ » খেলাধুলা » আইপিএলের দলগুলোর এবারের আসরের গল্প ও পয়েন্ট টেবিল!

আইপিএলের দলগুলোর এবারের আসরের গল্প ও পয়েন্ট টেবিল!

প্রকাশ : ১০ মে ২০১৮১:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন

সাব্বির রায়হান অপি | বাংলা ইনিশিয়েটর

টুর্নামেন্টের মাঝে এসে যেন সব ওলট-পালট হয়ে গেলো। টুর্নামেন্টের প্রথম দিকে দলগুলো যে অবস্থানে ছিল তা বদলে পয়েন্ট টেবিল যেন এখন ভিন্ন কথাই বলছে। এক সময়ে তলানিতে থাকা মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এখন শীর্ষ চারে। অবশ্য টুর্নামেন্টটা তো আইপিএল, যে কোন সময়ে বদলে যেতে পারে সবকিছু। একটা দল অবশ্য নিজের জায়গা ধরে রেখে, দলটি সাকিবের সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ১ম, ২য় স্থানের উঠা-নামা করছিলো দলটি। তবে গেল কয়েকদিন ধরেই শীর্ষ স্থানে স্থায়ী ঠিকানা করে নিয়েছে হায়দ্রাবাদ।

বরাবরের মত নামিদামি খেলোয়ার নিয়ে দল সাঁজানো ব্যাঙ্গলুরু নিচের দিকেই রয়ে গেছে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার সম্ভাবনাটা এবারে হারাতেই বসেছে দলটি। অন্যদিকে রাজস্থান এবারের সব দামি খেলোয়ার দিয়ে সুবিধা করতে পারছে না। স্টোকস-উনাদকাটরা নিলামে বোমা ফাঁটালেও তার পারফর্মেন্সে দেখা যায়নি। চলুন দেখে নেই ৪১টি ম্যাচ শেষে পয়েন্ট টেবিলে কে কোথায় আছে :

১. সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ১৬ পয়েন্ট

১০টি ম্যাচ খেলে ৮টি জয় এবং ২টি ম্যাচে হেরেছে সাকিবের দল। বল টেম্পারিংয়ে অপরাধে হায়দ্রাবাদের আগের আসরের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার টুর্নামেন্ট শুরুর কিছু দিন আগেই বাদ পরেছেন। মূলত, তাকে কেন্দ্র করেই দল গঠন করা হয়েছিল। তাই সে না থাকায় চিন্তিত ছিল ভক্তসহ টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সেই জায়গাটা ভালোভাবেই পূরন করেছেন কেন উইলিয়ামসন। অধিনায়কত্বের সাথে দলের মূল ব্যাটিং ভরসা এখন তিনিই। সঙ্গ দিচ্ছেন শিখর ধাওয়ান। সাথে রাশিদ-সাকিবের স্পিন জুটি। অন্যদিকে ভুবনেশ্বর কুমার ও সিদ্ধার্থ কৌলের মত পেসার নিয়ে দারুন একটা দল তৈরী হয়েছে হায়দ্রাবাদের। শিরোপা জয় সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা এবার তাদেরই।

২. চেন্নাই সুপার কিংস – ১৪ পয়েন্ট

ম্যাচ ফিক্সিং ইস্যুতে গত দুই বছর নিষিদ্ধ ছিল দলটি। এবার ফিরে কেমন করবে চেন্নাই, প্রশ্নটা সবারই ছিল। মাহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে যেন সেই পুরাতন চেন্নাই আবার জ্বলে উঠেছে। জাদেজা, রাইনা আর ব্রাভোর মত পুরাতন সৈন্যই চেন্নাইয়ের শক্তি। সাথে ব্যাটিংয়ে অসাধারন পারফর্মেন্স করছেন রায়ডু। আর শেন ওয়াটসনের অলরাউন্ডার নৈপূন্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। শারদুল ঠাকুরের মত তরুন ক্রিকেটারও দারুন ছন্দে। তাই চেন্নাইয়ের ‘কাম ব্যাক’-টাকে অসাধারন বলতেই হবে। ১০ ম্যাচে ৭ জয়। যে ৩টিতে হেরেছে তা যেন দুর্ঘটনা। তাই শিরোপা জয় চেন্নাইয়ের সম্ভাবনাও নেহাত কম নয়।

