প্রচ্ছদ » লাইফ স্টাইল » বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা দেহকে নয় ভালোবাসুন মন এবং আত্মাকে

বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা দেহকে নয় ভালোবাসুন মন এবং আত্মাকে

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮৯:৫৪:০৭ অপরাহ্ন

তুষপি ইসলাম ঝুমা

আমি বেশ কিছু বিবাহিত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেছি যারা দাম্পত্য কলহে ভোগেন এখন তো আপনারা আপনাদের ভাষ্য মতে ভাল নেই, মন মালিন্য, ঝগড়া। তবে বিয়েটা কেনো করেছিলেন?  তাদের ভাষ্য মতে তারা বিয়েটা করেছিলেন কারন সমাজ, ধর্ম আর পরিবারে অনেক আগে থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। তাদের বাবা-মা, দাদা-নানা সবাই এভাবেই জীবন কাটিয়েছেন; তাই তারা ও সেটাই করেছেন !!!

এখন আসলে দুজন দুজনকে পছন্দ করে বিয়ে করুক কিংবা পারিবারিক ভাবেই বিয়ে করুক কম বেশি সব সংসারেই একটা অভিযোগের ঝুড়ি থাকে, দুজনের দুজনার প্রতি তিক্ততা থাকে। এর ফলে দেখা যায় একসাথে থেকেও তারা আসলে কেউই কারো কাছাকাছি না, বরং একটা যোজন-যোজন অদৃশ্য দূরত্বে তাদের অবস্থান।

দুটো থালা একসাথে হলে ঝন ঝন শব্দ হবেই এটা যেমন সত্যি, ঠিক তেমনি শব্দ টা বেসুরা না হয়ে খুব মধুর ও হতে পারে এটাও সত্যি। আমাদের সংসার জীবনের সমস্যা হচ্ছে আমরা বেসুরা শব্দ করি, সুরে তালে ফেলতে পারি না।

পৃথিবীতে অনেকগুলো কঠিন কাজের মধ্যে একটা কঠিন কাজ হচ্ছে কাউকে ভালোবাসা। কারণ একটা ভালোবাসার পূর্ণতা দুটো মানুষের উপরই নির্ভর করে। তাই এক্ষেত্রে একজন নিজ থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করলেও খুব সুন্দর করে সেই ভালোবাসাটাকে নষ্ট করার জন্য অপর জনের অনিচ্ছাই যথেষ্ট। এবং এটাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়ে আসছে। এখানে আসলে কারো পক্ষেই সম্ভব না অন্তত এই নিশ্চয়তা দেয়া যে দুপাশেরই ওজনটা সমান হবে। এজন্যই হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন- “আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান”।

আমাদের সম্পর্কগুলোতে সমস্যা হচ্ছে প্রাপ্তির পর আমরা খুব তাড়াতাড়ি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। প্রথম কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক, রঙিন, ভালোলাগা থাকলেও কিছু দিন পরই সেই ভালোবাসাটা পুরনো রঙচটা দালানে পরিনত হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় এই ভালোবাসায় বানানো দালানের কর্তা কিংবা গিন্নীর মধ্যে কেউ একজন তার পছন্দ অপছন্দ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান, নিজের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও দৈনন্দিন কর্ম ব্যস্ততার নামে অবহেলা করেই চলেন আর অপর জন কষ্ট পান। একটা পর্যায়ে সেটাই তিক্ততা, কলহ বা ঝগড়াতে পরিণত হয়।

একটা মানুষকে ভালোবেসে সারা জীবন এক ছাদের নিচে থাকা, একই হাত ধরে সারাটা জীবন কাটিয়ে দেয়া, তার প্রতি শ্রদ্ধা, ছোট ছোট যত্ন, বিশ্বাস রাখা, নিজের সব কিছু শেয়ার করা, অনেক কিছু আত্নত্যাগ করা আসলেই খুব কঠিন। এটা অনেক ধৈর্য্যের ব্যাপার।

আবার একই সাথে দুটো মানুষ মিলে একটা সুন্দর সম্পর্ককে শুধু সম্পর্ক না ভেবে একটা চারা গাছ ভেবে খুব সহজেই তাকে বড় করা যায়। একটা সম্পর্কে প্রথম দরকার হয় একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বাস থাকা, সততা এবং ছোট ছোট যত্ন। দুজনের দুজনার জন্যে সময় থাকা। এরই সম্মিলিত রূপ ভালোবাসা।

এই ছোট ছোট যত্নগুলো অনেকটা এক গ্লাস ভর্তি মার্বেল এ থাকা ফাঁকা স্থান গুলোকে বালি দিয়ে পূরণ করার মত। শ্রদ্ধা, বিশ্বাস যেমন অর্জন করতে হয়, তেমনি এই যত্নগুলো ও না বলে নেয়া যায় না। ভালোবাসার মানুষটার প্রতি আপনা আপনি চলে আসে। মনে রাখবেন A simple act of caring creates an endless ripple. (- Tushpi)

আর হ্যাঁ অবশ্যই আপনি যখন “আমি” থেকে “আমাদের” সিঁড়িটাতে যাবার জন্য সার্বিকভাবে তৈরি হবেন শুধু তখনি কোন সম্পর্কে যাবেন কেননা এখনো অসংখ্য পরিবার আছে যারা দুজন দুজনার প্রতি এতটাই তিক্ত হয়ে গিয়েছে যে ঝগড়াটা এখন তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সংসারটা তাদের অভ্যেসে পরিণত হয়েছে, কোনরকম গায়ের জোরে যন্ত্রের মত তারা সংসার করে চলেছেন। তাদের এই ভুলটার জন্য শুধু তারা না, তাদের সন্তানকেও মাশুল দিতে হচ্ছে; এর একটা প্রভাব তাদের সন্তানের জীবনেও পরছে।

পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর এবং নিষ্পাপ জিনিষগুলো আমাদের দৃশ্যত ক্ষমতার বাইরে। তার মধ্যে ভালোবাসা একটি। ভালোবাসা আসলে দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়।
-তাই একজন মানুষকে ভালবাসতে হলে সেই মানুষটির মন এবং আত্মাকে ভালোবাসুন, তার বাহ্যিক সৌন্দর্য কিংবা দেহকে নয়।
-ভালবাসুন সেই মানুষটিকে যে মানুষটির কাছে শুধুমাত্র আপনার “হাসি” দেখার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা একটা লম্বা দূরত্বের জার্নিকে কিছুই মনে হয় না।
-যে মানুষটি একই সাথে আপনার সবচাইতে ভাল বন্ধু এবং ভালোবাসার মানুষ।
-যে মানুষটি শুধু ফর্মাল আপনাকে না, আপনার পাগলামি, রাগ সবকিছুকেই ভালোবাসবে ও বুঝবে।
-এবং যে মানুষটি আসলে আপনার সাথে থেকে থেকে তিক্ত বা ক্লান্ত হবে না, যার সকল ক্লান্তি চলে যাবে আপনি পাশে থাকলে।

বাংলা ইনিশিয়েটরে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।