প্রচ্ছদ » উড়াল » সংগঠন » শিক্ষার্থীদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ছিল চেঞ্জমেকার ডে কর্মশালা

শিক্ষার্থীদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ছিল চেঞ্জমেকার ডে কর্মশালা

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৮৪:১১:২৯ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীদের সাথে আশোকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন আশোকা কনসাল্টেড সৌরভ রায়।

আমাদের চারপাশে এমন অনেক সমস্যা আমরা দেখি, যারা জন্য ভুক্তভোগী হই আমরা কিংবা আমাদেরই আশেপাশের কেউ। চারদিকে শুধু সমস্যা, সমস্যা আর সমস্যা। সেসব সমস্যা নিয়ে আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করছি,  সরকারের ওপর দোষ চাপাচ্ছি,  এর-ওর নিন্দা করছি; কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি যে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে আমিও ভূমিকা রাখতে পারি?

হ্যাঁ, চাইলেই যে এ দেশের কিশোর-তরুণেরাও সমস্যা সমাধান করতে পার এবং কীভাবে করতে পারে, সেই তথ্যগুলো জানিয়ে দিতেই ১১ মে, শুক্রবার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আয়োজিত হয়ে গেল একটি কর্মশালা। কর্মশালাটি আয়োজন করেছে যৌথভাবে ‘আশোকা’ এবং  ‘বাংলা ইনিশিয়েটর’।

কর্মশালাটিতে অংশ নেয় ২৩ টি স্কুলের প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী। মূলত ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ  শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে কর্মশালাটিতে। পুরো কর্মশালা পরিচালনা করেন  বাংলা ইনিশিয়েটরের সম্পাদক সবুজ শাহরিয়ার খান এবং টিচ ফর বাংলাদেশ- এর ফেলো, আশোকা ইন্টার্ন আমির হামজা।

পুরো ৩ ঘন্টা পরিবেশটাকে প্রাণবন্ত করে রাখেন তারা দুইজন । তাদের সকল কথাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনে। এছাড়াও তাদের কাজে সাহায্য করেন আশোকা বাংলাদেশের ইন্টার্ন ও বাংলা ইনিশিয়েটর এর সদস্যরা।

আইস ব্রেকিং সেশন পরিচালনা করছেন টীচ ফর বাংলাদেশ ফেলো আমির হামজা।

কর্মশালা শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘আশোকা’-এর পরিচয় দেন আশোকা বাংলাদেশের কনসাল্টেড সৌরভ রায়। তিনি বলেন, “তোমরা প্রত্যেকে একেকজন চেইঞ্জমেকার হতে পারো যদি তোমরা চাও। এ কারণে তোমাদের প্রথমে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে, তারপর সমাধান বের করতে হবে।” এরপর তিনি সকলকে এ বিষয়ে একটি ভিডিও দেখান।

কর্মশালায় শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়। এরপর প্রতিটি দলকে একটি করে সমস্যা দেয়া হয়, যা তারা সীমিত উপকরণে সমাধান করে। এছাড়াও তারা নিজেরা কিছু ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সমস্যার কথা লিখে জমা দেয়। এভাবেই হাতে-কলমে তাদেরকে বিষয়টিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান এবং ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া প্র্যাক্টিশনার সালীম সামাদ।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, “পলিসি মেকিংয়ে তুমিও বিভিন্নভাবে অংশ নিতে পারো। হয় চিঠি লিখে, নয়তো মা-বাবার মাধ্যেমে সংঘবদ্ধ হয়ে – যেকোন ভাবে চাইলেই পারো। শুধু দরকার তোমার ইচ্ছাশক্তি।”

ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া প্র্যাক্টিশনার সালীম সামাদ বলেন, “আমি কোনো কিছুর বিরোধী না। সোশ্যাল মিডিয়ার ভীষণভাবে পক্ষপাতী আমি। এটা আমাদেরকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে।”

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসেরকে প্রশ্ন করছে ভিকারুন্নিসা স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী।

শেরে বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র যুবায়ের তালুকদার কর্মশালা সম্পর্কে বলে, “কর্মশালাটি যথেষ্ট সাজানো-গোছানো ছিল। একসাথে অনেক সমবয়সী কিশোর-কিশোরী একত্রিত হওয়ায়, একে অন্যের সমস্যা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আর দলগত কাজের সু-স্পষ্ট একটা ধারণা পেয়েছি। ‘পলিসি মেকিং’ জিনিসটার সাথে পরিচিত হতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত ভাবে কর্মশালাটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে!”

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ শাওন জানায়, “কর্মশালায় গিয়ে যে শুধু নিজেই অনেক কিছু শিখেছি তা নয় আমার কলেজের আরো ১৫ জন বন্ধুকেও এখান থেকে শেখাতে পেরেছি। নতুন নতুন  চেঞ্জমেকারদের সাথে পরিচিত হয়েছি।। আত্তবিশ্বাস পেয়েছি কথা গুলো শুনে। এখন থেকে আমি নিজের সমস্যা নিয়ে ভাববো এবং নিজেই সমাধান করার চেষ্টা করবো। প্রতিটা কাজের কর্মপরিকল্পনা কিভাবে তৈরী করতে হয় তার একটা ভালো ধারণা পেয়েছি।”

শহীদ বীর উত্তম লেঃ আলোয়ার গার্লস কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দীপ্তি কর্মশালা নিয়ে তার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে বলে, “কর্মশালাটি যথেষ্ট ভাল ছিল। সত্যি কথা বলতে শুধু আমি না আমাদের কলেজের মেয়েরা ভেবেছিল সাধারণরত কর্মশালা যেমন গুরুগম্ভীর হয় তেমন ই হবে। কিন্তু সেখানকার অবস্থা পুরোপুরি ভিন্ন ছিল। সবাই অনেক মজা পেয়েছে। আমিও অনেক বেশি উপভোগ করেছি। একসাথে সমস্যা সমাধান করার বিষয় টা সবচেয়ে ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ বাংলা ইনিশিয়েটর ও আশোকা এমন একটি কর্মশালার জন্য।”

কর্মশালা শেষে প্রতিটি শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট এবং ব্যাজ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শুধু কি তাই? নিজের জানার সীমানাকে আরও একটু বাড়ার, আরও একটু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার আনন্দের হাসিটা কি ছিল না তাদের সঙ্গে?

ছবিঃ আরমান

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।