৩. কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব – ১২ 

দলে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট দিয়ে ভরা থাকলেও শিরোপা হাতে নেয়ার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে যায় প্রীতি জিনতার দলের। প্রতিবার একজন অধিনায়কের অভাব হলেও এবার তা পূরন করেছেন রবিচন্দন আশ্বিন। লোকেশ রাহুলের সাথে ঝড় তুলছেন শেষ সময়ে দল পাওয়া ক্রিস গেইল। নিলামের শেষ সময়ে বাকি থাকা অর্থ দিয়ে গেইলকে দলে নিয়েছিলেন প্রীতি জিনতা। উদ্দেশ্যটা গেইলের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানো। কিন্তু সেই গেইলই দলের প্রান এখন। অন্যদিকে আশ্বিনের সাথে আক্সার পাটেলের দারুন সমন্বয়। আর আঙ্কিত রাজপুতের মত তরুন প্রতিভা দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এন্ড্রু তায়ের বোলিং ও স্টোনিয়াসের অলরাউন্ডার পারফর্মেন্সও দারুন কাজে দিচ্ছে। ১০ ম্যাচে ৬টি জয় ও ৪টি পরাজয়। তাই প্লে-অফে টপকে শিরোপা জিতে নিলে, খুব অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

৪. মুম্বাই ইন্ডিয়ানস – ১০ পয়েন্ট

আইপিএল ইতিহাসে সবচয়ে সফল দল, তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু প্রথম থেকেই ভাগ্যা তাদের বিপক্ষে কথা বলেছে বারবার। শেষ ওভারের নাটকীয়তায় হেরে যাওয়া ম্যাচের সংখ্যাও কম নয়। যখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে সবগুলো ম্যাচ জেতা ভিশন জড়ুরি, তখনই জ্বলে ওঠে মুম্বাই। শুরুতে মুস্তাফিজ গুরুত্বপূর্ন সদস্য থাকলেও, ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে তাকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। ম্যাকলেনাগান ও জাসপ্রিত বুমরার দারুন জুটি দলের ভরসা। স্পিন বিভাগ সামলাচ্ছেন তরুন প্রতিভাবান মায়াঙ্ক মারকান্দে। সাথে দুই ভাই হার্দিক ও ক্রুনাল পান্ডিয়ার অলরাউন্ডার নৈপূন্যে ঘুরে দাড়িয়েছে মুম্বাই। রহিত ভালো ফর্মে না থাকলেও সুরিয়াকুমার যাদব ও ইশান কিশান ব্যাটিং ভরসা। ১১ ম্যাচে ৫ জয় ও ৬ পরাজয়। তাই প্লে-অফ খেলাটা একটু কঠিন মুম্বাইয়ের জন্য। আর আইপিএলে তা অসম্ভব কিছুই নয়। তাই শিরোপা জয়ের আশা রাখাটাও স্বাভাবিক।

৫. কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১০ পয়েন্ট

টুর্নামেন্টের শুরুতে সবচেয়ে সমালোচনা মুখে পরেছিল দলটি। একজন অধিনায়কের অভাব মনে হলেও তা মোটামুটি ভালোই পালন করছেন দিনেশ কার্তিক। আইপিএলের অন্যতম সফল অধিনায়ক গৌতম গাম্ভির, মানিশ পান্ডে, সুরিয়াকুমার যাদব, ইউসুভ পাঠানদের ছাড়া কেমন খেলবে কলকাতা? প্রশ্নটা সবার মুখেই ছিল। তার ওপর সবচেয়ে দামি খেলোয়ার মিচেল স্টার্কের না থাকা। কিন্তু এসবকিছুর পরেও টেবিলের মাঝামাঝিতেই কলকাতা। সুনিল নারাইন ও এন্ড্রে রাসেল ব্যাট ও বল হাতে দারুন পারফর্ম করছেন। সাথে নিতিশ রানা ও সুভমান গিলের মত তরুন প্রতিভা। বল হাতে কুলদিপ যাদব ও পিউস চাওলার সমন্বয়। পেসার মিচেল জনসনের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাচ্ছে দলটি। ১১ ম্যাচের ৫টিতে জয় আর পরাজয় ৬টিতে। তাই প্লে-অফ নিশ্চিতের লড়াইটা ভালোভাবেই করবে কলকাতা।

৬. রাজস্থান রয়েলস – ৮ পয়েন্ট

চেন্নাইয়ের মত ম্যাচ ফিক্সিং অপরাধে রাজস্থানও ফিরেছে দুই বছর পর। আবার সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মত রাজস্থানের নিয়মিত অধিনায়ক নিষিদ্ধ হয়েছেন বল টেম্পারিংয়ের অপরাধে। এত বাধার মাঝে ঘুরে দাড়াতে অনেকটাই ব্যার্থ রাজস্থান। ১০ ম্যাচের ৪টিতে জয় আর পরাজয় ৬টিতেই। নিলামে সবচেয়ে দামি বিদেশি খেলোয়ার স্টোকস আর সবচেয়ে বেশি দাম ওঠা ভারতীয় খেলোয়ার উনাদকাট দুইজনই রাজস্থানের হয়ে খেললেও, পারফর্মেন্সটা সেরকম করতে পারেননি। আজিঙ্কা রাহানে দলকে নেতৃত্ব দিলেও ব্যাটিংয়ে ব্যার্থ ছিলেন। সাঞ্জু স্যামসন আর জস বাটলার মাঝে মাঝে জ্বলে উঠলেও তা যথেষ্ট ছিল না। জোফরা আর্চারের দারুন পারফর্মেন্স তাই কাজেই লাগছে না। ডার্সি শর্টের মত টি-টোয়েন্টির বড় নামও নিয়মিত পারফর্ম করতে ব্যার্থ। তাই টুর্নামেন্টে টিকে থাকাটা অনেক বেশি কঠিন দলটির জন্য।

৭. রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গলুরু – ৬ পয়েন্ট

প্রতিটি আসরেই নামিদামি সব খেলোয়ার নিয়ে মাঠে নেমেও ব্যার্থ হয় দলটি। এবারও ঘটনাটা বদলাতে পারলেন না কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সরা। বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, কুইন্টন ডি কক, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, কলিন ডি গ্রান্ডহোম, করি এন্ডারসন, ক্রিস ওকস্, টিন সাউদির মত বড় বড় নাম থাকতেও দল তলানিতে। স্বাভাবিকভাবেই কথাটা অস্বাভাবিক মনে হলেও এমনটাই হয়ে আসছে দলটির সাথে। দলের কেউই একসাথে জ্বলে উঠতে পারছে না। উমেশ যাদব, যুজবেন্দ্র চাহাল, টিম সাউদি থাকতেও, বড় রান রক্ষায় ব্যার্থ বোলিং ইউনিট। আবার ছোট লক্ষ নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটিং ধসের গল্পও কম নয়। ১০ ম্যাচে মাত্র ৩ জয় আর ৭টি পরাজয় ব্যাঙ্গলুরুর।

৮. দিল্লি ডেয়ারডেভিলস – ৬ পয়েন্ট

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বড় স্বপ্ন দেখেছিল দলটির সাবের অধিনায়ক গৌতম গাম্ভির। নিজের শহরের দলটিকে নিয়ে দেখা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেননি কলকাতার সাবেক অধিনায়ক। পরাজয়ের চাপে নিজেরে সরিয়ে নিয়ে তরুন শ্রেয়াস আইয়ারের হাতে তুলে দেন অধিনায়কের ব্যাটন। নতুন অধিনায়কে নিয়ে ঘুরে দাড়িয়েছিল দিল্লি। কিন্তু ততক্ষনে অনের দেরি হয় গেছে। এখন যে সবগুলো ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই। সেটাই পারেনি দিল্লি। ১টি জয় তো পরের ম্যাচে হার, আবার পরের ম্যাচে জয়। এমন অবস্থায় টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় ছিটকেই গেছে দলটি। ১০ ম্যাচে ৩টি জয় ও ৭টি পরাজয় দলটির। অন্যদিকে দলে পৃথিবী, রিসাব পান্ত ও শ্রেয়াসরা পারফর্ম করলেও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কিংবা কলিন মুনরোর মতো বড় নামগুলো ব্যার্থ ছিল।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।